বগুড়ায় নানা অপরাধে জড়িত আ’লীগ নেতারা বহিষ্কার আতঙ্কে

বগুড়া অফিস

বগুড়ায় জমিদখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়, জুয়া, হাউজি, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশের পর অনেকের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সবাই এখন হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। 

সম্প্রতি বগুড়া শহর শ্রমিক লীগ আহ্বায়ক তুফান সরকার এসএসসি পাস এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও পরে ওই কিশোরী ও তার মাকে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তুফান সরকারকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া তুফানের বড় ভাই যুবলীগ নেতা মতিন সরকারের বিরুদ্ধে তুফানকে প্রশ্রয় দেয়াসহ নানা অপরাধের অভিযোগ ওঠায় তাকেও বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বগুড়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ও প্রশাসনের সহযোগিতায় জমিদখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়, জুয়া, হাউজি ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে দলের হাইকমান্ডসহ দলের সর্বস্তরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

এ পরিপ্রেক্ষিতে হাইকমান্ড থেকে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিনকে ঢাকায় তলব করা হয়। তিনি গত সোমবার রাতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাক্ষাৎ  করেন। সেখানে ওবায়দুল কাদের মমতাজ উদ্দিনকে দলের জন্য ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। 

সে রাতেই এ খবর ছড়িয়ে পড়ে দলের সর্বস্তরে। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে অপরাধে জড়িতরা সবাই বহিষ্কার আতঙ্কে রয়েছেন। এ তালিকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গদলের নেতারা রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.