ফেঞ্চুগঞ্জে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র  :  নয়া দিগন্ত
ফেঞ্চুগঞ্জে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র : নয়া দিগন্ত

প্রথম দেশীয় কোম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে

১৭ মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ; নির্মাণব্যয় এক হাজার ৮০ কোটি টাকা
হামিদ সরকার ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ঘুরে এসে

দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়; কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন, কোনো প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। তবে বিদেশী কোনো কোম্পানির কারিগরি সহায়তা ছাড়াই ইপিসি ঠিকাদার হিসেবে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর তীর ঘেঁষে মাত্র ১৭ মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর জানান, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রথম দেশীয় প্রকৌশলীরা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করেছেন। এই পাওয়ার প্ল্যান্টটি ফ্রেম জিই ৯ই গ্যাস টারবাইন দিয়ে পরিচালিত। আমরা ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে ১১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পেরেছি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রক্রিয়ার পর ইপিসি ঠিকাদার হিসেবে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের কাছে জায়গাটি হস্তান্তর করা হয় কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ১৬৩ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্টি নির্মাণের জন্য। আন্তর্জাতিক বিডিংয়ে তারা এই নির্মাণকাজটি পায়। প্ল্যান্টের নকশা তৈরি করেছে আবুধাবির একটি প্রতিষ্ঠান। রো প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি থেকে প্রতিদিন ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকৌশলীরা। গত ২২ জুলাই থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে ২৩০ কিলোওয়াট লাইন দিয়ে। এই লাইনে ১৪টি টাওয়ার রয়েছে। এখানে টারবাইন ফ্রান্স, ট্রান্সফরমার চীন ও কিছু কিছু মেশিন অন্য দেশ থেকেও আনা হয়েছে। বর্তমানে প্ল্যান্টের যে গ্যাস বুস্টার রয়েছে, তাতে তারা গ্যাস কোম্পানির কাছ থেকে ১৫০ পিএসআই গ্যাস পাচ্ছে। ৭০০ পিএসআই গ্যাস থাকার পরও ১৫০ পিএসআইয়ের বেশি গ্যাস কোম্পানিটি দিতে পারবে না বলে জানিয়েছে। অবশ্য বর্তমানে যে সিম্পল সাইকেল প্লø্যান্ট রয়েছে এটার তাপ ব্যবহার করে কোনো ধরনের জ্বালানি ছাড়াই আরো বাড়তি বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্ল্যান্টটিতে উৎপাদন ১৬৩ মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে এই প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্র নিমার্ণ করতে সমর্থ হলো দেশীয় কোনো কোম্পানি। তিনি জানান, সাড়ে চার কিলোমিটার ২৩০ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন নির্মাণ করে ফেঞ্চুগঞ্জ সাব-স্টেশনের সাথে যুক্ত করা হয়েছে এই প্ল্যান্টকে।
গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর আরো জানান, দেশে প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত গ্যাস ইন্স্যুলেটেড সুইচইয়ার্ড (জিআইএস) ও ইন্স্যুলেটেড ফেসবাসডাক্টের (আইপিবিডি) সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবহার ব্যবহার করা হয়েছে প্ল্যান্টিটিতে। সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে, কর্মীদের নিরাপত্তা ও আশপাশের পরিবেশের বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। কোনো রকম দুর্ঘটনা ছাড়া আমরা সুষ্ঠুভাবে এই প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। এই বছরের শেষ নাগাদ সস্পূর্ণ হবে কম্বাইন সাইকেলের নির্মাণকাজ। তিনি জানান, কুশিয়ারা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে ৯.২৭ একর জায়গাজুড়ে। ৮০ জন প্রকৌশলীসহ মোট ৯৫০ জন কর্মী কাজ করছেন। প্রকল্পের ইপিসি ব্যয় করেছে এক হাজার ৮০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, আমরা এই প্রকল্পের শুধু ইপিসি কোম্পানিই নই, মূল বিনিয়োগকারীও বটে। আমাদের সাথে পার্টনারও আছে। আগামী চার-পাঁচ বছর পর দেখতে পাবেন দু’চারটি স্থানীয় কোম্পানি আছে, যারা এ ধরনের প্ল্যান্ট বিদেশীদের ছাড়াই করতে পারবে। এক বছর পর আমাদের লোকজনই প্রকল্প ম্যানেজার হতে পারবে। বিদেশ থেকে লোক আনতে হবে না।
ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশের একমাত্র ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্র্রাকশন) কন্ট্রাকটর। এর আগে ঘোড়াশালে ৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি ইউনিট এলএম ৬০০০ অ্যারো ডেরিভেটিভ গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে। এই কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এই প্রজেক্টে ইপিসি ব্যয় বরাদ্দ ছিল ৪০০ কোটি টাকা। এই ধারাবাহিকতায় কুশিয়ারা পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ শুরু করে। এ ছাড়া ২০১০ সালে ঘোড়াশালে ৭৮.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে ম্যাক্স পাওয়ার লিমিটেড।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.