বৃষ্টি আর জোয়ারে ডুবে আছে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের একটি সড়ক  :  আখতার হোসাইন
বৃষ্টি আর জোয়ারে ডুবে আছে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের একটি সড়ক : আখতার হোসাইন

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থবরাদ্দ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ কাটেনি

নূরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম ব্যুরো

‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শিরোনামে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প গেল সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়েছে। জলাবদ্ধতার অভিশাপ নিয়ে চলা চট্টগ্রামের মানুষ প্রকল্পটিকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে উদ্বেগ এখনো প্রশমিত হয়নি। যদিও বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আগামী বর্ষার আগেই মহানগরীর যেকোনো একটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যার দৃশ্যমান উন্নতির বিষয়ে আশাবাদী।
সিডিএ সূত্র জানিয়েছে, এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের ৫ লাখ ২৮ হাজার ঘনমিটার মাটি খনন এবং ৪ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার কাদা অপসারণ করা হবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের পাশে এক হাজার ৭৭ কিলোমিটার নালা তৈরি করা হবে। প্রায় ১০৮ একর জমি অধিগ্রহণ ও এক লাখ ৭৬ হাজার মিটার রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। রাস্তা তৈরি করা হবে ৮৫ কিলোমিটার।
এ ছাড়াও ছয়টি পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপন, পাঁচটি টাইডাল রেগুলেটর স্থাপন, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপ স্থাপন, বন্যার পানি সংরক্ষণে ৩টি জলাধার স্থাপন, বিদ্যমান নালার সংস্কার ও মেরামত করা হবে প্রকল্পের আওতায়।
প্রকল্পটি সবে একনেকে পাস হয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শুরু হয়েছে গেল জুলাই থেকেই। প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামের মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এমনটি মনে করলেও জনমনে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের সংশয় কাটেনি। এর পেছনে কারণ হিসেবে কেউ কেউ বলছেন, বিগত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কিছুদিন আগে ১৯৯৫ সালে প্রণীত চট্টগ্রাম মহানগরীর ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের আওতায় বহদ্দারহাট বারৈপাড়া চাক্তাই খাল থেকে পূর্ব দিকে কর্ণফুলী পর্যন্ত খাজা রোডের সমান্তরাল ৩ কিমি. দীর্ঘ প্রাইমারি খাল খনন ও খালের দুই তীর সংরক্ষণ করে উভয় তীরে ২০ ফুট করে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প সরকারের অনুমোদন পায়। কিন্তু ওই প্রকল্পের কাজও এখন পর্যন্ত শুরু করা যায়নি। ফলে বর্তমান প্রকল্পটিও আগামী জাতীয় নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার হাতিয়ার না হয়ে কার্যত জনকল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় এমনটিই প্রত্যাশা চট্টগ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের। ইতঃপূর্বে, ইউএনডিপি ও ইউএনসিএইচএসর সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রামের জন্য ‘স্ট্রম ওয়াটার, ড্রেনেজ ও ফ্লাড কন্ট্রোল’ মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) প্রণয়ন করে। এ ক্ষেত্রে তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। গত ২০ বছরের বেশি সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ না মেলাতে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার অভিশাপ নিয়েই চলতে হচ্ছে বন্দর নগরীর বাসিন্দাদের। অথচ চট্টগ্রাম দেশের রাজস্ব আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশের জোগানদাতা। বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রত্যক্ষ রাজস্ব সরকারি কোষাগারে যায় চট্টগ্রাম থেকে। কিন্তু সময়মতো ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় বর্তমানে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিতে হয়েছে বলে অভিমত নগর পরিকল্পনাবিদদের। যদিও নতুন প্রকল্পের মধ্যে ওই মাস্টার প্ল্যানের উল্লেখযোগ্য অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ দিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম কবে নাগাদ প্রকল্পকাজ শুরু হবে এবং অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু না বললেও আগামী বর্ষা মওসুমের আগেই মহানগরীর যেকোনো একটি এলাকায় জলাবদ্ধতার দৃশ্যমান উন্নতির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া প্রকল্প পাস হওয়ার সাথে সাথেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.