নোয়াখালী-৬ আসনে আ’লীগ বনাম আ’লীগ : বিএনপির একক প্রার্থী

মুহাম্মদ হানিফ ভূঁইয়া নোয়াখালী

বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসন গঠিত। এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমানে চারজন। তারা হলেন দলটির উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালী উল্যা, দলের নেতা মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রী বর্তমান এমপি আয়েশা ফেরদৌস ও দলের অপর নেতা মাহামুদ আলী রাতুল। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী একজনই। তিনি সাবেক এমপি ফজলে আজিম।
১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মোহাম্মদ আলী এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালী উল্লাহ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী পরাজিত হন। ’৯৬ সালের নির্বাচনেও মোহাম্মদ আলী জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মাহামুদুর রহমান বেলায়েতের হাত ধরে মোহাম্মদ আলী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ আলী নৌকার টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ২০০৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন। কিন্তু ঋণ খেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তার স্ত্রী আয়েশা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আয়েশা ফেরদৌস আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য হন।
এ আসনে আওয়ামী লীগ কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালী উল্যা। অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী। দুই গ্রুপের মধ্যে দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় বন্দুকযুদ্ধ ও সংঘর্ষে গত এক বছরে ডজন খানেক নেতাকর্মী নিহত ও পাঁচ শতাধিক আহত হন। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওয়ালী উল্লাহ সমর্থিতরা নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করেন। মোহাম্মদ আলী সমর্থিত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। দুই-একটি ছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা। এর পর থেকে এই দুই নেতার সমর্থিত প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। উপজেলা সদর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন।
এদিকে এ উপজেলায় জলদস্যু ও বনদস্যুরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালয়িছে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে এসব দুস্যকে আশ্রয়-প্রশয় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে পুরো হাতিয়ায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। অনেকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে টুশব্দ করার সাহস নেই কারো। অনেক দস্যুর বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলার ওয়ারেন্ট থাকলেও তারা প্রকাশ্য চলাফেরা করছে। পুলিশ গ্রেফতার করছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। আওয়ামী লীগের বিবদমান উভয় গ্রুপের মধ্যে গত এক বছরে সংঘর্ষে হতাহত হওয়া ছাড়াও চাঁদাবাজি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বেশ কিছু।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক ওয়ালী উল্লাহ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে দস্যুদের গডফাদার ও আশ্রয় দাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তার পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার ও দস্যু নির্মূল করতে হবে। তিনি তার মনোনয়ন লাভের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি আরো বলেন, তাকে মনোনয়ন না দিলে দল ভুল করবে এবং ভুলের খেসারত দিতে হবে। অন্য দিকে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার করা ছাড়া এ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে এলাকাবাসীর অভিমত।
অন্য দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ নানা বাধাবিপত্তির পরও নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতি ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীও থেমে নেই। তারা ঘরোয়াভাবে নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পাটির মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট বায়জিদ এলাকায় গণসংযোগ করছেন জানা গেছে।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.