নড়িয়ায় নিহতের শরীরে ৬২টি গুলির চিহ্ন

শরীয়তপুর সংবাদদাতা

নড়িয়ার রাজনগরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইকবাল হোসেন ফকির নামের এক যুবলীগ নেতা নিহত ও অন্তত ২৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ৪০ জন আহত হয়। নিহত ইকবালের শরীরে ৬২টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা: সুমন পোদ্দার। এ ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে নড়িয়া থানা পুলিশ।
নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বাদ আসর মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। গত রাত থেকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নড়িয়া থানা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন গাজীর সাথে একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি দাদন মীর বহর গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত শুক্রবার আসরের নামাজের পর জাকির গাজীর সমর্থকেরা হামলা চালিয়ে দাদন মীর বহর ও সাবেক চেয়ারম্যান আলী উজ্জামান মীর মালতের সমর্থক রাজনগর ইউনিয়নের আন্ধার মানিক বাজারের দাদন মীর মালত, নুরুল ইসলাম মীর মালত ও সোহাগের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এরপর বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন গাজীর সমর্থক সম্রাট গাজী ও সাগর সরদারের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন লোক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাজনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী উজ্জামান মীর মালত ও মালেক ফরাজীর বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর বিকেল ৬টায় উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে দাদন মীর বহর ও আলী উজ্জামান মীর মালতের সর্মথক রাজনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য ইকবাল হোসেন (মাইকেল) ফকির (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও ২৫ জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ৪০ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন ইকবালকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর শুক্রবার রাতে ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে সিরাজুল মোল্যা, সোহাগ বেপারি, জাহাঙ্গীর মীর বহর, পারভেজ বেপারি ও নিরবকে আটক করে পুলিশ।
আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ মজিবর মীর মালত ও সাগর মীর মালতসহ ছয়জনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। সংঘাত এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে নিহতের ময়নাতদন্ত করেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা: সুমন পোদ্দার ও ডা: এহসানুল ইসলাম। তারা জানান, নিহত ইকবালের শরীরে ৬২টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব গুলি শর্টগানের বলে তারা ধারণা করছেন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আসরের নামাজের পর নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এ দিকে নিহত ইকবালের লাশ বাড়িতে পৌঁছলে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নিহত ইকবাল হোসেন ফকিরের স্ত্রী জুলেখা বেগম বলেন, আমার স্বামী আন্দার মানিক বাজারে যাওয়ার সময় সাগর সরদার, সম্রাট গাজী, শাহজাহান মাদবররা গুলি করে তাকে হত্যা করে। আমি এখন দুই অবুঝ শিশু সন্তানকে নিয়ে কিভাবে বাঁচব। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই।
নিহতের মা মাসুদা বেগম বলেন, জাকির গাজীর লোকেরা দাদন মীর মালতের দোকান লুট করেছে শুনে আমার ছেলে ইকবাল ফকির সেখানে যাচ্ছিল। এ সময় আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করে জাকির চেয়ারম্যানের লোকজন। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মো: আবদুল হান্নান বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.