ভারী বর্ষণে রংপুর মহানগরীর পায়রা চত্বরে জলাবদ্ধতা  :নয়া দিগন্ত
ভারী বর্ষণে রংপুর মহানগরীর পায়রা চত্বরে জলাবদ্ধতা :নয়া দিগন্ত

অবিরাম বর্ষণে রংপুর মহানগরীর ৭০ ভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা

সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর অফিস

তিন দিনের অবিরাম বর্ষণে রংপুর নগরী এখন থই থই পানির ওপর ভাসছে। এতে নগরীর অন্তত ৭০ ভাগ পাড়ায় নজিরবিহীন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি উঠেছে নগরীর প্রধান সড়কসহ বাড়িঘরে। দুর্বিষহ দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ পড়েছেন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ সহকারী ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, গত বুধবার রাত থেকে শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত রংপুরসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩০৬ মিলিমিটার। এর মধ্যে শুধু শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ২২৯ মিলিমিটার। এ বৃষ্টি আরো কয়েক দিন চলতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন তিনি।
সরেজমিন দেখা গেছে, অবিরাম বর্ষণে মহানগরীর বানিয়াপাড়া, দেওডোবা, টার্মিনাল, কামারপাড়া, আদর্শপাড়া, মুলাটোল, বৈরাগী পাড়া, কামাল কাছনা, তাজহাট, কেরানীপাড়া স্টেশন, সর্দারপাড়া, পার্কের মোড়, মর্ডান মোড়, বালাটারি, খলিফা পাড়া, বাবু খাঁ, কলেজ পাড়া, খামার পাড়া, কুকরুল, মিস্ত্রিপাড়া, জুমাপাড়া, হনুমানতলা, গুড়াতিপাড়া, নূরপুর, মহাদেবপুর, আলমনগর, তাজহাট, মাহিগঞ্জ, ডিমলা, বোতলা, খাসবাগ, বাবুখাঁ, গণেশপুর, তামপাট, দর্শনা, আক্কেলপুর, ভুরারঘাট, নজিরেরহাট, সিও বাজার, মন্থনা, খটখটিয়া, কুকরুল, সিগারেট কোম্পানি, বোতলাসহ নগরীর অন্তত ৭০টি পাড়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২০ হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে আমনসহ শাকসবজির ক্ষেত। অনেক মানুষ পাশের স্কুলে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া মহানগরীর স্টেশন রোড, কলেজ রোড, জিএল রায় রোড, সেন্ট্রাল রোড, কাচারী বাজার, নিউ সেনপাড়া, গ্রান্ড হোটেল মোড়, সালেক পাম্প, জাহাজ কোম্পানি, মোড় পায়রা চত্বর, কোতোয়ালি থানার সামন, জীবন বীমা মোড়সহ মেয়রের বাড়ির সামন, লালবাগ, কেডিসি রোড, খামার মোড়, চারমাথা মে াড়সহ নগরীর প্রধান প্রধান বেশ কয়েকটি সড়কসহ বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। তুমুল বৃষ্টিতে মানুষজন বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর বর্ধিত ১৮টি ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকায় এখন হাঁটুপানি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বাড়িঘরে পানি ওঠায় মানুষ আছেন চরম দুর্ভোগে। দিনমজুরদের দেখা দিয়েছে কাজের অভাব। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর আমনের ফসল। পানির কারণে ৩৩নং ওয়ার্ডে হোসেননগর নামে একটি মৌজার ১০ হাজার মানুষ তিন দিন থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ। তিনি এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

এ দিকে সরেজমিন আরো দেখা গেছে, নগরীল বুক চিরে যাওয়া শ্যামা সুন্দরী খালের কেরানী পাড়া, চৌরাস্তা মোড় ধাপ কটকি পাড়া, সেনপাড়া, শাপলা চত্বর, মুলাটোল, বৈরাগীপাড়া, মাহিগঞ্জ, জুম্মাপাড়া, লিচু বাগান এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে খাল দখল করে বসতবাড়ি হওয়ার কারণেই বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। পানি ওভার ফলো হয়ে গড়িয়ে পড়ছে দুই পাশে। অন্য দিকে নগরীতে এমনিতে ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, তার ওপর ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন থেকে পরিষ্কার করা হচ্ছে না। অনেক জায়গায় ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি বেরোতে পারছে না।
এ দিকে তুমুল বর্ষণের কারণে দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ পড়েছেন ভোগান্তিতে। কাজে না যাওয়ার অনেকেরই তিন দিন থেকে চুলা জ্বলছে না। সামান্য যেসব যানবহান নগরীতে চলাচল করছে তারা বাড়িয়ে দিয়েছেন ভাড়া।
রংপুর সিটি মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু জানান, অবিরাম বর্ষণে পানি নামতে অসুবিধার কারণেই নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এতে কিছু মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের দুর্ভোগে আমিও ব্যথিত। তিনি বলেন, শ্যামাসুন্দরী খাল দখলমুক্ত করতে না পারলে এ সমস্যার শিগগিরই সমাধান হবে না।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.