ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে সরকারের গাত্রদাহ হয়েছে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে দেশের বর্তমান অবস্থার আসল চিত্র উন্মোচিত হওয়ায় সরকারের গাত্রদাহ হয়েছে। গতকাল এক দোয়া মাহফিলপূর্ব বক্তব্যে তিনি বলেন, যখন সুপ্রিম কোর্ট তাদের রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের বর্তমান অবস্থার আসল চেহারা তুলে ধরেছেন তখন তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। শুক্রবারও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন যে এখন তাদের খুব দুঃসময়। তারা বলছেন এখন নাকি ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। আপনারা রাষ্ট্র চালাতে পারেন না, এয়ারপোর্টের মধ্যে তিন তলায় আগুন লাগে, সব বন্ধ করে দিতে হয়। হজযাত্রীরাও যেতে পারছেন না। একটার পর একটা সমস্যা তৈরি হয়ে যাচ্ছে, তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আপনারা ঢাকা শহরের রাস্তা ঠিক করতে পারেন না। বাইরের কথা বাদই দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশেষ করে এই রায়ের পর্যবেক্ষণের পরে এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে, এই সরকারের কোনো নৈতিক অধিকার নেই ক্ষমতায় বসে থাকার। জোর করে বসে আছে পেছনে বন্দুক-পিস্তল না থাকলে দাঁড়াতেও পারবে না এক সেকেন্ডÑ এটাই হচ্ছে মূল কথা।
রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনায় এই দোয়া মাহফিল হয়। গত ৮ আগস্ট লন্ডনের মুরফিল্ড আই হসপিটালে খালেদা জিয়ার ডান চোখে সফল অস্ত্রোপচার হয়। যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরুর পরিচালনায় আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ অংশ নেন। দোয়া মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল ইসলাম নয়ন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে উন্মুক্ত আলোচনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অংশ নিলে তাদের ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে বের করে দেয়ার ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র। আবার বলে কি না দেশে তো গণতন্ত্র আছে, গণতন্ত্রের ওপর কোন আকাশ ভেঙে পড়ল যে, আপনাদেরকে সহায়ক সরকার দিতে হবে? আমাদেরকে তোমরা সাধারণ সভা করতে দাও না, আমাদেরকে জনসভা করতে দাও না। গতকালও চাঁদপুর থেকে আমাকে টেলিফোন করেছিল ম্যাডামের আরোগ্য কামনায় মিলাদ করতে চেয়েছিল তাদের বাইরে মিলাদ করতে দেয়নি শেষে মসজিদের ভেতরে গিয়ে তারা মিলাদ করেছে সব জায়গায়ই এসব কাজ করছে।
ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের আলোচনা : বিকেলে অপর এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের ব্যর্থতায় দেশ খাদের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে। আজকে আমরা এমন একটা জায়গায় চলে এসছি যেখানে এক কথায় বলা যেতে পারে আমরা একেবারে খাদের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছি। এখান থেকে যদি ফিরতে না পারি তাহলে অবধারিত আমরা তলিয়ে যাবো, অন্ধকার গহ্বরে তলিয়ে যাবো। আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের সবাইকে চেষ্টা করতে হবে, সবাইকে ভাবতে হবে। আমরা যদি একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে না পারি, আমরা দলীয় সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে না পারি তাহলে আমরা আমাদের যে লক্ষ্য জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা, মধ্য আয়ের দেশ করা, একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করা সেই লক্ষ্যে আমরা পৌঁছতে পারব না।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ৪৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সভায় ক্রীড়া সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবু, সয়লাব হোসেন টুটুল, ইউসা মিশু, দেবব্রত পাল, বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, নির্বাহী কমিটির সদস্য নূরুল কবির শাহিন, ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের মোস্তাকুর রহমান, মেহেদি মাসুদ, সাইদুর রহমান ডন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সরকারের দলীয়করণের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখন দলীয়করণ ভয়াবহপর্যায়ে। শুধু ক্রীড়া অঙ্গনে নয়, সর্বক্ষেত্রে এই অবস্থা। আওয়ামী লীগ মূলত অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ একটা রাজনৈতিক দল। তার নিজের বাইরে কিছু চিন্তা করতে জানে না, নিজের মানুষগুলো ছাড়া অন্য কাউকে চেনে না এবং তারা মনে করে তারাই রাষ্ট্র, তারাই দেশ, তারাই সবকিছু। যার ফলে সর্বত্র এত অন্যায়, অবিচার। এরই ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হচ্ছে সরকার দলীয় সঙ্কীর্ণতায় চলে গেছে এবং একটা দানবে পরিণত হয়েছে।
’৯১ বিএনপির শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফেডারেশন ও ক্রিকেট কনট্রোল বোর্ডে সিপিবির সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক, জাসদের হাসানুল হক ইনু, বীর বাহাদুর এবং ২০০১ সালে সাবের হোসেন চৌধুরীসহ নানা মতের লোকজন সদস্যরা সহসভাপতি পদে থাকার কথা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। ক্রিকেটের উন্নয়নে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তিনি।
কোকো স্মৃতি সংসদের আলোচনা : ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর মন্ত্রীদের বক্তব্যে সরকারের বেসামাল অবস্থা প্রতীয়মান হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আজকে গণতন্ত্র আওয়ামী লীগ সরকারের বাক্সে বন্দী। আজকে কথা বলার অধিকার নেই, শুধু একটি দল কথা বলবে, তারা হেলিকপ্টারে চড়ে ভোট চাইবে, তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে।
তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর মন্ত্রীদের বক্তব্য আপনারা দেখছেন, বেসামাল অবস্থা। তারা জানে, এ দেশের মানুষ যদি একবার ভোট দেয়ার সুযোগ পায়, আওয়ামী লীগের পাত্তা থাকবে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজেই বলেছেন আগামী নির্বাচনে যদি তারা বিজয়ী না হয়, তাদের নেতাকর্মীদের পিঠের চামড়া থাকবে না, তাদের পালানোর পথ থাকবে না। তারা এত ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে আছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে কোকোর ৪৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলমগীর হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আরাফাত রহমান কোকোর কবরে শ্রদ্ধা : এ দিকে ৪৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন বনানীতে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। কোকো স্মৃতি পরিষদ, যুবদল, বাংলাদেশ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদ, আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল সকাল ১০টার দিকে আরাফাত রহমান স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এরপর সেখানে কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, ভাইস চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমান, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হকসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার রূহের মাগফিরাত কামনায় মুনাজাত করেছে আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, সংগঠনের সভাপতি আলমগীর হোসেন লাবু, সহসভাপতি আবদুস সবুর, সহসভাপতি ইফতেখার আহমেদ ভুইয়া ইতুসহ বিভিন্নপর্যায়ের খেলোয়াড়রা। ১৯৭০ সালে আরাফাত রহমান কোকোর জন্ম। ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.