মুক্তামনির সফল অস্ত্রোপচার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডান হাত রেখেই সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। আপাতত সফল বললেও মেয়েটি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। গতকাল সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা: আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ২২ জনের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ওর অস্ত্রোপচার করেন। মুক্তামনির ডান হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়েছে। অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওর শরীরের আরো কিছু স্থানে টিউমার রয়েছে। স¤পূর্ণ সুস্থতার জন্য আরো কয়েকটি অস্ত্রোপচার করতে হবে। মেয়েটির ফুসফুসে সমস্যা রয়েছে। এর বাইরে কিছু জটিল রোগ ওর শরীরে বাসা বেঁধেছে। 

অধ্যাপক আজাদ জানান, টিউমার শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়লেও হাতের টিউমারটি বেশ খারাপ অবস্থায় ছিল। এ টিউমারটিই ওর হাতটি বেঢপ ধরনের স্ফীত হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী, পুরো হাতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক ছিল না। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য আরো কমপক্ষে ৫ থেকে ৬টি অস্ত্রোপচার করতে হবে। ওর শারীরিক অবস্থা বুঝে সুবিধা মতো সময়ে অন্যান্য অংশের টিউমারগুলো অপসারণ করা হবে। ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, যেদিন আমরা মুক্তামনিকে বাড়িতে পাঠানোর জন্য ওর পিতা-মাতার কাছে হস্তান্তর করতে পারব সেদিন বলা যাবে সে ঝুঁকিমুক্ত। বাড়িতে না পাঠানোর আগ পর্যন্ত ওকে আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণে রাখব এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাব। 

মুক্তামনির অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর দুপুর ১২টায় ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা: সামন্ত লাল সেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক জুলফিকার লেনিন।
ডা: সামন্ত লাল জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা চারটি রোগের কথা ধারণ করলেও বায়োপসি করার পর ধরা পড়ে সে লিমফেটিক ম্যালফরমেশনে ভুগছে। এটি জন্মগত রোগ, কারো কারো এটি জন্মের পরপরই প্রকাশ পায়। কিন্তু মুক্তামনির ক্ষেত্রে প্রকাশ পেয়েছে জন্মের দেড় বছর পর। মুক্তামনি যমজ হলেও তার অন্য যমজ বোনের ক্ষেত্রে এ ধরনের কিছু প্রকাশ পায়নি। শুধু যে সে লিমফেটিক ম্যালফরমেশনে ভুগছে তা নয়, একই সাথে সে অপুষ্টিতে ভুুগছিল। রোগটি অনেক আগে প্রকাশিত হলেও শনাক্ত করতে না পারায় স্থানীয় চিকিৎসকের অপচিকিৎসার শিকার হয় সে। রক্তস্বল্পতা থাকায় তাকে এরই মধ্যে দুই ব্যাগ স্বাভাবিক রক্ত ও এক ব্যাগ প্লাজমা (রক্তের সাদা অংশ) দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারও দেয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আবারো শরীরের বিভিন্ন অংশের টিস্যু সংগ্রহ করে বায়োপসি পরীক্ষা করা হবে। ওর চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ডের আট সদস্য ও এর বাইরে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের ভাস্কুলার সার্জন ডা: জি এম মকবুল হোসেন তাদের নিজ নিজ মতামত দিয়েছেন। মেডিক্যাল বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে সামনের দিনগুলোতে ওর চিকিৎসা চলবে। ধাপে ধাপে অবশিষ্ট অস্ত্রোপচারগুলো করে ফেলা হবে বলে জানান, ডা: সামন্ত লাল সেন।
অস্ত্রোপচারের পর মুক্তামনির বাবা মো: ইব্রাহিম জানিয়েছেন, আমার মেয়ে চিকিৎকদের অবহেলার শিকার হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসার আগে মেয়েটিকে চিকিৎসকেরা ভালো দেখতেও চাইতেন না। তিন বছর আগে খুলনার এক চিকিৎসক বলেন, আপনার মেয়ের ক্যান্সার ফাও চিকিৎসা করাবেন না। ও বেশি দিন বাঁচবে না। এর পর থেকে ওকে নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে যাওয়া বন্ধ করে দেই। কারণ ওকে নিয়ে কোথাও গেলে ওর অনেক কষ্ট হতো।
এরপর মিডিয়ায় রিপোর্ট হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম মেয়েটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়েটির চিকিৎসার স¤পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন। ওর চিকিৎসার সব খরচ প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকেই দেয়া হবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.