হেলথ টিপস : বামনত্ব সমস্যায় করণীয়

একটি শিশু যদি তার সমবয়সীদের তুলনায় কম উচ্চতাসম্পন্ন হয়, তবে অভিভাবকদের উচিত এ বিষয়ে সচেতন হওয়া। এটা একটি রোগ, যার স্বাস্থ্যসম্মত চিকিৎসা আছে। যথাসময়ে চিকিৎসা করাতে পারলে শিশুটি বামনত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারে। মনে রাখা উচিত, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি অনেকটাই জিনগত ও পরিবেশগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এ ছাড়া নির্ভর করে তার সার্বিক সুস্থতা ও হরমোনের ওঠানামার ওপর। শৈশবে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা যেমন কিডনি বা ফুসফুসের রোগ, অপুষ্টি, হজমের গোলমাল ইত্যাদির কারণেও শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। একেক পরিবারে উচ্চতার প্রবণতা একেক রকম হবে এটা কিন্তু অস্বাভাবিক কিছু নয়। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বৃদ্ধিতে থাইরয়েড ও গ্রোথ হরমোনগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ হরমোনগুলোর অভাবে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি থমকে যেতে পারে অথবা ধীর গতিতে হতে পারে। ঠিকমতো বৃদ্ধি না হলে একটি শিশু নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়। অনেক সময় এ বৃদ্ধি-প্রতিবন্ধকতার কারণে যৌবন প্রাপ্ত না হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া তারা ট্রিজিং ও বুলিংয়ের শিকার হয়। সমাজে, শিক্ষাক্ষেত্রে বা কর্মক্ষেত্রে অনেক মেধা থাকা সত্ত্বেও তারা পিছিয়ে পড়ে। এ কথা সত্য যে, কৃত্রিম গ্রোথ হরমোন আবিষ্কৃত হওয়ার আগে খর্বাকৃতি শিশুদের চিকিৎসা ছিল বেশ দুরূহ ব্যাপার। কিন্তু বর্তমানে কৃত্রিম গ্রোথ হরমোন সোমাটোট্রোপিন অথবা নরডিট্রোপিন দিয়ে বেশ সাফল্যের সাথে বামনত্বের চিকিৎসা করানো যায়। হরমোন বিশেষজ্ঞের (এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট) পরামর্শ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রার গ্রোথ হরমোন ইনজেকশন দেয়া হয়। গ্রোথ হরমোনের সমস্যা ছাড়া বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার অন্য কারণ থাকলে সেটি নির্ণয় করে তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করাটা জরুরি। যত কম বয়সে চিকিৎসা শুরু করা যায় ততই ভালো ফল পাওয়া যাবে। কারণ দৈহিক উচ্চতা তত দিনই বাড়ে যত দিন পর্যন্ত দেহের কাঠামো বা কঙ্কাল বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই বৃদ্ধি ঘটে তত দিন পর্যন্ত যত দিন হাড়ের শেষ মাথায় অবস্থিত তরুণাস্থি বা পেট মূল হাড়ের সঙ্গে মিশে (ফিউশন হয়ে) না যায়। একবার ফিউশন হয়ে গেলে হাড় আর লম্বা হতে পারে না। সাধারণত এই ফিউশন ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৬ বছরের মধ্যে আর মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৪ বছরের মধ্যে ঘটে। যদিও ১৯ থেকে ২১ বছর পর্যন্ত উচ্চতা আরো কিছুটা বৃদ্ধি হতে পারে, কিন্তু ফিউশন হয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসা করালে তেমন কোনো ফল পাওয়া যাবে না। কয়েকটি ইয়োগা বা যোগ ব্যায়ামের চর্চার মাধ্যমে অথবা উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বামনত্বের অভিশাপ থেকে একজন মানুষকে সারিয়ে তোলা যায়। ইন্টারনেট।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.