১৫ আগস্টে সফিউল্লাহদের নীরবতা তদন্তে কমিশন গঠন করতে হবে : শেখ সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ইতিহাস বিকৃত করেছিল জিয়াউর রহমান। কিন্তু আজকে অনেকেই নানাভাবে আকারে-ইঙ্গিতে ইতিহাস বিকৃত করতে চায়। এরাও একই গ্রুপের লোক, তা বলতে আমার দ্বিধা নেই। সময়ে এদেরও বিচার হবে। ইচ্ছে করে যা খুশি তাই করা যায় না।’
গতকাল বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে যুব মহিলা লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতারের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ, কার্যনির্বাহী সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, মেরিনা জাহান, যুব মহিলা লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল, সহসভাপতি জাকিয়া পারভীন মনি, কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোদেজা নাছরীন, জেদ্দা পারভীন খান রিমি, সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা ভূঁইয়া চায়না, শারমিন সুলতানা লিলি, শারমীন সুলতানা শরমী, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন, দক্ষিণের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ঝুমা প্রমুখ।
১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে শেখ সেলিম বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যেতে খুনিদের অনেক সময় লেগেছিল। সে সময় বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েক জায়গায় ফোন করেছিলেন। আর্মি চিফ সফিউল্লাহকেও ফোন করেছিলেন। কর্নেল জামিলকে ফোন করার সাথে সাথে সে গণভবনের দিকে ছুটে গিয়েছিল। সফিউল্লাহকে একবার নয়, দুইবার ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, সফিউল্লাহ তোমার সেনাবাহিনী আমার বাড়ি আক্রমণ করেছে। কিন্তু সফিউল্লাহ উত্তরে বলেছিলেন, আপনি একটু পাশে কোনো জায়গায় আশ্রয় নিতে পারেন না।
তিনি বলেন, সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ, ডেপুটি চিফ জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশাররফ ও সাফায়াত জামিল বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় এগিয়ে আসেননি, আজো এ রহস্য উন্মোচন হয়নি। ১৪জন সেনাকর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তারা সেদিন রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করেন। অথচ তারা বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে এলে তিনি বেঁচে যেতেন। এর রহস্য কী। শেখ সেলিম বলেন, ১৫ আগস্টে সফিউল্লাহদের নীরবতা তদন্তে কমিশন গঠন করতে হবে।
শেখ সেলিম আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে যারা বেঈমানি করেছে কেউ বেঁচে নেই। জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশাররফও ওইভাবে চলে গেছে। সফিউল্লাহতো আজকে জীবিত থেকেও মৃত। মানুষ তাকে ঘৃণা করে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অপসারণ চেয়ে অধ্যাপিকা অপু উকিল বলেন, প্রধান বিচারপতি ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি বিএনপির সুরে কথা বলছেন। আমরা তার অপসারণ চাই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.