২০১৭ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-১২৫

বাংলা প্রথমপত্র গল্প : পড়ে পাওয়া

সুপ্রিয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের বাংলা প্রথমপত্রের ‘গল্প : পড়ে পাওয়া’ থেকে একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ট্রেনে পাশাপাশি সিটে বসেছিলেন মহিম আর চন্দ্রশেখর বাবু। শহর থেকে মোকাম সেরে চন্দ্রশেখর বাবু বেশ মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ফিরছিলেন গ্রামে। পথের শ্রান্তিতে এক সময় দু চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসে তার। তারপর স্টেশনে আসতেই তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে টাকার ব্যাগটি ফেলেই তিনি নেমে পড়েন। বিষয়টি মহিমের চোখ এড়ায়নি। তখনি লাফ দিয়ে সে ট্রেন থেকে নেমে পড়ে এবং দৌড়ে যায় চন্দ্রশেখর বাবুকে ব্যাগটি ফেরত দিতে। তার এ কাজে চন্দ্রশেখর বাবু অত্যন্ত খুশি হন এবং প্রাণভরে তাকে আশীর্বাদ করেন।
প্রশ্ন : ক) ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের দলের গুপ্ত মিটিং কোথায় বসেছিল?
খ) গুপ্ত মিটিং বসার কারণ কী ছিল? বুঝিয়ে লিখ।
গ) উদ্দীপকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ) ‘উদ্দীপকের মহিম ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের একটি বিশেষ তাৎপর্যকে ধারণ করেছে’Ñ স্বীকার করো কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।
উত্তর : ক) বাদলদের ভাঙা নাটমন্দিরের কোনায়।
খ) গুপ্ত মিটিং বসার কারণ ছিল কুড়িয়ে পাওয়া টিনের ক্যাশবাক্স প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার উপায় বের করা।
গল্পকথক ও বাদল কালবৈশাখীর ঝড়ে আম কুড়িয়ে ফেরার পথে টিনের ক্যাশবাক্সটি কুড়িয়ে পায়। প্রথমে তারা এটা ভাগাভাগি করে নিতে চাইলেও পরে তা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই দলের সর্দার বিধুর নির্দেশ মতো বাদলদের ভাঙা নাটমন্দিরের কোনায় মিটিং বসেছিল।
গ) উদ্দীপকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বর্ণিত কিশোরদের নৈতিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন ঘটেছে।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোর গল্পকথক ও বাদল ঝড়ে আম কুড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে টিনের ক্যাশবাক্স কুড়িয়ে পায়। প্রথমে বাক্সের টাকা ও গহনা দু’জনে ভাগাভাগি করে নিতে চাইলেও পরে অধর্ম হবে ভেবে তা প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেয়ার জন্য বাড়িতে নিয়ে যায়। উদ্দীপকে চন্দ্রশেখর বাবু স্টেশনে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে টাকার ব্যাগ ট্রেনে ফেলে যান। বিষয়টি সহযাত্রী মহিমের চোখে পড়লে মহিম ট্রেন থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে টাকার ব্যাগ ফেরত দেয় চন্দ্রশেখর বাবুকে। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পেও গল্পকথক ও বাদল টিনের ক্যাশবাক্স নিজেরা আত্মসাৎ না করে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে উদ্যোগী হয়। উদ্দীপকের মহিমের মতো গল্পের কিশোররা কুড়িয়ে পাওয়া অর্থসম্পদে লোভের পরিচয় দেয়নি, বরং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এভাবে উদ্দীপকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ঘটনাই প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ) উদ্দীপকে মহিম ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের একটি বিশেষ তাৎপর্য ধারণ করেছেÑ এ উক্তিটি যথার্থ।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে গল্পকথক ও বাদল বাড়িতে ফেরার পথে সন্ধ্যার অন্ধকারে পথের ধারে টিনের ক্যাশবাক্সটি কুড়িয়ে পায়। বাক্সের সম্পদ আত্মসাৎ করলে অধর্ম হবে ভেবে তারা তা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সততার তাৎপর্যকে ধারণ করেছে উদ্দীপকের মহিম।
উদ্দীপকের মহিম আলোচ্য গল্পের গল্পকথক ও বাদলের মতোই চন্দ্রশেখর বাবুর ফেলে যাওয়া টাকার ব্যাগ লক্ষ্য করে ট্রেন থেকে দৌড়ে নেমে গিয়ে তা ফেরত দেয়। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কিশোররাও সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে টিনের ক্যাশবাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দিয়েছিল। মহিম আলোচ্য গল্পের কিশোরদের চরিত্রের নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধেরই পরিচয় দিয়েছে। গল্পের এ নৈতিক তাৎপর্য যেহেতু উদ্দীপকের মহিমের মধ্যে বিদ্যমান, তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, মহিম গল্পের একটি বিশেষ তাৎপর্যকে ধারণ করেছে।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.