বোতলে বাতাস! সাফল্যের ব্যবসায়ীরাই স্তম্ভিত!
বোতলে বাতাস! সাফল্যের ব্যবসায়ীরাই স্তম্ভিত!

বোতলে বাতাস! সাফল্যের ব্যবসায়ীরাই স্তম্ভিত!

ডয়েচে ভেলে

বায়ু দূষণ বাড়ছে, আর সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশুদ্ধ বাতাস বোতলে ভরে বিক্রির ধান্দা শুরু করেছেন কিছু চতুর ব্যবসায়ী৷ বড় বড় শহরে, স্যুভেনির হিসেবে বা হাসপাতালে বিক্রি হচ্ছে এই বাতাস৷ কেউ কেউ নিজেদের সাফল্যের নিজেরাই স্তম্ভিত!

জার্মানির অন্যতম গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাক্স প্লাঙ্ক-এর একটি পরিসংখ্যান বলছে, চীনে বায়ু দূষণের কারণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়৷ ফসলের ক্ষতি, বিমান ও গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মতো আরো কিছু ক্ষতিকর প্রভাবও রয়েছে৷

বেইজিং এবং সাংহাইয়ের মতো শহরে ধোঁয়াশা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, শহরের বাসিন্দারা এখন ২০ ডলার করে অক্সিজেন বোতল আমদানি করা শুরু করেছেন৷ কানাডিয়ান উৎপাদনকারীরা বলছে এক লিটার অক্সিজেন দিয়ে কম-বেশি ১৫০ বার নিঃশ্বাস নেয়া যায়৷

নিজের সাফল্যে চমৎকৃত ক্যানাডার এডমন্টনের ভাইটালিটি এয়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোজেস লাম৷ টেলিভিশন চ্যানেল সিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, পুরোটাই শুরু হয়েছিল একটা রসিকতার অংশ হিসেবে৷ কিন্তু প্রথম উৎপাদনের ১০০ বোতল যখন চার দিনেই শেষ হয়ে যায়, তখন তিনি বিষয়টাকে পেশাগত রূপ দেয়া শুরু করেন৷

ভাইটালিটি এয়ার এখন শুধু চীন না, ভারত, কোরীয়া এবং ভিয়েতনামেও ব্যবসা চালাচ্ছে৷ দুই সপ্তাহ পরপর ২০ জন কর্মী ক্যানাডার রকি মাউন্টেইন থেকে কয়েক লাখ লিটার বাতাস সংগ্রহ করেন৷ ‘‘বানফ ন্যাশনাল পার্ক থেকে সংগ্রহ করা বাতাস এখন বিক্রির শীর্ষে'', বলেন মোজেস লাম৷
বিশুদ্ধ বাতাস উৎপাদন বেশ জটিল৷ সংগৃহীত বাতাসের মাত্র ২০ ভাগ থাকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন৷ ফলে বাতাসকে শোধন ও সংকুচিত করে বোতলে ঢোকাতে হয়৷ মূল্যবান এই পণ্যের স্থায়ীত্বও খুব কম৷ লাম বলছেন, ‘‘এক থেকে দু'বছরের মধ্যে এই বোতল ব্যবহার করে ফেলা উচিত৷''

সিডনির গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ২০১৫ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার বাতাস সরবরাহ করছে৷ ব্লু মাউন্টেন, গোল্ড কোস্ট, এমনকি গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের বাতাসও বিক্রি করে এই কোম্পানি৷ তবে অর্ডার করতে হবে ন্যূনতম চার হাজার বোতল৷ প্রতি বছরই লাখ লাখ ডলার আয় করছে প্রতিষ্ঠানটি৷ কোম্পানির ক্রেতারা বেশিরভাগই আসছেন এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে৷

বায়ুদূষণ রোধে গাড়ি উৎপাদক এবং বিভিন্ন শহর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ কোনো কাজে না আসায় জার্মানিকেও ভবিষ্যত বাজার হিসেবে দেখছে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন৷ ডিজেল সম্মেলন তেমনই এক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়৷

কেউ কেউ স্মারক হিসেবে বাড়িতে সাজিয়ে রাখছেন এই বোতলজাত বায়ু৷ এখন পর্যন্ত ব্ল্যাক ফরেস্ট এবং কাক্কু ক্লকস আছে পছন্দের শীর্ষে৷ ঐতিহ্যের বিপরীতে গিয়ে এলকে ওট অ্যালুমিনিয়ামে ক্যানে করে বিক্রি করছেন ব্ল্যাক ফরেস্টের বাতাস৷

২০০৬ সালে একই ধরনের বিষয় একবার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ তখন ‘বার্লিনের আসল বাতাস' কিনতে পাওয়া যেত৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক করে দিয়েছিল যে, এই বাতাসে ৩০ শতাংশ ভাসমান বস্তুকণা থাকতে পারে৷ কিন্তু তাও বন্ধ হয়নি উৎপাদন ও বিপণন৷

তবে এ নিয়ে যতই হাসিঠাট্টা হোক না কেন, পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে এই বোতলজাত বাতাস৷

বাতাস বিশুদ্ধ করতে না পেরে বিজ্ঞানীরা এখন মানুষের অক্সিজেনের চাহিদা কীভাবে কমিয়ে ফেলা যায়, সে গবেষণা করছেন৷ বার্লিনের মাক্স ডেলব্র্যুক সেন্টার ফর মলিকিউলার মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন নেকেড মোল ইঁদুর তাদের মাটির তলার গর্তে খুব অল্প অক্সিজেন নিয়ে দিনের পর দিন বাঁচতে পারে৷ পরীক্ষাগারে এরা শেকড় থেকে ফ্রুকটোজ শুষে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা টিকে ছিল৷ যেখানে স্বাভাবিক নাড়ির স্বাভাবিক গতি মিনিটে ২০০ বার, সেখানে এই ইঁদুর নাড়ি মিনিটে ৫০-এ নামিয়ে আনতে পারে৷

এই আবিষ্কার কীভাবে মানুষের জীবনে কাজে লাগানো যায়, তা বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা৷ এবং তারা সবাইকে আশ্বস্ত করছেন, গাড়ি শিল্পের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই৷

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.