ইলিশে ভরে গেছে মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুরসহগোটা উপকূল

এইচ এম হুমায়ুন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। রূপালী ইলিশ যেন জেলেদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সমুদ্রের পানির সাথে ইলিশ ঝাঁক বেঁধে লাফিয়ে লাফিয়ে খেলা করছে। গভীর সমুদ্রের যেখানেই জাল ফেলা হচ্ছে সেখানেই ইলিশ আর ইলিশ। ট্রলারে ইলিশ বোঝাই করে বন্দরে ফিরছেন জেলেরা।

বিক্রি করেই আবার সমুদ্রে ফিরে যাচ্ছেন জেলেরা। প্রতিটি ট্রলার চার থেকে সাত মণ ইলিশ নিয়ে পাড়ে আসছে। প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এত ইলিশ ধরা পড়তে দেখেননি জেলেরা। ইলিশে ভরে গেছে মৎস্যবন্দর আলীপুর মহিপুরসহ উপকুলের আড়ৎগুলো। বন্দরের আশেপাশের লোকেরা কম দামে ইলিশ খেতে পেরে খুব খুশি। মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুর ও কুয়াকাটার আড়ৎগুলোতে রাত দিন ইলিশ বেচা-কেনায় ব্যস্ত জেলে ও আমদানি-রফতানিকারকেরা।

কুয়াকাটা ও আলীপুর-মহিপুর থেকে প্রতিদিন ট্রাক বোঝাই করে ইলিশ নেয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বড় ইলিশ বাছাই করে পাঠানো হচ্ছে দেশের বাইরে।

মৎস্য আড়ৎদাররা জানান, গত ১৫ দিনে কুয়াকাটা ও আলীপুর-মহিপুর বন্দরের আড়ৎগুলোতে প্রায় হাজার কোটি টাকার ইলিশ বেচাকেনা হয়েছে।

মহিপুরের ইলিশের আড়ৎগুলোতে দেখা যায়, প্রতিটি আড়তেই ট্রলার থেকে ঝাঁকিতে করে ইলিশ তোলা হচ্ছে খোলা ডাকে বিক্রির জন্য।

লুনা আকনের মালিকানাধীন আল্লাহ ভরসা মৎস্য আড়তে গেলে দেখা মেলে ইলিশের পাহাড়।

লুনা আকন জানান, চট্টগ্রামের মালিক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের এফবি নুপুর ট্রলারটি সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে তিনদিন পর ২২০ মন ইলিশ নিয়ে ফিরে এসেছে তার আড়তে। প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রকার ভেদে ১৪ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা দরে।

কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, জাটকা ইলিশ না ধরার ফল পাচ্ছি আমরা। জাটকা ধরার ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা সফল হয়েছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকলে আরো বেশি ইলিশ ধরা পড়বে। অপরদিকে চলতি ইলিশ মৌসুমে সাগর জলদস্যু মুক্ত থাকায় জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ ধরতে পারছেন।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা: হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, সাগরের মধ্যে চর জাগা ও বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে আগের চেয়ে এখন ইলিশ মাছ একটু কম। কিন্তু প্রজনন মওসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় এখন ভরা মওসুমে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। জেলে ও আড়তমালিকদের মুখে এখন হাসির ঝলক।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.