মুরসি
মুরসি

মুরসিকে উৎখাতে সৌদি আরব ও আমিরাতের কোটি কোটি ডলার ব্যয়!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মিসরের মতে তিউনিসিয়াতেও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল এবং এ ঘটনারও নেপথ্যে ছিল একই কুশীলবেরা। সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিউনিসিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুনসেফ মারজুকি। তিনি বলেন, মিসরের বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দিয়ে যারা গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে তারাই তিউনিসিয়ার গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তার মতে, এ ঘটনায়ও মিসরের মতো একই ষড়যন্ত্রকারীরা, একই কৌশলে কাজ করেছিল।

গত রোববার কাতারভিত্তিক আলজাজিরা টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মারজুকি বলেন, মিসরের অভ্যুত্থানের পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা হয়েছে তিউনিসিয়ায়, যদিও তারা সফল হয়নি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন মারজুকি।

২০১৩ সালে জুলাইতে নির্বাচিত হওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জে. আবদুল ফাতাহ আল সিসি। ওই ঘটনায় ইন্ধন জুগিয়েছিল সৌদি আরব, আরব আমিরাতসহ আবর ও পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ। সৌদি আরব ও আমিরাত মুরসিকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছিল। এর ফলে দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে টিকে থাকতে পারেনি মিসর।

তিউনিসিয়া থেকে শুরু হয়েছিল যে আবর বসন্তের তার ছোঁয়া লেগেছে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অনেক দেশে। যদিও শেষ পর্যন্ত আরব বসন্তের ফলাফল ভোগ করতে পারেনি অঞ্চলটির জনগণ। সামরিক শাসকদের উৎখাত করে বেশ কয়েকটি দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে চেষ্টা করলেও নানামুখী ষড়যন্ত্র ঘিরে ধরে তাদের।

সাক্ষাৎকারে মারজুকি জানান, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিউনিসয়ার বিরোধীদলীয় নেতা চোকরি বেলাইদের হত্যাকাণ্ডও ছিল ষড়যন্ত্রকারীদেরই কারসাজি। ওই সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বেন আলী সরকারের অনেক নেতাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার লক্ষ্যে পার্লামেন্টে একটি বিল আনার প্রস্তুতি চলছিল। সে সময়ে জোট সরকারকে বিপাকে ফেলতেই এসব আয়োজন চলছিলে বলে দাবি করেন মারজুকি।

সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, সে সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদুল করিম জেবিদি একটি টিভি চ্যানেলকে সামরিক হেলিকপ্টার দিয়েছিল সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ছবি সংগ্রহ করার জন্য। ছোট পরিসরে কিছু লোকের বিক্ষোভ করে ফুলিয়েফাপিয়ে বড় করে প্রচারের উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছিল।

মিসরেও একই রকমভাবে কিছু লোকের পরিকল্পিত বিক্ষোভের সূত্র ধরে ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী।

তিউনিসিয়ার সে সময়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিবিদি আগেকার বেন আলী সরকারের সময়ও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.