বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিপক্ষে সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে : মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিপক্ষে সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

আজ রোববার বিকেলে এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আজকে বির্তক তুলে এ রায়কে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। সেটা দেশের জন্য হবে ভয়ংকর এবং ভয়াবহ। এর ফলে আপনাদের পতন আরো তরান্বিত হবে বলে আমি মনে করি।

‘অর্পন বাংলাদেশ’ সংগঠনের উদ্যোগে বিরোধী আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা প্রদান উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের সভানেত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আজিমের পরিচালনায় আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিগত আন্দোলনের সময়ে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নির্যাতনে নিহত ছাত্রনেতা নুরুল আলম নুরু (চট্টগ্রাম), আজহার মিয়া (সাতক্ষীরা), মারুফ সরদার (মাগুরা) ও মো. লিটনের (নোয়াখালী) পরিবারের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পঙ্গু নেতা শাহ আলমকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।

মওদুদ আহমদ আরো বলেন, বর্তমান সরকারের যে আচরণ আমরা দেখতে পারছি এই বিচার বিভাগের ওপরে, তাতে আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিপক্ষে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমি বলতে চাই, এই যুদ্ধে আপনাদের পরাজয় ঘটবে, এই যুদ্ধে জনগনের জয় ঘটবে।

সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে মওদুদ আহমদ বলেন, একেক মন্ত্রী একেক কথা বলছে। আমি অবাক হয়ে যাই যে কেউ কেউ প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ পর্যন্ত চাচ্ছেন। এমন বক্তব্য দিচ্ছেন যেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দূঃখজনক। মন্ত্রীদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন নেমেছেন। তারা জনমত সৃষ্টি করছেন, সারা বাংলাদেশে কর্মসূচি দিচ্ছেন। কিসের জন্য? আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিচার বিভাগকে যদি অবমূল্যায়ন করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে যদি অবমূল্যায়ন করেন আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, যারাই বিচার বিভাগের ওপর হাত দিয়েছে, তাদেরই হাত পুঁড়ে গেছে। বিচার বিভাগ থাকবে ভবিষ্যতে, সংসদ চলে যাবে, সরকার চলে যাবে, রাজনৈতিক প্রশাসনও চলে যাবে কিন্তু বিচার বিভাগ থেকে যাবে।

সরকারের প্রতি আহবান রেখে তিনি বলেন, আপনাদের দায়িত্ব হলো সরকার হিসেবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আজকে আপনারা এমন একটা ক্রুসেড শুরু করেছেন যে কী করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরো প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, খুব খাটো করা যায়, ছোট করা যায়- সেই প্রচেষ্টায় আপনারা লিপ্ত। এর চাইতে দুঃখজনক আর কিছুই একটি গণতান্ত্রিক দেশে হতে পারে না।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সাম্প্রতিক বক্তব্য টেনে মওদুদ আহমদ বলেন, তার লজ্জা হওয়া উচিত। আপনি দুটি অপরাধ করেছেন। একটি অপরাধ হলো আপনি যখন ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দিলেন তখন আপনি ওপেন কোর্টে রায় ঘোষণায় বলছিলেন, জাতীয় স্বার্থে আগামী দুই টার্ম নির্বাচন অর্থাৎ ১০ বছর এই নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে পারে। কিন্তু ১৬ মাস পরে (অবসরকালীন) আপনি যে রায়টা দিলেন সেই রায়তে দুই টার্মের যে নির্বাচনের বিধানটি সরিয়ে দিলেন। এটা কী ধরণের নৈতিকতা হতে পারে? এটা একটা অপরাধ, জুডিশিয়াল ক্রাইম। আরেকটা অপরাধ উনি করেছেন, এখন বলছেন যে, মার্শাল ল’ ফরমান অনুযায়ী যে বিধান করা হয়েছিলো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এটা এখন রাখা হয়েছে। আপনি তো নিজেই এটা রেখেছিলেন অন্য কেউ রাখে নাই। বিচারপতি খায়রুল হক সরকারের বেতনভুগ কর্মকর্তা হযে যে বক্তব্য রেখেছেন তা জাতির জন্য লজ্জাজনক। তিনি সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন এখন।

এজন্য বিচারপতি খায়রুল হকের আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ খেকে নিজেই সরে যাওয়ার উচিত বলে মনে করেন মওদুদ।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.