তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জন এস ম্যাককেইন :এএফপি
তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জন এস ম্যাককেইন :এএফপি

সিঙ্গাপুরে অয়েল ট্যাংকারের সাথে মার্কিন রণতরীর সংঘর্ষ

১০ নাবিক নিখোঁজ
বিবিসি

সিঙ্গাপুর উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড পেণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস জন এস ম্যাককেইন একটি তেলবাহী ট্যাংকারের সাথে সংঘর্ষে মারাত্মক তিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ডেস্ট্রয়ারের পাঁচ নাবিক আহত এবং ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৪ এ ইউএসএস জন ম্যাককেইন নামে ওই যুদ্ধজাহাজটি সিঙ্গাপুরের পূর্বাংশে বন্দরে ঢোকার প্রস্তুতি নেয়ার সময় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী অয়েল ট্যাংকার অ্যালনিক এমসির সাথে সংঘর্ষ হয়। এটি সিঙ্গাপুর থেকে দণি কোরিয়ায় যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
যদিও তেলবাহী জাহাজের অবস্থা সম্পর্কে মার্কিন নৌবাহিনীর বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তবে ৩০ হাজার টনের তেলবাহী জাহাজ দ্য অ্যালনিক এমসি লাইবেরিয়ার পতাকা বহন করছিল। ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে। সিঙ্গাপুরের নৌবাহিনী এবং ওই এলাকায় অবস্থিত মার্কিন জাহাজ এতে অংশ নিয়েছে। সহায়তার জন্য ওই এলাকায় অবস্থান করছে সিঙ্গাপুরের পুলিশ কোস্টগার্ডের জাহাজ। এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর আক্রমণের কাজে ব্যবহৃত দুর্ঘটনা যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আমেরিকাও তল্লাশিতে যোগ দিয়েছে।
এ ঘটনার তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। অবশ্য দুই মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয় দফা মারাত্মক সংঘর্ষে পড়ল মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ। গত ১৭ জুনে কনটেইনারবাহী জাহাজের সাথে সংঘর্ষে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ফিটজেরাল্ডের মারাত্মক তি হয়েছিল। এ ঘটনায় মার্কিন সাত নাবিক নিহত হয়। জাপানের বন্দর নগরী ইউকোসুখাতর কাছে ঘটেছিল এ দুর্ঘটনা।
সংঘর্ষের ফলে ফিটজেরাল্ডের দেহে অনায়াসে ট্রাক্টর ঢুকে যাওয়ার মতো বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য ফিটজেরাল্ডের ক্যাপ্টেন কমোডর ব্রিস বেনসন এবং নির্বাহী কর্মকর্তা কমোডর সিয়েন বাবিটকে অপসারণ করা হবে। দুর্ঘটনার সময় এ দুই কর্মকর্তা ঘুমিয়ে ছিলেন। এ ছাড়া সাজা হবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের আরো ১২ নাবিকের।
দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু
উত্তর কোরিয়ার হুঁশিয়ারি উপো করেই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর বার্ষিক সামরিক মহড়া গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, উলচি ফ্রিডম গার্ডিয়ান (ইউএফজি) নামের বার্ষিক এই যৌথ সামরিক মহড়া আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
কম্পিউটারের সাহায্যে পরিচালিত এ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ সৈন্য অংশ নেবে। এ সংখ্যা গত বছরের চেয়ে কম। গত বছর বার্ষিক এ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ হাজার সৈন্য অংশ নিয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। যৌথ এ সামরিক মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ৫০ হাজার সৈন্য অংশ নিচ্ছে। গত বছরও তাদের একই সংখ্যক সৈন্য অংশ নিয়েছিল।
উত্তর কোরিয়ার সাথে লড়াইয়ের জন্য মার্কিন ও দণি কোরীয় বাহিনীকে প্রস্তুত করার কথা মাথায় রেখে মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ মহড়াকে ‘আত্মরামূলক’ বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দণি কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা ইনও এ মহড়ার ধরন ‘আত্মরামূলক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, গত মাসে দু’টি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্র পরীাসহ উত্তর কোরিয়া যেসব উত্তেজনাপূর্ণ কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে তা ঠেকানোর জন্য নিয়মিত এ মহড়াগুলো হয়।
উত্তর কোরিয়ার দাবি, এ মহড়া ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’। এ মহড়াকে বেপরোয়া আচরণ উল্লেখ করে দেশটি হুঁশিয়ার করেছে, এ ধরনের আচরণ একটি সীমাহীন পারমাণবিক যুদ্ধের নতুন অধ্যায় শুরু করবে। তবে উত্তর কোরিয়ার এ হুমকিকে উপো করেই সোমবার থেকে যৌথ মহড়া শুরু হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদার চীন এ মহড়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়াও। মার্কিন প্রতিরা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, দণি কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়ায় এবার ১৭ হাজার ৫০০ সেনা অংশ নিচ্ছেন। গত বছর এ মহড়ায় ২৫ হাজার মার্কিন সেনা অংশ নিয়েছিলেন। তবে দণি কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসংখ্যা কমিয়ে আনার কারণ উত্তর কোরিয়ার সাথে চলমান উত্তেজনা নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। তিনি বলেন, মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাদের সংখ্যা নির্ভর করে অনুশীলনের ল্য অর্জনের ওপর; যা প্রয়োজনীয় তা গ্রহণ করা হয়। এ মুহূর্তে কমান্ড পোস্ট অভিযানের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। সে কারণে যৌথ মহড়ায় সেনা কমিয়ে আনতে হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্রের পরীার বিপরীতে মার্কিন প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে জাতিসঙ্ঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। শুরু হয় দুই দেশের শীর্ষ নেতার পারস্পরিক হুমকি-ধমকি। একপর্যায়ে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ামের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পেণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। জবাবে দেশটিকে ‘ধুলায় মিশিয়ে দেয়া’র হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.