যৌ তু কে র নি র্ম ম তা

সাবিনার দিন কাটে খেয়ে-না-খেয়ে

রশিদ আনছারী চিলমারী

যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে  সাবিনা ইয়াছমিন সাথীর শিশুসন্তানসহ ঠাঁই হয়েছে মৃত পিতার বাড়িতে। বর্তমানে সাবিনা ইয়াছমিন ভাইদের ঘাড়ের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে তার দিন কাটে খেয়ে-না-খেয়ে। সাবিনা ইয়াছমিন সাথীর সাথে পাশের লখিয়ারপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মো: নুরে আলম সিদ্দিকীর বিয়ে হয় প্রায় ১২ বছর আগে। শরিয়তের বিধান ও সরকারি রেজিস্ট্রিপূর্বক সম্পন্ন হয় এ বিয়ে। 

বিয়ের কিছু দিন যেতে-না-যেতেই স্বামী নুরে আলম সিদ্দিকীর বোন নাছরীন আক্তার ও মা নুরুন্নাহার বেগম এতিম সাবিনার ওপর বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এ ছাড়া মা-বোনের কুপরামর্শে সাবিনার স্বামী যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকা ভাইদের কাছ থেকে আনতে বলে। কিন্তু সাবিনা এক দিকে এতিম অন্য দিকে গরিব। সে ভাইদের সংসারে থেকে লেখাপড়া শিখে বড় হয়েছে এবং তাদের আদর, স্নেহ ও সহযোগিতায় বিয়ে হয় সাবিনার। সাবিনা ভাইদের কাছ থেকে যৌতুক আনতে অস্বীকার করলে সবাই মিলে তার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে। ১৫ জুলাই ২০১৬ সকাল ৮টায় উল্লিখিত ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে একত্র হয়ে আবারো ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে।  ভাইয়েরা গরিব তাই যৌতুক দিতে অস্বীকার করে সে। তখন সবাই ক্ষিপ্ত হয়ে যৌতুকের দাবিতে মারধর করে। এতে তার সারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে কালো হয়ে যায় এবং পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়। পরে সন্তানসহ সাবিনাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। 

স্বামী নুরে আলম সিদ্দিকী সাবিনাকে হুমকি দেয় যৌতুক ছাড়া বাড়িতে এলে সে সংসার করবে না। এ ছাড়া সাবিনাকে সবাই মারধর করে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এ অবস্থায় সে নিরুপায় হয়ে বড়ভাই মিলন মিয়াকে সংবাদ দিলে প্রতিবেশী আবদুল মজিদ মিয়াসহ (ইউপি সদস্য হরিপুর সুন্দরগঞ্জ গাইবান্ধা) নুরে আলমের বাড়ির গেটে গিয়ে সাবিনার মুখে ঘটনার বিবরণ শুনে যৌতুক ছাড়াই সংসার করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে সাবিনার অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে উলিপুর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দু’দিন চিকিৎসার পর সে বাড়ি চলে আসে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত নুরে আলম স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজখবর নেয়নি। সন্তানসহ তার দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। 

এ ব্যাপারে সাবিনা ইয়াছমিন বাধ্য হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিনজনকে আসামি করে মামলা করে। যার নম্বর ১৮, ১৮ জুলাই ২০১৬। মামলা গাইবান্ধা কোর্টে বিচারাধীন। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া এবং মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাবিনা ইয়াছমিন জানায়, ছাত্রীজীবনে লেখাপড়া করার সময় তার শ্বশুর মো: নুরুল ইসলাম খন্দকার তাকে পড়িয়েছেন দীর্ঘ দিন। তার লেখাপড়া, চলনবলন পছন্দ করে ছেলের বউ করে নিয়ে যায় তাকে। কিন্তু বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। এ ছাড়া ছিল তার ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন। এমনকি তারা তাকে শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে শিশুসন্তানসহ তাড়িয়ে দেয়। এ জন্য সে মামলা করেছে। সে সুষ্ঠু বিচার চায়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.