আগারগাঁওয়ের ফলবীথি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগারগাঁওয়ের ফলবীথি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবেশবাদীরা।

তারা বলেছেন, পরিকল্পনায় যদি ভুল হয় কোনো সাফল্যই টেকসই হয় না। তাই এমন ফলবীথিটি ধবংস করেও উন্নয়ন পরিবেশবান্ধব হবে না।

বাংলাদেশ পরিব্শে আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), তরুপল্লব, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এবং গ্রিন ভয়েসের যৌথ উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে এদাবি জানানো হয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘আগারগাঁও প্যারেড গ্রাউন্ড সংলগ্ন জার্মপ্লাজম সেন্টারের মধ্যে মেট্রোরেল সাইট অফিস স্থাপন প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে’ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবি সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মুলবক্তব্য রাখেন বাপার যুগ্মসম্পাদক শাহজাহান মৃধা।

তিনি বলেন, আগারগাঁও সংলগ্ন জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারের পশ্চিম-দক্ষিণ অংশে একটি কেন্দ্রীয় ও প্রতিনিধিত্বমূলক বাগান স্থাপনের জন্য পাঁচ একর জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। নকশার মাধ্যমে জায়গাটির যে অবস্থান চিহ্নিত করা হয় তা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বর্তমান জাদুঘর লাগোয়া উত্তর পাশ। প্রায় ২৭ বছরের ব্যবধানে এখানে দেশী-বিদেশী ফলগাছের এক বিস্ময়কর জার্মপ্লাজম ভাণ্ডার গড়ে উঠে।

তিনি আরো বলেন, দেখা গেছে ঈদে ছুটিতে চুপিসারে বৃক্ষ নিধনসহ পরিবেশ বিনষ্টকারী অনেক কাজ করা হয়। এ বাগানের ক্ষেত্রে যাতে এমনটি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, বিশ্বের প্রতিটি শহরেই বাগানগুলোকে ফুসফুস হিসেবে বিবেচনা করে তা সংরক্ষণে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। অথচ ঢাকা মহানগরীর বাগানগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই ফলবীথিটি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক হামিদুর রহমান মাতৃ-বাগান ঘিরে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহবান জানান।

তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন বলেন, প্রতিবছর যেখানে আনন্দঘন পরিবেশে লাখ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয় সেখানে ৭৩৯টি মাতৃগাছ কেটে ফেলা কোনো যৌক্তিক কাজ হতে পারে না। প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করার মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই। জাতীয় স্বার্থে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশ যেন লংঘিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তিনি।

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান পরিবেশবান্ধব নগরী নিশ্চিত করতে মাতৃবাগানসহ মহানগরীর অন্যান্য বাগানোগুলোও রক্ষার আহবান জানান।

বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, নগরের প্রাকৃতিক ভারসাম্যতা এবং খাদ্য ও পুষ্টির প্রয়োজনে, সর্বোপরী জাতীয় স্বার্থেই একটি বিকল্প স্থানে মেট্রোরেল তাদের নির্মাণ কাজের জন্য চেষ্টা করবেন, এটিই আমাদের দাবি। সংবাদ সম্মেলনে হটিকালচার সোসাইটির কার্যকরী সদস্য আফজাল হোসেন, বাপা’র যুগ্মসম্পাদক মিহির বিশ্বাসও বক্তব্য রাখেন।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.