অসম প্রেম নিষিদ্ধ!
অসম প্রেম নিষিদ্ধ!

অসম প্রেম নিষিদ্ধ!

বিবিসি

তরুণী রাজকুমারীর শিশু প্রেমিক : ধারাবাহিক নাটক 'পেহরেদার পিয়া কি'র একটি দৃশ্যছবির

'পেহরেদার পিয়া কি' নাটকটি ভারতের সনি টিভিতে দেখানো হচ্ছিল গত জুলাই মাস থেকে। কিন্তু শুরু থেকেই এটিকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক চলছিল। ছবির কাহিনীর সঙ্গে বাংলা লোককাহিনী রূপবানের অনেক মিল।

রাজপরিবারের সুন্দরী রাজকুমারী দিয়া। প্রথম দর্শনেই তার প্রেমে পড়েছে নয় বছরের বালক রতন কানওয়ার।
রাজকুমারী দিয়ার পিছু পিছু ঘুরে বেড়ায় রতন। তার ছবি তোলে। তাকে 'তেলাপোকা'র কবল থেকে বাঁচায়। তরুণী রাজকুমারী তার নয় বছরের 'প্রেমিকের' গাল টিপে দেয়, চুমু খায়। প্রেমিকের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে রসিকতা করে।

এর মধ্যে রাজপ্রাসাদে চলে নানা ষড়যন্ত্র। দুষ্টু আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রে নিহত হন রতনের মা, গুরুতর আহত হন তার বাবা। মৃত্যুশয্যায় রতনের বাবা রাজকুমারী দিয়ার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করেন তার ছেলেকেই যেন বিয়ে করে সে।

কিন্তু এই অসম প্রেমের কাহিনী টিভিতে দেখানো নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি উঠে। এটিতে বাল্যবিয়েকে মহিমান্বিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন অনেকে। আর এই বিতর্কে শেষ পর্যন্ত সনি এনটাইরটেইনমেন্ট টেলিভিশন মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা এর প্রচার বন্ধ করে দিচ্ছে।
'পেহরেদার পিয়া কি' (স্বামীর রক্ষী) কেন বন্ধ করে দেয়া হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা অবশ্য সনি দেয়নি।

মুম্বাইভিত্তিক একটি এনজিও 'জয় হো ফাউন্ডেশন" অবশ্য শুরু থেকেই এটি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিল। তারা বলেছিল একটি শিশুদের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এটির সমালোচনা চলছিল।

একজন ভারতীয় সাংবাদিক মেঘা মাথুর বলছেন, এই টিভি সিরিয়ালটির প্রথম কয়েকটি পর্ব যখন দেখানো হয়, তখনো পর্যন্ত জনমত ছিল বিভক্ত। নয় বছরের শিশুটি ১৮ বছরের তরুণীর পেছনে লেগেছে বলে সমালোচনা করছিলেন অনেকে। কিন্তু অন্য অনেকে আবার এটি পছন্দ করছিলেন। কিন্তু পঞ্চম পর্বে যখন ছেলেটি একজন পরিণত প্রেমিকের মতো আচরণ শুরু করলো, তখন আর অনেকে এটা মেনে নিতে পারছিলেন না।

এর বিরুদ্ধে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্মৃতি ইরানীর কাছে অনেক অভিযোগ আসতে থাকে। জয় হো ফাউন্ডেশন এক চিঠিতে বলে, 'একটি শিশু তার দ্বিগুণ বয়সের এক তরুণীকে আলিঙ্গন করছে, তার পেছনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের মধ্যে এক ধরণের যৌন সম্পর্ক তৈরি করছে- একটি শিশুকে এখানে অত্যন্ত অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।'

অনলাইনে এটির বিরুদ্ধে এক আবেদনে সই করেন এক লাখের বেশি মানুষ। এরপর সম্প্রচার মন্ত্রী ভারতের ব্রডকাস্টিং কনটেন্ট কমপ্লেইন্ট কাউন্সিলের (বিসিসিসি) কাছে চিঠি লিখেন।
বিসিসিসি এরপর নির্দেশ দেয় টিভি সিরিয়ালটি যেন রাত সাড়ে আটটার পরিবর্তে রাত সাড়ে দশটার পরে দেখানো হয়। এবং টিভি সিরিয়ালটির শেষে 'আমরা বাল্য বিয়ে সমর্থন করি না' এমন একটি বার্তা প্রদর্শনেরও নির্দেশ দেয়।

কিন্তু এতেও কাজ হয়নি। টিভি সিরিয়ালটির সমালোচনা বাড়তেই থাকে।
চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সনি টিভি অবশেষে এই সিরিয়ালটির প্রচার বন্ধের ঘোষণা দেয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.