কমলাপুর পশুর হাট থেকে ছাগল কিনে রিকশায় নিয়ে যাচ্ছেন এক নারী
কমলাপুর পশুর হাট থেকে ছাগল কিনে রিকশায় নিয়ে যাচ্ছেন এক নারী

কোরবানির পশুহাট জমে উঠেছে

খালিদ সাইফুল্লাহ

আর এক দিন পরই কোরবানির ঈদ। এ জন্য কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠেছে। গতকাল রাজধানীর সব হাটেই ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা বৃষ্টির কারণে কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে প্রতিটি হাট। তারপরও ভোগান্তি উপেক্ষা করেই পছন্দের পশু কিনতে হাটে আসেন কোরবানিদাতারা। বৃষ্টির কারণে আতঙ্কে কিছুটা দাম কমিয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারাও। তবে দাম এখনো বেশি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। 

গতকাল রাজধানীর কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ক্রেতার সঙ্কট থাকলেও গতকাল সকাল থেকেই হাটে ক্রেতারা আসতে থাকেন। ঈদের মাত্র এক দিন বাকি থাকায় রাজধানীবাসী নিজ নিজ পছন্দ মতো কিনে নিচ্ছেন কোরবানির পশুটি। তবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। অনেক হাটে পানি জমে যায়। এতে কেনাবেচায় ছন্দপতন ঘটে। বৃষ্টির কারণে বিক্রেতারাও বিপাকে পড়েন। প্রয়োজনমতো ছাউনি না থাকায় গরু-ছাগল বৃষ্টিতে ভিজে কাবু হয়ে পড়ে। বৃষ্টির কারণে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় হাট। ক্রেতাদের চলাচলে বেশ সমস্যা সৃষ্টি হয়। তারপরও বিকেলে প্রতিটি হাটেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ঢল নামে। হাটে গরু-ছাগলের প্রচুর আমদানি থাকায় এবং বৃষ্টি হওয়ার কারণে বিক্রেতারা গত কয়েক দিনের চড়াভাব কিছুটা কমিয়ে আনেন। তারপরও দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেন। 

রাজধানীর গাবতলী, কমলাপুর, আফতাব নগর, শাজাহানপুর ও গোলাপবাগ এলাকার কোরবানির পশুর হাটে সরেজমিন দেখা যায়, হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে পা রাখার ঠাঁই নেই। হাটে কোরবানির পশু কিনতে আসা ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাসাবাড়িতে কোরবানির পশু রাখার সঙ্কট থাকায় হাটের শুরুতে পশু কেনা হয়নি। এখন হাটের শেষ সময় বলে পশু কিনতে এসেছেন তারা। 

বাসাবো থেকে কমলাপুর অস্থায়ী গরুর হাটে গরু কিনতে আসা মিজানুর রহমান বলেন, আমি ৭০ হাজার টাকা বাজেট নিয়ে গরু কিনতে এসেছি। এখনো পছন্দ হয়নি। গতকাল এসেও ফিরে গেছি। বিক্রেতারা গরুর দাম প্রথম দুই দিন থেকে কিছুটা কমালেও এখনো বেশ বেশি। যে গরু ৭০ হাজার মনে হয় তা এক লাখ টাকার নিচে দিতে চাচ্ছে না। আরিফুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, বেলা ১১টায় হাটে এসেছি। কিন্তু পছন্দের সাথে দাম মিলাতে পারছি না। ব্যবসায়ীরা বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন।

কুষ্টিয়া থেকে কমলাপুর হাটে আসা গরু ব্যবসায়ী হাসান আলী জানান, তারা কয়েকজন মিলে ৩৪টি গরু এনেছিলেন। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ১২টি বিক্রি হয়েছে। পাবনা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী শফিক হোসেন বলেন, তার ২৫টি গরুর মধ্যে গতকাল দুপুর পর্যন্ত বিক্রি হয় আটটি। 
খিলগাঁও তিলপাপাড়া থেকে শাজাহানপুর মৈত্রী সঙ্ঘের মাঠে আসা ক্রেতা আজিজুল ইসলাম বলেন, এবারের কোরবানির হাটে যথেষ্ট পরিমাণ কোরবানির পশু এসেছে। দামও ক্রেতার হাতের নাগালে আছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, আমি ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। এ দামে কিনতে পেরে আমি খুশি। গোলাপবাগ হাটে আসা সুজন মোল্লা নামে ক্রেতা বলেন, তিনি দু’টি গরু কিনেছেন। গতকাল একটি গরু কেনেন হাসিলসহ ৭৮ হাজার টাকায়, এক দিন আগে একটি কিনেছিলেন ৫৬ হাজার টাকায়। ছোটটির দামে সন্তুষ্টি থাকলেও বড় গরুটির দাম ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা হলে ঠিক ছিল বলে মনে করেন তিনি। 

গাবতলী পশুর হাটে কোরবানির পশু কিনতে আসা ক্রেতা আরেফিন খান বলেন, ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। দাম কিছুটা বেশি হলেও আমি খুশি। আজকে হাটে মানুষ অনেক বেশি, তাই গরু কিনতে অনেক কষ্ট হয়েছে। তার পরও কোরবানির জন্য গরু কিনতে পেরে ভালো লাগছে।

আফতাব নগর হাটে আসা ক্রেতা হাফিজুর রহমান গতকাল সকালে বলেন, বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। আজ হাটে ক্রেতা বেশি থাকায় বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছেন। এখন চলে যাচ্ছি রাতের দিকে আবার আসব। তবে বিকেলে বাজার ঘুরে দেখা যায় বৃষ্টির কারণে বিক্রেতারা আগের থেকে দাম কিছুটা কমিয়ে চাচ্ছেন। 

ক্রেতাদের দাম বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করছেন বিক্রেতারা। তারা বলছেন, দাম ঠিকই আছে। খাদ্যের দাম ও গোশতের দাম সব মিলিয়ে কোরবানির পশুর দাম বেশি হাঁকানো হচ্ছে না।

আফতাব নগর হাটের বেপারী হাবিব মিয়া বলেন, কেনাবেচা আজ অনেক ভালো হচ্ছে। হাটে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু রয়েছে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ হবে। এ বছর পশুর দাম বেশি কি না প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দাম বেশি নেয়া হচ্ছে না। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী কোরবানির পশুর দাম ঠিকই আছে।

বিক্রেতা বেলায়েত হোসেন বলেন, বাজারে কেনাবেচা ভালো হচ্ছে। আশা করি এবার লাভবান হতে পারব।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.