আত্মহত্যার জন্য দায়ী গেম!

আহমেদ ইফতেখার

আত্মহত্যায় প্ররোচনা জাগায় এমন এক গেম নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। এই গেমটির নাম ব্লু হোয়েল গেম যা ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ নামেও পরিচিত। এই গেমে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে দেয়া হয়, পুরো কাজের সিরিজ সম্পন্ন করার জন্য সময় থাকে ৫০ দিন। প্রতিটি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর একটি করে ছবি পাঠাতে হয় গেমারকে। একদম সব শেষে চূূড়ান্ত কাজ হিসেবে খেলোয়াড়কে আত্মহত্যা করতে বলা হয়।
২০১৩ সালে রাশিয়ায় ‘এফ ৫৭’ নামে যাত্রা শুরু করে গেমটি। এই গেম খেলার কারণ প্রথম আত্মহত্যার অভিযোগ আসে ২০১৫ সালে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ফিলিপ বুদেইকিন নামের এক সাবেক মনোবিদ্যা শিক্ষার্থী এই গেম বানিয়েছেন। তার দাবি, এই গেমের উদ্দেশ্য হচ্ছে- সমাজে যাদের কোনো মূল্য নেই বলে তিনি বিবেচনা করেন তাদের আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করার মাধ্যমে সমাজকে পরিষ্কার করা। বুদেইকিনকে রাশিয়ায় আটক করা হয়েছে। তার গেমের জন্য ‘অন্তত ১৬ জন কিশোরী আত্মহত্যা’ করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে এই গেমের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উত্তর প্রদেশের হামিরপুর জেলায় এই গেমের একজন শিকার হয়েছেন। পার্থ সিং নামের ১৩ বছর বয়সী এই কিশোরকে মাওদাহা গ্রামে তার নিজ শোবার ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ষষ্ঠ শ্রেণীর এই শিক্ষার্থীর হাতে তার বাবার ফোনটি পাওয়া যায়। ওই কিশোরের মরদেহ যখন নামানো হয় তখন ফোনটিতে গেমটি চলছিল। পার্থের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি কয়েকদিন ধর এই গেমটি খেলছিলেন।
কয়েকদিন আগে ভারতের বিবি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির রেজিস্ট্রার এই গেম নিয়ে এক শিক্ষার্থীর সন্দেহভাজন আচরণের বিষয়ে দেশটির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট ওয়েস্ট বেঙ্গলের এক কর্মকর্তাকে অভিহিত করেন। প্রকৌশল বিভাগের ওই শিক্ষার্থী দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার এক বাসিন্দা। তিনি ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জের অষ্টম লেভেল পর্যন্ত পৌঁছেছেন। পরে ওই শিক্ষার্থী বলেন, আপনি ফেরত আসতে পারবেন না। এই গেমটি খেলার চেষ্টা করলে আপনি নিজেকে মেরে ফেলতে বাধ্য হবেন। আমি অনেক ভাগ্যবান যে, আমার কলেজ কর্তৃপক্ষ আর বন্ধুরা ও সেই সাথে সিআইডি আমাকে কাউন্সেলিং ও দিকনির্দেশনার দেয়ার মাধ্যমে আমাকে এই পরিস্থিতি থেকে উঠে আসতে সহায়তা করেছে। বর্তমানে ভারতের সিআইডি এই গেইম খেলার ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কতা ছড়াতে প্রচারণা চালাচ্ছে। দেশটিতে হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে পড়ায় ভারত সরকার গুগল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মাইক্রোসফট আর ইয়াহুর মতো ইন্টারনেট জায়ান্টগুলোকে এই গেমটির লিংক সরাতে জোর দিচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.