ডায়াবেটিস রোধে প্রাণখোলা হাসি

ডা: নাহিদ ফারজানা

৬১ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হিরাকু ওহটা টোকিওর নিকটবর্তী এলাকায় বাস করেন। গত ২৬ বছর ধরে তিনি ডায়াবেটিসের রোগী। ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করেছেন, কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করেছেন। এগুলো কাজও করত, কিন্তু চাকরিজীবনে বদলি আতঙ্কের ফলে মানসিক চাপে পড়তেন প্রায়ই। তখন অবস্থার কিছুটা অবনতি হতো। এ বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি একটি গবেষণামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন, যা তাকে এ রোগ সম্বন্ধে দিয়েছে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি।
এ পরীক্ষা শুরু হয়েছিল দুপুরের খাবার গ্রহণের মাধ্যমে, সাথে ছিল শিক্ষামূলক লেকচার। সে সময় ওহটার রক্তে চিনির মাত্রা ছিল ৩৩৮ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার। পরের দিন ওহটা একই খাবার গ্রহণ করেছেন, এ সময় তিনি একটি কমেডি শোতে অংশগ্রহণ করেছেন, যা তাকে প্রাণখুলে হাসতে সাহায্য করে। খাবারের পর দেখা গেল, ওহটার রক্তে চিনির মাত্রা কমে ২৫২ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারে এসে দাঁড়িয়েছে, উন্নতি হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। চিকিৎসক কইচি কাওয়াই এবং তার দল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা অন্য ১৮ জন ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রেও একই ফল পেয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত হাসিই পারে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে রাখতে। ওহটা বলেন, এর ফলে আমি খুবই চমৎকৃত হয়েছি।
হাসি কিভাবে রোগের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, তার কারণ জানতে গবেষকেরা এখনো কাজ করে যাচ্ছেন। তারা ছয় মাস ধরে নিয়মিত টিভি ও ভিডিওতে কমেডি শো দেখতে থাকা ২০ রোগীকে বলেছিলেন, এ পরীক্ষা শুরুর আগে তাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা মেপে রাখতে এবং পরে তারা তাদের ডিএনএ টেস্ট গবেষক দলকে দিয়েছেন। এই গবেষণা কর্মসূচির প্রথম উদ্ভাবক টিছকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার কাজু মুরাকামি বলেন, আমি আসলে জানতে চাই হাসি কিভাবে আমাদের জিনের ওপর কাজ করে। হিরাকু ওহটা এ গবেষণায় একজন স্বেচ্ছাসেক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, এই গবেষণা থেকে আপাতত যে শিক্ষা পেয়েছি তা হলো, একটি ভালো হাসিই পারে ভালো রাখতে।

লেখিকা : কনসালট্যান্ট ডেন্টাল সার্জন, নাহিদ ডেন্টাল কেয়ার, ১১৭/১, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
ফোন : ০১৭১২২৮৫৩৭২

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.