আর্টিকেরিয়া বা পিঁপড়াবাত

ডা: ওয়ানাইজা রহমান

আর্টিকেরিয়া বা পিঁপড়াবাত বলতে কী বোঝায় তা কমবেশি সবারই ধারণা আছে। তবুও সাধারণভাবে বুঝাতে গিয়ে একটি উদাহরণ দেয়া যাক। যেমনÑ কেউ চিংড়ি মাছ, বেগুন, গরুর গোশত ইত্যাদি খাবার গ্রহণের সাথে সাথেই শরীর চুলকাতে থাকে এবং জায়গায় জায়গায় চাকা হয়ে ফুলে যয়। এই ফুলে যাওয়াকেই আর্টিকেরিয়া বলে।
চিংড়ি, ইলিশ, গরুর গোশত, বেগুন ইত্যাদি খাবারে আর্টিকেরিয়া হয় বলে সবারই ধারণা আছে। তবে এর বাইরে অনেক খাবারেই এমনটি হয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এক, দুই অথবা বড়জোর তিন প্রকারের খাবারে পিঁপড়াবাত হতে পারে। সব ধরনের খাবারেই পিঁপড়াবাত হয় এমন অভিযোগ অনেকে করে থাকেনÑ এটি ঠিক নয়, এটা সম্পূর্ণ মানসিক ব্যাপার।
সাধারণ মানুষের ধারণা নেই এমন কিছু খাবারের নাম দেয়া হলো, যা থেকে পিঁপড়াবাত হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, একজাতীয় খাবার থেকে সবারই পিঁপড়াবাত হবে না। যে দু-একজনের কপাল খারাপ, তাদেরই হয়ে থাকবে, হয়তো বা পৃথিবীর সবচেয়ে মজাদার মাছ ইলিশই সেই দুর্ভাগা ব্যক্তি খেতে পারছেন না।
নারকেল, কলা, মিষ্টিকুমড়া, পুঁইশাক, টমেটো, রসুন, পেঁয়াজ, বাদাম, চকোলেট, চিজ, শূকরের মাংস, পাউরুটি, সস, ভিনেগার, মদ, কোক, পেপসি, ফান্টা ইত্যাদি ড্রিংক, জেলি, কাস্টার্ড, পুডিং, কেক, ব্যাঙের ছাতা ইত্যাদি আরো অনেক খাবারে এমনটি হতে পারে।
ধরা যাক, চিংড়ি মাছ খাওয়ার পর কারো শরীরে পিঁপড়াবাত দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন। চিকিৎসক বললেন, চিংড়ি মাছ আর কখনো খাবেন না। রোগী এটি মানতে চান না। বলেন, আমার বয়স ৫০ বছর। এত বছর চিংড়ি খেয়েছি কোনো সমস্যা হয়নি। এখন হবে কেন? হ্যাঁ তাই, কোনো খাবার অনেক দিন খেতে খেতে অতিসংবেদনশীলতার সৃষ্টি হয় (সবার ক্ষেত্রে নয়), আর একবার এই অতিসংবেদনশীলতার সৃষ্টি হলে পরে এসব খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই আর্টিকেরিয়া বা পিঁপড়াবাত হয়ে থাকে। সুতরাং ওই জাতীয় খাবার আর খাওয়া চলবে না।
খাবার ছাড়াও আরো অনেক কারণে পিঁপড়াবাত হতে পারে। যেমনÑ (ক) কিছু কিছু ওষুধ সেবনে : পেনিসিলিন, এসপিরিন, কোট্রাসক্সাজন, ভিটামিন, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ইত্যাদি। (খ) নিঃশ্বাসের সাথে শ্বাসনালীতে যায় এমন জিনিস : ঘাসের ময়লা, পাখির পালক, ধুলোবালু, তুলা, গবাদিপশুর ময়লা, অ্যারোসল, কসমেটিক, ফুলের রেণু। (গ) দাঁতে ক্ষয়, ক্রনিক টনসিল ইনফেকশন, ক্রনিক গলব্লডার ইনফেকশন, ক্রনিক সাইনাস ইনফেকশন, পেটে কৃমি, ফাইলেরিয়া ইত্যাদি অবস্থায় আর্টিকেরিয়া হয়। (ঘ) অতিরিক্ত মানসিক চাপ। (ঙ) সূর্যের আলো, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও গরম। (চ) যেকোনো তাপমাত্রার পানি (গোসলের সময়)। (ছ) কখনো কখনো ব্যায়াম করার পর। (জ) মশা, মাছি, ছারপোকা, মৌমাছি ইত্যাদির কামড়।
এসব কারণের ভেতর আর্টিকেরিয়ার একটি প্রকারভেদকে (মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি) এনজিও ইডিমা বলে। এ অবস্থায় ঠোঁট ও চোখের পাপড়ি ফুলে যায়। পেট ব্যথা শুরু হতে পারে এবং ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে। একপর্যায়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে রোগী মারা যেতে পারে। যদি চোখের পাপড়ি ও ঠোঁট ফুলে যায় তবে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। এ ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশে আর্টিকেরিয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অ্যান্টিহিস্টাসিন এলাট্রল/মেট্রিন (১০ মি.গ্রাম)-এর একটি ট্যাবলেট খেয়ে নেবেন, যদি চুলকানি না কমতে থাকে তবে এক ঘণ্টা পর আরো একটি খেয়ে নেবেন।
যদি প্রতিদিনই এ অবস্থা হতে থাকে তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে চিকিৎসা নিলে ভালো হয়।
লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।
চেম্বার : দি বেস্ট কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ২০৯/২, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
ফোন : ০১৬৮২২০১৪২৭

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.