গোশত ভর্তা

ছাবিকুন নাহার

হাই/হ্যালো/সালাম।হাই/হ্যালো/সালাম।সুপ্রিয় ভোজনপ্রিয় বাংলার খাদক জনতা আপনাদের সবাইকে আমার প থেকে লালজবার মনমাতানো ঘ্রাণের শুভেচ্ছা। বরাবরেই মতোই আপনাদের প্রিয় ‘লাইভ রান্না’ নিয়ে আপনাদের মাঝে আমি হাজির হয়েছি কারিনার মা জরিনা। কেমন আছেন, বন্ধুরা? অবশ্যই ভালো নেই। কারণ আমার রান্নার রেসিপি না পেয়ে হয়তো আপনাদের চুলায় এখনো আগুন ধরেনি। সেই সুবাদে হয়ত আপনাদের খাবারের দেখাও মিলেনি। আর নেই চিন্তা! এই তো আমি চলে এসেছি আজকের মতো আপনাদের সামনে গোশত ভর্তা নিয়ে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও হয়ত তা উঠে যাবে আপনাদের পেটে একটা ফাজিল টেবলেট নিয়ে। আচ্ছা, আর কথা না বাড়িয়ে আমরা সরাসরি চলে যাবো রান্নায়। আমি আবার একটু কম কথা বলি। সে জন্য হয়তো আপনাদের বুঝতে কষ্ট হবে। আর যদি গাধার মতো মাথা নিয়ে না বুঝেন তাহলে তো কমেন্টবক্স আছেই। আমার কাছে কমেন্ট করে ফেলবেন সাথে সাথেই।যাই হোক, এবার রান্নায় আসি।রান্না করার আগে আপনাদের জানিয়ে রাখি যে, যদি আপনারা গোশত ভর্তা করতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের যা যা প্রয়োজন :১. দু’টি হাত (প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম)২. দু’টি চোখ। (চশমা থাকলে আরো বেশি ভালো।)৩. একটি মোরগ ( মুরগি হলেও চলবে। কারণ চামড়া ছাড়া মুরগীর পেট থেকে ডিম ফেলে দিলে মুরগ আর মুরগী একটাই। খেয়াল রাখবেন ডিম যাতে পেটে ভুল করে থেকে না যায়।)৪. মরিচের গুঁড়া (প্রয়োজনমতো)৫. একটি হাতুড়ি।৬. একটি চুলা (মাটি বা লোহার হলেই হবে।)
আমরা এই গোশত ভর্তাকে দুই ভাগে ভাগ করতে পারি।
প্রথমতআপনি একটি ব্রয়লার বা দেশী মুরগি নিন। যদি স্বাস্থ্যের অবস্থা হারকিউলিসের মতো হয় তবে ব্রয়লারই বেটার। আর যদি আপনিও ব্রয়লার মুরগির মতোই সারা দিন শুয়ে খেয়ে দিন কাটান তবুও ব্রয়লার ভালো। তা না হলে স্বামী আর স্ত্রী একসাথে রান্না করতে গেলেও ভর্তা হবে না।এবার চামড়া ছিলানো মুরগিটাকে দেহ থেকে আলাদা করে একটা শক্ত লোহার কোনো কিছুর ওপর রাখুন। এবার একটা এনার্জি ড্রিঙ্ক খেয়ে তিন কেজি ওজনের হাতুড়ি চালান মুরগির ওপর। দেখুন, কেমন ভর্তা হয়ে গেছে! এবার এইগুলোতে মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পরিবেশন করুন। কী কেমন যেন একটা আদিম মানুষের মতো ফিলিংস আসছে না? আসবেই না বা কেন! কাঁচা গোশত খেয়েছেন তো!!!
দ্বিতীয়তএই রেসেপিটা আগের চেয়েও অনেক সহজ। এটাতে একটুও এনার্জি ড্রিঙ্ক খেতে হবে না! শুধু হাতের চামড়াটা একটু মোটা হলেই হবে। কারণ মরিচের গুঁড়ার পরশে হাত জ্বলতে পারে।এই পদ্ধতিতে আপনি প্রথমেই যেই কাজটা করবেন তা হলোÑ চুলায় এক হাঁড়ি পানি বসিয়ে দিন। ঘণ্টাখানেক তাপ দেয়ার পর তাতে মুরগিটা ছেড়ে দিন। এবার নামিয়ে দুই হাতে মরিচ লাগিয়ে নিন। যাতে হাত পিচ্ছিল হয়ে না যায়। এবার মুরগিটাকে দুই হাতে ঢলে ভর্তা করে নিন। এখন আর মরিচের গুঁড়া মেশাতে হবে না। যেটুকু হয়েছে তাতেই হসপিটালে চলে যাবেন আশা করি।দর্শক এই দুই রেসিপি পেয়েই আমাকে অনেকেই কমেন্ট করেছেন। আসুন! সেগুলো একটু দেখে নেই।‘পটোলের মা’ নামে একজন কমেন্ট করেছেন,‘এটা কি পটোল দিয়েও চলবে?’উত্তর : ভাবী চালালে সবই চলে। চেষ্টা করে দেখতে পারেন।‘সুন্দরী রাুসনী’ আমাদের কমেন্টে জানিয়েছেন যে, হাজবেন্ডকে দিবো নাকি একাই খেয়ে ফেলব?উত্তর : হাজবেন্ড যদি আপনাকে খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে খেতে পারেন। আমাদেরকে আরো অনেকেই কমেন্ট করেছেন সময়ের জন্য আজ আর হচ্ছে না। আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন, রেসেপিগুলো মনে রাখবেন।ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.