কাউকে টাকা ধার না দিতে চাইলে যা করতে পারেন

এস আর শানু খান

মজনু বিয়ে করবে। কয়েকজন বন্ধুর সাথে পরামর্শ নিলে বন্ধুরা জোরগলায় একাগ্রতা ঘোষণা করে বলেন ঠিক আছে করে ফেলো কোনো সমস্যা নেই আমরা তো আছি। টাকা-পয়সা যখন যে সাহায্য লাগে শুধু বলবি। আরে আমরা তো আছি নাকি? গজা খান খুবই সরল বিশ্বাসের মানুষ। বন্ধুদের কথায় ভরসা করে ও নিজের ভালোবাসায় ভেসে বাড়িতে না জানিয়ে চুরি করে বৌয়ের টাকায় বিয়ে করে ফেলল। চার মাস পর উপায়-টুপায় না দেখে মেয়ের বাড়ির বিয়ের চাপে মেয়েকে নিয়ে পালাল। বউ নিয়ে যখন গজা খান পালাল তখন তার পকেটে মাত্র তিন শ’ তিন টাকা। সারা অঞ্চলে মিছিল বয়ে গেল। সমালোচনার ঝড় উঠল চারিদিকে। যে মানুষগুলো গজা খানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দেখে হিংসার আগুনে ভেতরে ভেতরে জ্বলেপুড়ে মরত সেসব মানুষা গলা বাজিয়ে গজা খানের নামে বিভিন্ন কেলেম রটাতে লাগল। গজা খানের টাকাও শেষ হয়ে এলো ধীরে ধীরে। বন্ধুরা ফোনের পর ফোন করে উৎসাহ দিতে লাগল। আর বলতে লাগল কোনো সমস্যা নেই। চিন্তা করিস না। টাকা-পয়সা আছে। গজা খান খুবই লাজুক স্বভাবের। গজা খান যতবার বলল যে না টাকা আছে আমার কাছে সেসব বন্ধুরা আরো বেশিবার ফোন করে করে টাকা নেয়ার জন্য প্রস্তাব দিতে লাগল। অবশেষে যখন সত্যি সত্যি গজা খানের টাকার প্রয়োজন পড়ল এবং কয়েকজন বন্ধুকে জানাল তখনই বন্ধুদের আসল কেলো-কীর্তি শুরু হলো।

১.
দোস্ত তোর এমন অবস্থা শুনে সত্যিই আমার চোখে পানি চলে এসেছে। নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না কিছুতেই। কিন্তু কিভাবে যে বলি ...! আসলে হয়েছে কী আমার হাতে এখন একটা টাকাও নেই। এমন সময়ই তুই চাইলি যে আমি তোর উপকারে আসতে পারলাম না। কিছু মনে করিস না দোস্ত!
২.
গজা খান : হারে কাঞ্চন!! ফোন ধরিস না কেন? আমি তোকে ফেসবুকে এস এম এস দিলাম দেখলি কিন্তু উত্তর দিলি না কেন?
কাঞ্চন : আসলে কী হয়েছে জানিস। আমার ফেসবুক আইডিটা না আমার ছোট ভাইও চালায় মাঝে মধ্যে। তোর মেসেজ মনে হয় তাহলে ওই দেখেছিল।
গজা খান : সে না হয় বুঝলাম কিন্তু ফোন ধরিস না কেন?
কাঞ্চন : দোস্ত তুই যখনই ফোন দিস ঠিক তখনই আমি হয়তো ফোনে কাছে থাকি না আর না হলে আমি এমন একটা পরিবেশের মধ্যে থাকি যে ফোন ধরতে পারি না।
গজা খান : মিসড কল দেখে পরে তো একবার মিসড কল দিতে পারিস নাকি? নাকি ফোনেও টাকা ঢুকাস না?
কাঞ্চন : আর লজ্জা দিস না দোস্ত। তুই হয়তো বিশ্বাস করবি না। আমি গত দুই মাসের মধ্যে একবারও টাকা ঢুকাইনি।
গজা খান : টাকা-পয়সা আছে নাকি হাতে?
কাঞ্চন : হ্যালো..হ্যালো..হ্যালো..কিরে কথা শোনা যায় না কেন! হ্যালো!
৩.
গজা খান : হ্যালো! কেমন আছিস ফরাদ?
ফরাদ : ভালো আছি! তুই কেমন আছিস...! তোর বউ কেমন আছে? ভালোই চলছে তাই না?
আর চলছে নারে। টাকা-পয়সার খুব টানাপড়েন পড়েছে। যে টাকা নিয়ে বাড়ির বের হয়েছিলাম সেগুলো শেষ। এখন হাতে একটা টাকাও নেই।
ফরাদ : দুঃখের কথা আর কী বলব যে, আমার কাছেও যদি টাকা থাকতো তাহলে তোর উপকারে আসতে পারতাম। এমন সময়ই এমন কাজ হলো আমার কাছেও এক টাকাও নেই। আমি উল্টো ধারদেনা করে চলছি।
গজা খান : কেন সেদিন না তুুই বললি যে তুই বিশটার মতো টিউশনি করস। খুব বিলাসীতার মধ্যে পার করিস।
ফরাদ : ছিল না তা ঠিক নয়! ছিল এই তো সকালেই মেসের এক বড় ভাই ধার নিয়ে বাড়ি গেল। না হলে তো তোকে দিতে পারতাম। আচ্ছা শোন ওই ভাই সামনের মাসে মেসে আসবে। এসে দিলে আমি তোকে দিবো। তুই অন্য কারো কাছ থেকে নে।
৪.
গজা খান : কিরে মকলেস কী অবস্থারে। ভুলেই গেলি নাকি। সেই যে কবে ফোন দিয়ে কথা বললি পরে তো একবার শুনলি না যে আমি কেমন আছি? তোর ভাবি কেমন আছে?
মকলেস : খুব ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় পার হচ্ছে বন্ধু। কোম্পানিতে প্রচুর কাজ। ওভার টাইম খাটছি প্রচুর পরিমাণে। গত মাসে ওভার টাইমের বেতনই পেয়েছি ২২ হাজার। এ মাসে তিরিশ পার করেই ছাড়ব।
গজা খান : দোস্ত খুব খারাপ অবস্থার তার মধ্যে আছি রে। কিছু টাকা দিবি। সপ্তাহখানেক পরে আবার দিয়ে দিতাম।
মকলেস : মানে... মানে... কিভাবে যে বলি। আমি তোকে বলেছিলাম না যেন এই মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরব। কাগজপত্র বানানোর জন্য অনেক টাকা লেগে গেছে। এমন সময়ই বললি...
গজা খান : আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে এই মাসে শিওর দেশে আসছিস...! শুনে খুব ভালো লাগল। তাহলে আয়।
৫.
গজা খান : হ্যালো ! হ্যালো! এই আলতু! কেমন আছিস?
আলতু : ভালো নারে ভাই। এইমাত্র মকলেসের সাথে কথা হলো।
গজা খান : মকলেসের সাথে কথা বললে কী আর ভালো থাকা যায়। ঠিক আছে বুঝতে পেরেছি। ভয় পাস না। টাকা ধার চাবো নারে। কমলাকান্তের মতো ‘যাত্রা দেখার স্বাদ আর এখানেই মিটেছে’।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.