বাংলাদেশের উন্নতি দেখাতে চান কৃষ্ণারা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সমস্যাটা হয়ে গেছে গ্রুপিংয়ে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, রানার্সআপ জাপান ও মহিলা ফুটবলের বিশ্বের ৬ নম্বর দল অস্ট্রেলিয়া। এদের টপকে সেমিফাইনালে যাওয়া এরপর ২০১৮ উরুগুয়ে বিশ্বকাপে খেলা কোনো স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস নেই কৃষ্ণা-স্বপ্নাদের।

এর পরও আজ (শুক্রবার) ১৬ মহিলা দল থাইল্যান্ড যাচ্ছে এএফসির চূড়ান্ত পর্বে খেলতে। দেশটির ছনবুরিতে ১০-২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের ফাইনাল রাউন্ড। আসরের সেরা তিন দল যাবে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে। কাল (শনিবার) সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন সরাসরি কোনো লক্ষ্যের কথা জানাতে পারলেন না টুর্নামেন্টকে ঘিরে। শুধু একটিই কথাই বললেন, বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলে উন্নতি হয়েছে। সেটারই প্রমাণ দিতে চায় থাইল্যান্ডে। আরো জানান, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দেয়ার চেষ্টা করব। সংবাদ সম্মেলন শেষে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন দেখা করেন মহিলা দলের সাথে। তোমরা যে ফুটবল খেলতে পারো তা দেখাও বিশ্বাকে।

১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ উত্তর কোরিয়ার সাথে। ১৪ তারিখে জাপান ও ১৭ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচে। ছোটন বাহিনীর দৌড়টা বুঝা যাবে প্রথম ম্যাচেই। বাফুফের টেকনিক্যাল ও স্ট্র্যাটিজিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলির বক্তব্য সে রকমই। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের দিকেই বেশি নজর আমাদের।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুশীলনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দল। তা গত সেপ্টেম্বরের বাছাই পর্বের আগ থেকেই। বাছাই পর্বে ইরান চাইনিজ তাইপেদের মতো দলকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ দলের প্রতি প্রত্যাশা বেড়ে যায়। আসেন মহিলা সাফের ফাইনালে খেলায় এতে যোগ হয় নতুন মাত্রা। দলকে প্রস্তুত করতে জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় ম্যাচ খেলতে। পল স্মলির পুরো নজর দলটির প্রতি। তার মতে, দলটি ইতোমধ্যে সাফল্য পেয়ে গেছে। সাফে খেলা অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ দলও এত সুযোগ পায়নি। যতটা পেয়েছে ছোটন বাহিনী। এ সবই সবার দৃষ্টিতে নিয়ে গেছে মহিলা দলকে। ছোটনের বক্তব্য, আমরা ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। কঠিন প্রতিপক্ষ হবো সবার জন্য। ফুটবলারাও প্রস্তুত। তারা পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো ফিট। এখানে কোচ উদাহরণ হিসেবে সামনে আনেন দক্ষিণ কোরিয়া অনূর্ধ্ব-১৬ ও চীন অনূর্ধ্ব-১৪ দলের সাথের প্রস্তুতি ম্যাচকে।

এত দিনের প্রস্ততি বাংলাদেশ দলের, পাঁচবার বিদেশ সফর ২০-২৫টি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে। সব মিলিয়ে ব্যয় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

এর পরও কি কোনো জয়ের প্রত্যাশা করা যায় না থাইল্যান্ডে। এতে কোচের সাবধানী উত্তর, ‘আমরা চেষ্টা করব। হার জিত যেকোনো কিছু হতে পারে।’ গ্রুপের উত্তর কোরিয়াকে সবচেয়ে শক্তিশালী উল্লেখ করে অধিনায়ক কৃষ্ণারানী সরকার জানান, আমরা চেষ্টা করব দেশের জন্য ভালো কিছু করার। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের ঘোষণা বাংলাদেশ দল কোয়ালিফাই করলে (বিশ্বকাপে গেলে) দলের প্রত্যেক সদস্যকে একটি করে ফ্রিজ দেয়া হবে।

মহিলা ফুটবলে এ প্রথম এএফসির আসরের চূড়ান্ত পর্বে খেলছে বাংলাদেশ। পুরুষদের বয়সভিত্তিক আসরে এই শতাব্দীতেই তিন বার ২০০২ (অনূর্ধ্ব-২০), ২০০৪ (অনূর্ধ্ব- ১৭) ও ২০০৬ (অনূর্ধ্ব-১৭) সালে চূড়ান্ত পর্বে খেলছিল বাংলাদেশ। গত শতাব্দীতে আরো কয়েকবার।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.