দশ বছরেও চূড়ান্ত হয়নি লিগের দল

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

দশম মওসুম পার করছে পেশাদার লিগ খ্যাত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। ২০০৭ সালে পেশাদারী যুগে পদার্পণ বাংলাদেশের ফুটবলের। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে ১০টি বছর। ঢাকা ও রাজধানীর বাইরে মিলে মোট ১১টি ভেনুতে এই লিগ দেখার সুযোগ হয়েছে দর্শকদের। চলতি বছরসহ বিগত বছরগুলোতে সর্বমোট ১৮টি ক্লাবের সুযোগ হয় দেশের সর্বোচ্চ এই লিগে খেলার। নামীদামি বহু দেশী-বিদেশী ফুটবলার খেলে গেছেন এই লিগে। এই লিগে সাফল্য পেয়েই এএফসি কাপ। এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপে প্রতিনিধিত্ব করেছে বাংলাদেশের ক্লাবগুলো। অথচ এক যুগেরও কম সময় বয়সী এই লিগ এখন পর্যন্ত দাঁড়াতে পারল না নির্দিষ্ট কোনো ফরমেটে। প্রতিবার ভেনু নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা, তেমনি দলের সংখ্যা নিয়েও প্রায় প্রতিবার নতুনত্ব। লিগ শুরুর আগে বাইলজ হলেও দল উঠানো নামানোর সংখ্যা নিয়ে লিগের মাঝপথে সিদ্ধান্ত বদল। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর বাফুফের সভায় সিদ্ধান্ত আগামী বছর দলের সংখ্যা বাড়ছে প্রিমিয়ার ফুটবলে। বিপরীতে দল কমছে বিসিএলে।

২০০৭ সালে ১১ দল নিয়ে শুরু দেশের প্রথম পেশাদার ফুটবল লিগ। ঢাকার বাইরের তিন দল চট্টগ্রাম ও খুলনা আবাহনী। চট্টগ্রাম মোহামেডানের সাথে ছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ৮ দল। প্রথম আসর বলে সেবার রাখা হয়নি কোনো রেলিগেশন সিস্টেম। ওই ১১ দলই ২০০৮ সালে ফের খেলে পেশাদার লিগে। ওই বার একমাত্র দল হিসেবে অবনমন হয় খুলনা আবাহনীর। ২০০৯ সালে এক লাফে অংশ নেয়া দলের সংখ্যা হয়ে যায় ১৩টি। তিন নতুন দল সকার ক্লাব ফেনী, নারায়ণগঞ্জের শুকতারা ক্লাব ও সিলেটের বিয়ানীবাজার এই তিন নবাগতের মধ্যে নেমে যায় শুকতারা ও বিয়ানীবাজার। অর্থাৎ সেবার অবনমনের কোটা ছিল দুই দলের। ২০১০-এ ফের অংশ নেয়া দলের সংখ্যায় পরিবর্তন। ১২ দলের লিগ শেষে নেমে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী ও চট্টগ্রাম মোহামেডান। ২০১১ তে এসেও সিদ্ধান্তে অদল বদল পেশাদার লিগ কমিটির। ১১ দলের অংশগ্রহণ ছিল সেবার। রেলিগেটেড হওয়া দলের তালিকায় ছিল রহমতগঞ্জ ও ফরাশগঞ্জ।

বাংলাদেশের পেশাদার লিগের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৯ দল ছিল ২০১২ সালে। সে মওসুমে একমাত্র অবনমিত দল ছিল আরামবাগ ক্রীড়া সঙ্ঘ। ২০১৩-১৪ তে ১০-এর কোটা পূরণ করে অংশ নেয়া ক্লাবগুলো। তখন নেমে গিয়েছিল শুধু উত্তর বারিধারা। ২০১৪-১৫ মওসুমে ফের লিগে খেলা দলের সংখ্যায় পরিবর্তন। ১১ দলের ওই লিগে রেলিগেশন আর হয়নি ম্যাচের মাঝপথে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ফরাশগঞ্জ বহিষ্কার হওয়ায়। ২০১৫-১৬ তেও পেশাদার লিগ কমিটির যথারীতি সিদ্ধান্ত বদল। সেবার ১২ দল নিয়ে হয়েছে লিগ। একটি দলের অবনমনের কথা থাকলেও রেলিগেশন নির্ধারণী প্লে-অফ খেলতে অস্বীকার করে ফেনী সকার ও উত্তর বারিধারা। ফলে দু’দলকেই প্রিমিয়ার থেকে বহিষ্কার করে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নামিয়ে দেখা হয়। এবার ২০১৭ মওসুমেও (বাফুফের মতে ২০১৬-১৭) ১২ দলের অংশগ্রহণ। এখান থেকে বিসিএলে নেমে যেতে হবে একটি দলকে। এবারই প্রথম বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে সর্বাধিক ১০ দল অংশ নিচ্ছে। তবে আগামীবার আর তা থাকছে না। প্রিমিয়ার হবে ১৩ দল নিয়ে। বিসিএলে প্রতিনিধিত্ব থাকবে ৯ দলের। এই সিদ্ধান্ত বাফুফের ৫ সেপ্টেম্বরের সভায়। ওই দিনই জানানো হয় এবার বিসিএল থেকে দু’টি দল উঠবে প্রিমিয়ারে। অথচ বিসিএল শুরুর আগে এ সংখ্যা ছিল এক। এই লিগের ক্লাবগুলোর দাবির কারণে প্রমোশন পাওয়া দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলো।

পেশাদার লিগ কমিটির ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলের ধারা বিসিএলেও অব্যাহত। ২০১১-১২ তে শুরু হওয়া বিসিএলে দল ছিল সাতটি। কোনো রেলিগেশন ছিল না। তবে প্রিমিয়ারে উঠেছে একটি ক্লাব। ২০১২-১৩-তে ৮ দলের লিগ থেকে উঠেছে দু’টি। অবনমন হয়েছে একটির। ২০১৪-তে ৭ দলের লিগ। এ থেকে প্রিমিয়ারের টিকিট পায় দু’টি দল। নেমে গেছে একটি ২০১৪-১৫ মওসুমে ফের ৮ দলের লিগ। দু’টি উঠেছে। অবনমিত হয়েছে একটি। ২০১৫-১৬-তেও একই ধারা। এবার অনুসরণ করা হলো সে নিয়মই। পেশাদার লিগ কমিটির সিদ্ধান্তে এবার বিসিএলের নতুন দল বসুন্ধরা কিংস ও নোফেল স্পোর্টিং। গতবার এ কাতারে ছিল সাইফ স্পোর্টিং। ফের সুযোগ দেয়া হয় চট্টগ্রাম মোহামেডানকে। পরে নেমেও যায় চট্টগ্রামের সাদা-কালোরা। এভাবেই প্রিমিয়ারে সুযোগ পায় ২০১০-এ শেখ জামাল ও ২০১১-তে বিজেএমসি। লিগ কমিটির ব্যর্থতায় পেশাদার লিগ থেকে হারিয়ে গেছে শুকতারা, বিয়ানীবাজার ও খুলনা আবাহনী। দেশের সর্বোচ্চ লিগে এমন বিশৃঙ্খলা কি মানা যায়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.