প্রি য় জ ন পঙ্ ক্তি মা লা

ঊষার মাহমুদ
জল ছোঁয়া হয় না আমার

নদীর ভেতরে আরো একটি নদীর গল্প হাতছানি দেয়;
প্রজাপতি পায়ের ভরে দোল খাওয়া গোলাপের মতো!
বুকের উপর আছড়ে পড়ে ঢেউযুগল;
বালির বাঁধের মতো আমি বিলীন হয়ে যাই নদীর শরীরে।
সাঁতরে সাঁতরে খুঁজতে থাকি নদীর ভেতরে থাকা নদীকে,
নদীর কাছে আসতেই শরীর ভেঙে নামে বৃষ্টি
জলের তীব্র স্রোতে স্বপ্ন ভাঙে; জল ছোঁয়া হয় না আমার!
নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

লুৎফর রহমান ঝিনুক
নারী

হে নারী,
কিসের অহঙ্কার করো?
রূপের?
তবে জেনে রেখো, এ অহঙ্কার ক্ষণস্থায়ী।
গোলাপ তো চেনো?
কত সুন্দর, সুগন্ধময়।
গোলাপের পরিণতিও নিশ্চয়ই জানো?
হে নারী,
এখনো সময় আছে নিজেকে শুধরে নাও।
রূপ নয়, মনকে সম্মান দাও।
চিরদিন অটুট রবে স্নিগ্ধ ভালোবাসা।
ঢাকা

আবদুল কাদের আরাফাত
বন্ধু মানে

বন্ধু মানে
স্বার্থনীতির উল্টো পথে চলা
বন্ধু মানে
মনের কথা অকপটে বলা,
বন্ধু মানে
হতাশার মেঘে এক টুকরো আলো
বন্ধু মানে
ভাগ করে নেয়া যত মন্দ-ভালো,
বন্ধু মানে
মনের সাথে মনের যত মিল
বন্ধু মানে
আকাশের বুকে ডানা মেলা গাঙচিল।
প্রিয়জন-১৬৫২

আল-মাসুদ হক মিঠুল
বৃষ্টিবিলাসী প্রেম

মধ্যরাতের ঝুমবৃষ্টিতে অনবরত
পায়চারি করি হৃদয়ের আঙিনায়,
না হয় আর একবার ফিরে আসো।
হৃদয়ের কার্নিশে
শুকিয়ে গেছে বৃষ্টিবিলাসী প্রেম!
হাজারো আকুতি চিবিয়ে খেয়েছ,
ক্ষমার রুমালে মুছে দিতে পারনি
ব্যথার জল!
আকাশটা আজকাল বড্ড আবেগি;
ক্ষণে ক্ষণে ভিজিয়ে দিয়ে যায়
বুকের তপ্ত জমিন!
মাঝে মাঝে
আকাশ হতে ইচ্ছে করে,
ইচ্ছে করে মেঘ হয়ে উড়ে যাই
তোমার চোখে ঝরাই একপশলা বৃষ্টি!
হৃদয়ের খুব গভীরে নামুক
আর একটি বর্ষা বিকেল।
নতুন করে না হয় আবারো শুরু হোক
বৃষ্টিবিলাসী প্রেম।


তাসনীম মোহাম্মাদ
অল্প কিছু সময়

নাফ নদীর প্রেতাত্মারা জেগে উঠেছে।
জীবনকে মায়া দেখাইনি;
জাতীয়তাবাদের কাঁটাতারকে রুখে দিয়ে
প্রথমবারের মতো সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে বিদায় জানিয়ে
বললাম, ...প্রিয়তমা আমার!
হতে পারে এই আমাদের শেষ সাক্ষাৎ; যদি
হায়েনার নৃশংসতা আমাকে খুবলে খায়।...
তুমি ধরে নিতে পারো, জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে
আমরা আমাদের চোখের জলকে
পাহাড়ের শিরা-উপশিরাতে বপন করে দিলাম; যেন
তোমার প্রসবার্ত শিশুকে
রক্তমাখা নদীজলের গন্ধ শুকতে না হয়।
প্রিয়তমা আমার!
তোমার ছলছল চোখ আমাকে দুর্বল করে দিতে পারে...
তুমি কি চাও আমি আমার শক্রদেরকে
পৃষ্ঠ প্রদর্শন করি?
বাসর শয্যার প্রথম প্রণয়ে বলেছিলে,...
কাপুরুষের স্ত্রী হয়ে বিচার দিবসে
মুখ দেখাতে চাও না!
প্রিয়তমা! তুমি তো জানো,
আয়লানরা দরিয়ায় ডুব দিয়ে
আমাদেরকে করে তোলে উজ্জীবিত!
তুমি তো জানো, রক্ত দিয়ে আমরা আমাদের
জমিনকে করে তুলি উর্বর।
সে উর্বরা জমিনে উন্নত ফসল ফলাতে
প্রয়োজন উৎকৃষ্ট বীজ;
যা শত্রুর বাঙ্কারে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনেক আগেই
তোমার গর্ভে প্রোথিত করেছি।
তুমি তো জানো,
আমাদের শিশুরা এখনো অসংখ্য
আয়লান হয়ে উঠতে পারেনি
আর আমরা হয়ে উঠতে পারিনি
অসংখ্য মাজ-মুয়াজ!
শত্রুরা আজ বড় বেশি নৃশংস হয়ে উঠেছে।
প্রিয়তমা আমার! তোমার প্রথম সন্তানকে বলো,...
শহীদের সন্তান সে! শত-শতাব্দীর জমিন তার
এ জমিনের ফসল যেন সে ঘরে তোলে।
আর যদি দেখতে পাও
আমি ফিরে এসেছি ঝঞ্ঝাহাতে বিজয়ের;
তবে ফের হবে আমাদের শপথের দ্বিতীয় বাসর।
অতএব; হে প্রিয়তমা!
তোমাকে সালাম; তোমাকে বিদায়!
কেননা... ভোরের নির্মল রবি ফুটে উঠতে
কিংবা জান্নাতের সুসংবাদ ভেসে আসতে
আর অল্প কিছু সময় কেবল বাকি।...

এইচ এস সরোয়ারদী
তুই চাইলে

তোর জন্য মরতে পারি
খেতে পারি বিষ,
ভালোবেসে দু-হাত ভরে
যদি আমায় দিস।
তুই চাইলে স্বর্গ থেকে
আনতে পারি সুখ,
দু-ভাগ করে কাটতে পারি
আমার দেহটুক।
তুই চাইলে আনতে পারি
আকাশ থেকে তারা,
পারি না কেবল থাকতে আমি
বন্ধুরে তুই ছাড়া।
নারায়ণগঞ্জ

কাজী সুলতানুল আরেফিন
রঙবেরঙের বন্ধু!

হরেক রঙের বন্ধু সবার
ডানে-বামে জড়িয়ে ছিল,
স্বার্থপরের সময় আজ
বন্ধুরা তাই হারিয়ে গেল।
বন্ধু তোরা ছুটে আয়
ভালোবাসা কেড়ে নেয়!
দুঃখ-সুখে হাসি-কান্নায়
জীবনটাকে রাঙিয়ে দেয়।
বন্ধু ছাড়া জীবন গাড়ি
বেশি দূর চলে না,
রঙবেরঙের বন্ধু তাই
সবার আছে ভাবনায়।
ছাগলনাইয়া, ফেনী

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.