মিয়ানমারে কি পিশাচের সরকার?
মিয়ানমারে কি পিশাচের সরকার?

মিয়ানমারে কি পিশাচের সরকার?

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী

মিয়ানমারে কি এখন পিশাচের শাসন চলছে? অং সান সু চি তবে কি এক রক্তপিপাসু নারী? অথচ এই সু চির মুক্তির জন্য আমরা আশি-নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের রাজপথে মিছিল করেছি। তার মুক্তি দাবি করেছি। তিনি ছিলেন সেখানকার সামরিক জান্তা কর্তৃক গৃহবন্দী। সু চির বয়স এখন ৭২। ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সু চি ছিলেন সেখানকার কার্যত গৃহবন্দী। এর প্রধান কারণ ছিল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর স্বৈরশাসন থেকে সে দেশকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে গণতন্ত্রে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। মিয়ানমারের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা, জেনারেল অং সানের মেয়ে সু চি। স্বাধীনতা লাভের ছয় মাস আগে ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে অং সানকে হত্যা করা হয়। তখন সু চির বয়স মাত্র দুই বছর। সু চির মা ড খিন কাইকে ১৯৬০ সালে ভারতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত করা হয়। সু চিও তার মায়ের সঙ্গে দিল্লি চলে আসেন। ১৯৬৪ সালে তিনি অক্সফোর্ডে ভর্তি হয়ে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। সেখানেই তিনি বিয়ে করেন শিক্ষাবিদ মাইকেল অ্যারিসকে।

কিছুকাল জাপান ও ভুটানে বসবাসের পর সু চি তার দুই ছেলের লেখাপড়ার স্বার্থে যুক্তরাজ্যেই বসবাস করতে থাকেন। ১৯৮৮ সালে তিনি গুরুতর অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য রেঙ্গুনে (ইয়াঙ্গুন) ফিরে আসেন। তখন বার্মায় (মিয়ানমার) রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। সু চি আসার পর হাজার হাজার ছাত্র-জনতা ও বৌদ্ধ ভিক্ষু রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করেন। তিনি মিয়ানমারের তৎকালীন সেনাশাসক জেনারেল নে উইনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং ও ভারতের জাতীয় নেতা গান্ধীর আদলে তিনি অহিংস আন্দোলন শুরু করেন। আর এ কারণেই ১৯৯১ সালেই নোবেল কমিটি তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান তখন বলেছিলেন, ‘তিনি ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতার এক অনন্য উদাহরণ।’ তার নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তিতে আমরাও আনন্দিত হয়েছিলাম। তখন ভাবিনি, তিনিই একদিন স্বদেশে মিলিটারির বুটের আশ্রয়ে বসে মানবতার চরম লঙ্ঘন করবেন। যাই হোক, ১৯৮৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। অভ্যুত্থানের নেতা কঠোর হাতে ও অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে সে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করেন। আর তখনই সু চিকে গৃহবন্দী করা হয়।

ছয় বছর সু চি রেঙ্গুনেই গৃহবন্দী থাকেন। ১৯৯৫ সালে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। এর আগে ১৯৯০ সালে মিয়ানমারে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে সু চির দল এনএলডি (ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি) বিজয় অর্জন করলেও সামরিক শাসকেরা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানান। সু চির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি মান্দালয় শহরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে আবারো গৃহবন্দী করা হয়। অবশ্য ২০০২ সালে সামরিক সরকার তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়। কিন্তু তার সমর্থক এবং সরকার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে বাড়িতে আসতে দেয়া হলেও তিনি গৃহবন্দীই থাকেন। সেখানে সু চি ফ্রেঞ্চ ও জাপানি ভাষা অনুশীলন ও পড়াশোনা করতে থাকেন। ব্যায়াম ও যোগব্যয়াম করেন আর পিয়ানো বাজিয়ে সময় কাটাতেন। একসময় তাকে তার দলের কিছু নেতা ও নির্ধারিত কূটনীতিকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়। তবে তাকে কখনো তার ব্রিটিশ স্বামী ও দুই সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। তার স্বামী ১৯৯৯ সালে ক্যান্সারে মারা যান।

বিশ বছর পর ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর মিয়ানমারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে সু চিকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। তবে এক সপ্তাহ পরে তাকে মুক্তি দেয়া হয় এবং এক দশক পরে তার এক ছেলেকে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর সু চি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ফিরে আসেন।

এরপর ২০১৫ সালের নভেম্বরে, বিগত ২৫ বছরের প্রথমবারের মতো মিয়ানমারে মোটামুটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটে জয়লাভ করে। কিন্তু সু চি আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি, কারণ তার সন্তানেরা বিদেশী নাগরিক। তা সত্ত্বেও সু চি এখন মিয়ানমারের সরকারের কার্যত প্রধান। ২০১৫ সালের ভোটে লাখ লাখ মিয়ানমারবাসীকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি। তাদের মধ্যে ছিল ১২ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকও। মিয়ানমার সরকার যাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করেছে, সু চি তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ তো নেনইনি, বরং সামরিক জান্তার এহেন নীতির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন।

মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলমানরা শত শত বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু সামরিক সরকার যেমন, তেমনি শান্তিতে নোবেলপ্রাপ্ত অং সান সু চির সরকারও তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে গেছে এবং এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বরোচিত হামলা পরিচালিত হয়ে আসছে এবং রোহিঙ্গারা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বা স্থলপথ দিয়ে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হয়ে এসেছেন। বিভিন্ন সময়, বিশেষত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের বহু লোককে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু গত মাসে ঘটেছে ভয়াবহ বিপর্যয়কর ঘটনা।

মিয়ানমার সরকার বলছে, রোহিঙ্গা মুসলমানেরা নাকি গত মাসে কতগুলো সামরিক ছাউনিতে হামলা করে বেশ কিছু সেনা সদস্যকে আহত করেছে। এর কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ মিয়ানমার সরকারের হাতে নেই। তারপরও শুরু হয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর পৃথিবীর সাম্প্রতিক ইতিহাসে বর্বরতম নির্যাতন। এই নির্যাতনের যে বিবরণ প্রকাশ হয়েছে, তা পৈশাচিকতাকেও হার মানায়। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামকে গ্রাম নির্বিচারে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের যে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হচ্ছে তা আদিম ও মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। নারীদের ওপর চলছে গণধর্ষণ, শিশু-কিশোরদের গলা কেটে হত্যা করা হচ্ছে। হত্যা করা হচ্ছে আরো বীভৎস কায়দায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে, তা ভয়াবহ। হাজার হাজার রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী-সমুদ্রপথে বাংলাদেশে ছুটে আসছে আশ্রয়ের জন্য। কেউ কেউ আসছেন বনবাদাড় পেরিয়ে; তাদের কোলেপিঠে শিশু ও বৃদ্ধ। এই পালিয়ে আসার পথের পেছন থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গুলি চালাচ্ছে সু চি সরকার। প্রতিদিন জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে গ্রাম। উখিয়া বা টেকনাফে দাঁড়িয়ে সেসব গ্রামে আগুন বা ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে।

মিয়ানমার সরকার প্রথম থেকেই বলার চেষ্টা করছে, তারা রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো নির্যাতন করছে না; তারা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। তারা ‘সন্ত্রাসীদের শায়েস্তা করছে মাত্র।’ বর্তমান বিশ্বে এই ‘সন্ত্রাস’ কথাটা মুসলমান দমনে খুবই লাগসই। কিন্তু মিয়ানমার সরকার এই প্রশ্নের কোনো জবাব দিচ্ছে না যে, নারী থেকে দুগ্ধপোষ্য শিশু কিংবা ৮০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কিভাবে সন্ত্রাসী হতে পারে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে আমরা দেখেছি, কিভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের। খুঁটির সঙ্গে বাঁধা এক কিশোরের ছবি দেখেছি। একজন লোক তার চুলের মুঠি ধরে এক হাতে পেছনে টানছে, অপর হাতে তার গলায় ছুরি চালিয়ে ধড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। তারপর সে মাথা উপস্থিত জনতাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে। দরদর করে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ছবিতে আমরা দেখেছি ধর্ষিতা এক অর্ধনগ্ন যুবতী রক্তাক্ত মৃত পড়ে আছে। পাশেই মৃত মায়ের শরীরের ওপর কাঁদছে তার দুগ্ধপোষ্য শিশু। এভাবে শিশুকেও হত্যা করছে হাজারে হাজারে। এক যুবকের ছবি দেখেছি, ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। তার গলায় রশি বাঁধা। সে রশি ধরে টানছে এক পিশাচ; চার পাশে অন্য পিশাচেরা উল্লাস করছে। সেভাবেই যুবকটির মৃত্যু হয়েছে।

আমরা দেখেছি, প্রথমে কেটে ফেলা হয়েছে দুই পা। তারপর দুই হাত। তারপর ধড় মস্তক বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে এক প্রবল জান্তব উল্লাস লক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা যে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। মিয়ানমারে কি কোনো মানুষের বসবাস নেই? সেটি কি তবে পিশাচের দেশ? সু চির সরকার বলেছে, তারা ‘মাত্র’ ৪০০ লোককে হত্যা করেছে। ৪০০ নরহত্যা তার কাছে ‘মাত্র’ হয়ে উঠেছে। এ কারণে সু চির নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়া হোক। তার প্রতি জানানো হোক ঘৃণা ও নিন্দা। এখনো রাখাইনে চরম নির্যাতন চলছে। হাজার হাজার বিপন্ন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। কিন্তু সু চি নির্বিকার। তিনি বলছেন, রাখাইনে এসব কিছু হচ্ছে না। সবই মিডিয়ার বাড়াবাড়ি প্রচারণা।’

বিশ্ব মিডিয়ার চাপে কিছু সাংবাদিককে রাখাইনে সীমাবদ্ধ ও নির্ধারিত এলাকায় মিয়ানমার সরকার নিয়ে গিয়েছিল। তারাও দেখতে পেয়েছেন, গ্রামকে গ্রাম আগুনের লেলিহান শিখায় ভস্ম হয়ে যাচ্ছে। সর্বত্র তারা দেখতে পেয়েছেন বাড়িঘর পোড়ানোর ছাই, কোথায়ও গনগনে আগুন। তাদের স্বাধীনভাবে কারো সাথে কথা বলতে দেয়া হয়নি। তবে সেখানে ঘোরাফেরারত একজন বলেছেন, তিনি অনেক বাড়িতে আগুন দিয়েছেন। তার হাতে ছিল দিয়াশলাই, কেরোসিন বা অন্য কোনো দাহ্য তরল পদার্থ। তিনি জানান, তার এই আগুন দেয়ার পেছনে তাদের সেনাবাহিনীর সমর্থন রয়েছে। সু চি বলেছেন, রাখাইন এলাকায় তারা একটি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তুলবেন।

মিয়ানমার বিশাল ভূখণ্ড। তার আয়তন বাংলাদেশের কয়েক গুণ। জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ কোটি। আর রোহিঙ্গা জনসংখ্যা মাত্র ১২ লাখ। তারা সবাই বসবাস করেন রাখাইন প্রদেশে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। যদি অর্থনৈতিক এলাকা গঠন করতেই হয়, তবে তারা তা গড়ে তুলত পারতেন জনশূন্য কোনো এলাকায়। কিন্তু রোহিঙ্গা মুসলমানদের তাড়িয়ে দিয়ে, খুন করে, আগুন দিয়ে পোড়ামাটি নীতি অনুসরণ করে কেন গড়ে তুলতে হবে ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল?’ এর কোনো কৈফিয়ত মিয়ানমার সরকারের কাছে নেই। আর সে কারণেই একসময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য পৃথিবীতে নন্দিত অং সান সু চি এখন এক নিন্দিত ব্যক্তিত্ব।

লক্ষণীয় যে, ইতোমধ্যে তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলমানকে নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া এবং তাদের খাদ্য-পানি সংস্থানের সাধ্য বাংলাদেশের নেই। এর জন্য উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসঙ্ঘ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, তুরস্ক। কিন্তু ‘যার বিয়ে তার খবর নেই, পাড়াপড়শির ঘুম নেই।’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সরকারের ভাবখানা হচ্ছে, যেন কিছুই হয়নি। শুধু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এত রোহিঙ্গার দায়িত্ব নেয়া বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।’ ব্যস, ওই পর্যন্তই।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পচা গম আমদানি করে কুখ্যাতি অর্জনকারী ও আদালত কর্তৃক দণ্ডিত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম মিয়ানমার থেকে ৩০ লাখ টন খাদ্য আমদানির সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষর করার জন্য মিয়ানমার গেছেন। প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেই তার এই মিয়ানমার যাত্রা।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্পর্ক ছিন্ন করা চাট্টিখানি কথা নয়।’ আসলে ভারত ও চীন এই দুই নৌকায় একই সঙ্গে পা রাখতে গিয়ে এক ‘মাইন্কার চিপায় ফাঁইসা গেছে’ বর্তমান সরকার।

ইতোমধ্যে ভারত ও চীন একযোগে মিয়ানমার সরকারের কর্মকাণ্ড সমর্থন করেছে। কারণ মিয়ানমারে চীনের রয়েছে বিরাট বিনিয়োগ। ভারতও বাণিজ্য বাড়িয়েছে। ভারত চীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই গণহত্যার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। এতে বাংলাদেশের কী ক্ষতি হলো, তাতে ভারতের কিছু আসে যায় না। চীন বাংলাদেশের বিরাট অর্থনৈতিক পার্টনার। তাই চীন মিয়ানমারের দিকে গেলে সরকারের কী করার আছে, চুপ থাকা ছাড়া? এই সরকারের ভারতকে ‘সব কিছু দিয়ে দেয়া’র প্রতিদান হলো বর্তমান পরিস্থিতি। কিন্তু সরকার তাতে কিছুই করতে পারছে না। অথচ এ রকম পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ছোটার কথা ছিল জাতিসঙ্ঘে, আরব লিগে, ওআইসিতে, অন্য সব প্রভাবশালী দেশে। না, দেশে যে কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, সেটিই টের পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি যেন উট পাখির মতো কাদায় মুখ লুকিয়ে আছেন। হায় অসহায় সরকার!

কিন্তু বিপন্ন মানবতার ডাকে সাড়া দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই; সুশীলসমাজকে; দেশের সচেতন শ্রেণীর মানুষকে। মানবতার ডাকে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত সাধারণ মানুষ। সু চির নোবেল কেড়ে নিয়ে তার আসল রূপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উন্মোচন করা হোক। বুঝিয়ে দেয়া হোক, তিনি শান্তির মিত্র নন, শত্রু। তাকে শুধু নিন্দাই করা যায়। তার প্রতি রইল আমাদের ধিক্কার।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
rezwansiddiqui@yahoo.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.