লিবিয়াতে আটকে পড়া বাংলাদেশের একদল অভিবাসী
লিবিয়াতে আটকে পড়া বাংলাদেশের একদল অভিবাসী

লিবিয়ায় বাংলাদেশীদের পণবন্দি করে মুক্তিপণ আদায়

বিবিসি

লিবিয়াতে কাজে যাওয়া বাংলাদেশী শ্রমিকদের সেখানে পণবন্দি করে বাংলাদেশে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন।
অপহৃত শ্রমিকদের ইতালিতে বেশি বেতনে কাজের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। লিবিয়াতে এমন আরো অনেকে অপহৃত আছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার আইয়ুব হোসেন তাদের একজন। পাঁচ বছর আগে লিবিয়াতে কাজে গিয়েছিলেন।
সেখানে আইয়ুব একটি তেলের পাম্পে কাজ করতেন। তার বাবা মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, আড়াই মাস আগে হঠাৎ একটি ফোন পেলেন।

তিনি বলছেন, "ফোন করে বলা হল দুই লাখ পঞ্চান্ন হাজার টাকা এখনি দিতে হবে তা না হলে ছেলেকে মেরে সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হবে। ফোন পাওয়ার পর আমরা তো পাগলের মতো হয়ে যাই। কীভাবে এত টাকা দেবো। ছেলেকে মারার দৃশ্য দেখায়। আমরা মা বাবা তাতে তো আর থাকতে পারি না।"

ভিডিওতে ছেলের মার খাওয়ার দৃশ্য দেখে মুক্তিপণের টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তসলিম উদ্দিন। দু দফায় বিকাশের মাধ্যমে তিনি পাঁচ লাখ টাকার মতো দিয়েছেন।

তিনি বলেন, জমিজমা বিক্রি করে এই অর্থ দিয়েছেন, কিন্তু এরপরও ফোন পেয়েছেন তিনি। এত টাকা দেয়ার পরও ছেলের মুক্তি না হলে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন তিনি।
একই বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের কাছে আরো অভিযোগ ছিল।


অভিযোগকারীদের দেয়া তথ্য এবং যেসব বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা হস্তান্তর হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ইতালিতে গেলে বেশি বেতনে কাজ দেয়া হবে সেরকম প্রলোভন দেখিয়ে ঐ শ্রমিকদের অপহরণ করা হয়।
তিনি জানিয়েছেন, ঐ শ্রমিকদের ত্রিপোলি থেকে নয়শো কিলোমিটার দূরে কোথাও রাখা হয়েছে তারা জানতে পারছেন।

আজাদ বলেন আত্মীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশে অপহরণকারীদের হয়ে মুক্তিপণ আদায় করছিলেন।
আর গ্রেফতারকৃত অন্যদের মধ্যে রয়েছে তিনজন বিকাশের এজেন্ট, যাদের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা লেনদেন করা হচ্ছিল। তাদেরও এই ঘটনায় সম্পৃক্ততার রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।

আজাদ বলেন, লিবিয়াতে এরকম আরো ১২০ জনের মতো একইভাবে অপহৃত হয়ে পণবন্দি আছেন বলে তারা জানতে পারছেন।
তিনি বলেন, এখন লিবিয়াতে পণবন্দিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তাতে কত সময় লাগবে সেটি নিশ্চিত নয়।


বিদেশে ১ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক কর্মরত : প্রবাসী মন্ত্রী
নয়া দিগন্ত অনলাইন


বর্তমানে এক কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ২১১ জন বাংলাদেশী শ্রমিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন।
আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য এম. আবদুল লতিফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চাকরির উদ্দেশ্যে এসব শ্রমিক বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন।

এর মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ৩২ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ জন কর্মী গিয়েছেন।
সরকারি দলের সদস্য নুরজাহান বেগম মুক্তার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের দেশে ফেরার সময় বিমান বন্দরে যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়, এজন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে তাদের জন্য আলাদা বুথ রয়েছে। তাদের হয়রানি কমিয়ে আনতে সরকার আরো যত ধরনের পদক্ষেপ নিতে হয় সরকার নিবে।

সরকারি দলের অপর সদস্য আলী আজমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। বিশেষ করে বিদেশগামী পুরুষ কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র প্রদানের আগে বিএমইটির অধীনস্থ ৬৫টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের যেকোনোটি থেকে তিন দিনের প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গৃহকর্ম পেশায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে গমনকারী নারীদের জন্য ৩০ দিনের হাউসকিপিং আবাসিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া হংকং গমনেচ্ছু নারীদের হাউসকিপিং অ্যান্ড ক্যান্টনিজ ল্যাংগুয়েজ কোর্সে দুই মাস মেয়াদী আবাসিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.