বেড়ায় রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ

জয়নাল আবেদীন রানা, বেড়া (সাঁথিয়া) সংবাদদাতা

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের অব্যহৃত জায়গা দীর্ঘকাল ভোগদখলকারীদের লীজ না দিয়ে সরকারি বিধান লঙ্ঘন করে লাখ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে জমি লীজ দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো ৬৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে হয়রানীমূলক একটি মামলা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে পাউবো’র প্রধান কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এ ঘটনায় জড়িত সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পাউবো’র শৃঙ্খলা বিভাগের কর্মকর্তারা তদন্ত করেছে। তদন্তদল এ ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, বেড়া পাউবো বাঁধ নির্মাণের সময় অধিগ্রহণকৃত জমির পূর্বের মালিকরা বাঁধের অব্যবহৃত জমি দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার করে আসছিল। পাউবোর সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এ সব জমি ভোগদখলকারি প্রত্যেকের কাছে লীজ দিতে উৎকোচ হিসেবে ৬০ হাজার টাকা করে দাবি করে। এ টাকা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো হলে অন্য লোকের নিকট থেকে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচের বিনিময়ে লীজ দেয়া হয়।

এ লীজের ক্ষেত্রে সরকারি কোন বিধান মানা হয়নি। সরকারি বিধানে এ সব জমি ভোগদখলকারিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লীজ দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। অন্য দিকে সহকারি ওই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বিধিবহির্ভূতভাবে নির্বাহী প্রকৌশলীর প্যাডে ভূয়া স্মারক নং ও নিজের স্বাক্ষর দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে এ সব জমি লীজ দিয়েছেন। যা সরকারি বিধানের পরিপন্থি।

এ ঘটনার সাথে বেড়া পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
ওই রাজস্ব কর্মকর্তার চাহিদামত যে ৬৯ জন ভূমি ব্যবহারকারি টাকা পরিশোধ করেনি শুধুমাত্র তাদের নামেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে নং ও/সি-২৫/২০১৬ইং মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই মৌজায় অন্যব্যক্তিদের দাগ খতিয়ানে জমি থাকলেও তাদের নামে মামলা করা হয়নি।

এ মামলাটিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। এ ব্যাপারে ৩৪ জন ভূমি ব্যবহারকারি সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাউবো প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করলে সম্প্রতি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ পাওয়ায় বেড়া পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীসহ একটি প্রভাবশালী মহল এ তদন্ত রিপোর্ট ধামাচাপা দিতে নানামুখি তৎপরতা চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সাথে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বেড়া পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ এ বিষয়ে সংবাদ কর্মীদের এড়িয়ে চলছেন। ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি ব্যবহারকারিরা এ ব্যাপারে নিরোপক্ষ তদন্তসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.