পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে সাক্ষরের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রীসভায় অনুমোদন

বিশেষ সংবাদদাতা

জাতিসংঘের পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে সই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সই করবেন। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। এছাড়া বিমান চলাচল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য চুক্তির খসড়াও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘ট্রিটি অন দ্য প্রহিবিশন অব নিউক্লিয়ার ওয়েপনস’ স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে ‘ট্রিটি অন দ্য প্রহিবিটেশন অব নিউক্লিয়ার ওয়েপনস’ প্রস্তাবের খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ওই অধিবেশনে সুবিধাজনক সময় চুক্তিতে সই করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেন, পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করার ট্রিটিতে ১২২টি দেশ সমর্থন জানিয়েছে, আমাদের দেশও এর মধ্যে আছে। এই ট্রিটি স্বাক্ষরের জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।

শফিউল আলম বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে স্বাক্ষরের জন্য ‘এয়ার সার্ভিসেস এগ্রিমেন্ট’র খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দুই দেশের বিমান চলাচল নিয়ে এই চুক্তিটি পুরনো। চুক্তিটি ১৯৮৮ সালের ৩০ মার্চ থেকে দুই দেশের মধ্যে এক চুক্তির মাধ্যমে বিমান চলাচল চলে আসছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। সংজ্ঞা ও শর্তে কিছু পরিবর্তন এনে এটাকে নতুনভাবে করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেক দেশ একাধিক বিমান সংস্থাকে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য মনোনয়ন করতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী দুই দেশের সম্মতিতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করা হয়। ২০০৬, ২০০৭, ২০১১ সালে চুক্তি সংশোধন করা হয়। ২০১৭ সালের প্রস্তাবিত সংশোধন অনুযায়ী, চুক্তিটি বাংলা ও আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হবে এবং দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার বাইরেও অন্য সংস্থাগুলোকে বিমান চলাচলে অনুমতি দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে যেকোনো দেশ চুক্তি বাতিল করতে পারবে। দুই দেশের বিমানমন্ত্রী সংশোধিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

শফিউল আলম বলেন, এছাড়া টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ঠ (এসডিজি) অর্জনে সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নে আমাদের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। ১৭টি লক্ষ্য সম্পর্কে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। বাংলাদেশ এসডিজি অর্জনে ভালো করবো। কারণ এ সম্পর্কে পৃথক একটি বই প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। যা অন্য কোরেনা দেশ করেনি। এছাড়া সরকার এসডিজি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি পৃথক দফতর করেছে। যেখানে চিফ কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে আছি। কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের সদর দফতরে ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ রিপোর্ট আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে দিয়েছি। ৪২টি দেশের মধ্যে আমারও ছিলাম। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের কাজটি (এসডিজি অর্জন) অনেক এগিয়ে গেছে।

কণ্ঠসৈনিক আবদুল জব্বারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বৈঠকের শুরুতেই স্বাধীনতাযুদ্ধের কণ্ঠসৈনিক আবদুল জব্বারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। গত ৩০ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আবদুল জব্বার। পাঁচ দশকের বেশি সময় বাংলাদেশের গানের ভূবনে আলো ছড়ানো দরাজ কণ্ঠের এই শিল্পীর দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি তিনি হৃদযন্ত্র ও প্রোস্টেটের সমস্যায় ভুগছিলেন। আবদুল জব্বার স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদক ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.