ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গাদের ঢল সামালাতে চীন ও ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে : পররাষ্ট্র সচিব

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সহিংসতার মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঢল সামালাতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে চীন ও ভারত।

আজ সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর ঢাকায় অবস্থিত এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিদের দেয়া ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক একথা জানান।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভারত ও চীনের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘ভারত ও চীন আমাদের ভ্রাতৃপ্রতীম রাষ্ট্র। এ কঠিন সময়ে বাংলাদেশের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে তারা আমাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশ দুটি বলেছে, এ কঠিন সময়ে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকবে, আগেও যেমন ছিল।’

শহীদুল হক বলেন, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদনে দেয়া সুপারিশগুলো দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ ও শর্তহীন বাস্তবায়ন চাওয়া হয়েছে। আনান কমিশনের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন) করে নাগরিকত্ব দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশও এটি চায়।

বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার চাপ সামলাতে বাংলাদেশের কি দরকার- তা কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এতো খুঁটিনাটি বিষয়ে আমরা এখনও আলোচনা করিনি। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আগামী বুধবার বিদেশী কূটনীতিকদের নিয়ে আমরা কক্সবাজার যাচ্ছি। সেখানে এসব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠনের প্রস্তাব বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন এটি নিয়ে আলোচনা চলছে।

এ প্রস্তাবে মিয়ানমার কোনো সাড়া দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিয়ানমার এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি।

ব্রিফিংয়ে মিয়ানমারের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না- এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, মিয়ানমারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত কূটনীতিকরা এ সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানান শহীদুল হক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া ব্রিফিংয়ে চীন ও ভারত ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ব্রুনাই, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ও মালদ্বীপের মিশন প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

গত রোববার পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিদের একই বিষয়ে ব্রিফিং দেয়া হয়।

আজকের ব্রিফিং সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ তিন দশক ধরে চার লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সম্প্রতি এর সাথে আরো তিন লাখ যোগ হয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেয়া বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দিয়েছে। চলমান সংকট মোকাবেলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জরুরি মানবিক সহায়তা ও রোহিঙ্গাদের ভাষানচরে (ঠেঙ্গার চর) স্থানান্তরে সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি একইসাথে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর টেকসই উপায় নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাজনৈতিক সমর্থন চেয়েছেন।

কূটনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.