স্মার্টফোনের অপব্যবহারে কমতে পারে স্মার্টনেস!
স্মার্টফোনের অপব্যবহারে কমতে পারে স্মার্টনেস!

স্মার্টফোনের অপব্যবহারে কমতে পারে স্মার্টনেস!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

স্মার্টফোনের অপব্যবহারে যে স্মার্টনেস কমে যায় এটা বুঝা খুব কঠিন নয়। দেখবেন জরুরি কোনো মিটিং হচ্ছে সেখানে কেউ সেলফি তোলায় ব্যস্ত। চলন্ত ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে চেয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু, ট্রেনের ছাদে দাড়িয়ে সেলফি তোলার সময়  হাইটেনশন তারের সঙ্গে হাত লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু, সেলফি তুলতে গিয়ে হাত থেকে মোবাইল ফোন পড়ে গেলে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে পঙ্গুত্ববরণ, সেলফোন টিপতে টিপতে রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনা- এসব অহরহ ঘটছে।

অপরাধীদের সাথে সেলফি তুলে চাকরি হারানো, অপারেশন থিয়েটারে রোগীর সাথে সেলফি তুলে চিকিৎসকের সমালোচিত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। হাসপাতালে রোগী দেখতে গিয়ে হাসিমুখে সেলফি তুলে রাজনীতিবিদেরও বিতর্কিত হবার ঘটনা ঘটেছে। ফলে এসব থেকেও প্রমাণিত হয় স্মার্টফোনের অপব্যবহার মাঝে মাঝে ব্যবহারকারীকে আনস্মার্ট করে দেয়।         

আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নজনের সেলফি দেখে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি অতিরিক্ত সেলফোন ব্যবহারে বাড়ছে মানসিক সমস্যা। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে মানসিক ঝুঁকি হচ্ছে- ছোট খাটো শব্দে ফোন ভাইব্রেট করছে মনে করে কয়েক মিনিট পরপরই ফোন খুলে দেখা মানেই ‘রিংজাইটি’-তে ভুগা। সেলফোনে শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা বাড়ছে, লেখাপড়ায় মনোসংযোগের অভাব দেখা দিচ্ছে, কাল্পনিক জগৎ তৈরি করছে মনের মধ্যে। মাত্রাতিরিক্ত যন্ত্রনির্ভর যোগাযোগে বাড়ছে আবেগ, কমছে বাস্তবজ্ঞান। অতিরিক্ত সেলফি তোলার অভ্যাসের সঙ্গে মানসিক ব্যাধির সম্পর্ক থাকতে পারে। নিজের চেহারা প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা মানসিক স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

অতিরিক্ত নিজের ছবি তোলার প্রবণতা এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে দেওয়ার মানসিক সমস্যার নাম ‘সেলফিটিস’। ব্যাধিটির তিনটি স্তর হতে পারে। প্রথম স্তরটি ‘বর্ডার লাইন সেলফিটিস’। মানসিক সমস্যার এই পর্যায়ে দিনে তিনবার নিজের ছবি তুলে কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের সাইটে তা পোস্ট না করা। দ্বিতীয় স্তরটি হচ্ছে ‘অ্যাকিউট সেলফিটিস’। এই পর্যায়ে দিনে অন্তত তিনটি নিজের সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে তিনটি সেলফিই পোস্ট করা হয়। শেষ স্তরটি হচ্ছে ‘ক্রনিক সেলফিটিস’। এ পর্যায়ে নিজের সেলফি তোলা রোধ করা যায় না। দিনে অন্তত ৬বার সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগের সাইটে পোস্ট করতে দেখা যায়। এ ছাড়া বারবার নিজের ছবি তোলার প্রবণতা থাকে ক্রনিক সেলফিটিস পর্যায়ে। অতিরিক্ত সেলফি তোলার সঙ্গে নার্সিসিজম ও আসক্তিরও সম্পর্ক থাকতে পারে। বডি ডিসফরমিক ডিজঅর্ডারে ভুক্তভোগী দুই তৃতীয়াংশ রোগীর ক্ষেত্রেই সেলফির সম্পর্ক রয়েছে।

 মুঠোফোন হারানোর ভয় নিয়ে মন সব সময় সতর্ক থাকায় মনের মধ্যে জন্ম নেয় ভয়জনিত অসুখ ‘নোমোফোবিয়া’ তথা নো ‘মোবাইল-ফোন ফোবিয়া’। অনেক শিক্ষার্থীরা এ রোগের শিকার। মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় বার্তা পাঠানো ও চ্যাটিং করার ফলে হয় স্লিপ টেক্সটিং’ সমস্যা।  এ সমস্যা হলে রাতে ঘুমের মধ্যে কাকে কী বার্তা পাঠানো হয় তা আর পরে মনে থাকে না। বার্তা পাঠানোর বিষয়টি মাথায় থাকে বলে ঘুমের মধ্যেও হাতের কাছে থাকা মুঠোফোন থেকে অনাকাঙ্খিত নম্বরে বার্তা চলে যায়। রাতে ঘুমানোর সময় নিজের মোবাইল ফোনটা বালিশের নিচে কিংবা পাশে রেখে দিলে তা মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্নায়ু অবচেতন অবস্থাতেও উত্তেজিত থাকে। ঘুমের মধ্যেও ফোনকল কিংবা মেসেজের অপেক্ষা করতে থাকে। আর এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে মানুষ খুব বেশিক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখতে পারে না। ঘুম না হওয়ায় মেজাজ খিটখিটে হয়, বদরাগী হয়ে যায়।

সেলফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারকারীরা মানসিক চাপে ভুগেন। তাদের মানসিক প্রশান্তি কমে যায়। সব সময় আশা করতে থাকে এই বুঝি ফোনটি বেজে উঠবে কিংবা কেউ হয়তো মেসেজ দিবে। সচেতনভাবে না হলেও  অবচেতন মন তাদের সব মনোযোগ এই ক্ষুদ্র ফোনটির কাছে কেন্দ্রীভূত করে। এধরণের চিন্তার কারণে এক ধরণের মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। আর স্মার্টফোন হারিয়ে যাওয়ার ভয়, চার্জ নিয়ে পেরেশানিও দেখা যায়। ফলে হাতে দামি স্মার্টফোন থাকলেই আপনি স্মার্ট হবেন এমনটি নয়; স্মার্টফোনের অপব্যবহারে কমেও যেতে পারে আপনার স্মার্টনেস।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.