ইসরাইলে সৌদি প্রিন্সের গোপন সফর নিয়ে তোলপাড়
ইসরাইলে সৌদি প্রিন্সের গোপন সফর নিয়ে তোলপাড়

ইসরাইলে সৌদি প্রিন্সের গোপন সফর নিয়ে তোলপাড়

নয়া দিগন্ত অনলাইন

সৌদি প্রিন্স গোপনে ইসরাইল  সফর করছেন। বেশ কয়েক দিন ধরে তিনি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইসরাইলের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে কীভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আরব দেশগুলোর সঙ্গে নজিরবিহীন সম্পর্ক জোরদারের ঘোষণার পরের দিনই এ খবর আসল। সৌদি অন্যান্য গণমাধ্যমে অবশ্য ওই সৌদি প্রিন্সের উপস্থিতিকে সৌদি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তির সফর বলে আখ্যায়িত করা হয়। তবে কর্তাব্যক্তির পরিচয় ও পদ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে সৌদি প্রিন্সের সফরকালে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন, আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক বিরাজ করছে। আরব দেশগুলোর সঙ্গে যা ঘটতে চলেছে, তা ইতিহাসে আগে কখনও ঘটেনি। বিভিন্ন বিষয়ে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইল সহযোগিতামূলক চুক্তি করতে যাচ্ছে। বিষয়গুলো এখনও স্পষ্ট হয়নি। তবে যা আলোচনা হচ্ছে, তার বাস্তবায়ন হলে সত্যিই গোটা বিশ্বে আমূল পরিবর্তন আসবে। বিষয়টি 'অভূতপূর্ব'।

উল্লেখ্য, ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফলে মুসলিম দেশটির কোনো নেতা আগে কখনও ইসরাইল সফর করেননি।

সূত্র : ভয়েস অব ইসরাইল রেডিও, মিডলইস্ট মনিটর ও রাশিয়ার স্পুটনিক নিউজ এজেন্সি

 

সৌদি আরবে দুই ধর্মীয় নেতা গ্রেফতার
 
 রয়টার্স


সৌদি আরবের এক প্রখ্যাত ধর্মীয় নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর হয়েছে। গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের সূত্রে খবরটি পাওয়ার কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ওই পোস্টের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, শনিবার অথবা রোববার প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা শেখ সালমান আল-আবদাহকে আটক করা হয়েছে। তার মতো আরেকজন ধর্মীয় নেতাকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে আল-আবদাহর এক কোটি ৪০ লাখ অনুসারী আছে। সৌদি আরবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রচারণা চালানোর জন্য ১৯৯৪-৯৯ পর্যন্ত কারাবন্দী ছিলেন তিনি। দেশটির চূড়ান্ত ক্ষমতাসম্পন্ন শাসকদের সমালোচনাকারী হিসেবে বিবেচিত ইসলামপন্থীদের দমনের উদ্দেশ্যে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। 


কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর বিরোধ মিটে যেতে পারে, শুক্রবার প্রকাশিত এমন একটি খবরকে টুইটারে নিজের শেষ পোস্টে স্বাগত জানিয়েছিলেন তিনি। ওই খবরে বলা হয়েছিল, জুনে শুরু হওয়া বিরোধ মেটানোর পথ নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

এর প্রতিক্রিয়ায় টুইটার পোস্টে আবদাহ বলেন, ‘তাদের জনগণের মঙ্গলের জন্য আল্লাহ তাদের পরস্পরের হৃদয়কে মিলিয়ে দিন।’ কিন্তু ‘সত্য ঘটনা বিকৃতির’ অভিযোগ তুলে সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে সংলাপ স্থগিত করলে দুই পক্ষের বিরোধ মেটানোর আশা নিভে যায়। কাতার ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে এমন অভিযোগ এনে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর। অবশ্য কাতার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


আবদাহকে নিয়ে গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ দুইজন ধর্মীয় নেতা ও অপর ১৮ জনকে আটক করেছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোতে বলা হয়েছে, টুইটারে ২২ লাখ অনুসারী থাকা আরেকজন প্রখ্যাত ধর্মীয় নেতা আওয়াদ আল কারনিকে আটক করা হয়েছে। আবদাহের মতো কারনিও কাতারের সঙ্গে আরব দেশগুলোর বিরোধ মিটিয়ে ফেলার পক্ষে কথা বলেছিলেন। এই দুই ধর্মীয় নেতাকে গ্রেফতারের বিষয়ে মন্তব্যের যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আইএসের হামলার পরিকল্পনা ভন্ডুল করার দাবি সৌদি আরবের
 
 বিবিসি

সৌদি আরব বলছে, তারা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের একটি হামলার পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দিয়েছে।

একজন সৌদি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঐ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুজন ইয়েমেনি নাগরিক এবং দুজন সৌদি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং তাদের কাছে গ্রেনেড ও আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী ও শিয়া সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে গুলি ও আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠী।

বার্তা সংস্থা এসপিএকে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন "গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে" এই হামলা ভন্ডুল করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একজন কর্মকর্তা জানান, "সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো এবং গুপ্তরচরবৃত্তির সঙ্গেও তারা যুক্ত ছিল।" এখানে উল্লেখ্য, মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করে রিয়াদ।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ-কে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা যে তথ্য দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা বিভাগের যে সূত্র রয়টার্সকে যে খবর দিয়েছে তা সম্পর্কিত খবর কিনা সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.