ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউনিয়নের লামা তাজপুর গ্রামে  প্রথম দফা বন্যায় কুশিয়ারা ডাইক ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশের চিত্র  :নয়া দিগন্ত
ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউনিয়নের লামা তাজপুর গ্রামে প্রথম দফা বন্যায় কুশিয়ারা ডাইক ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশের চিত্র :নয়া দিগন্ত
অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষতি

ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা : সীমাহীন দুর্ভোগ

মুহিব হাসান ওসমানীনগর (সিলেট)

সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে দফায় দফায় বন্যার পানি ওঠানামা করছে। স্মরণকালের দীর্ঘস্থায়ী এ বন্যায় জলাবদ্ধতায় সীমাহীন কষ্টে রয়েছে এলাকাবাসী। আকাশের অবস্থা এমন যে দুইদিন বৃষ্টি হলে আধাবেলা থাকছে রোদ। আর আধাবেলা রোদে যে পরিমাণ পানি কমছে, টানা দু-তিন দিনের বৃষ্টিতে আবার পানি বেড়ে গিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। এমনকি পানি আগের চেয়েও বেড়ে যাচ্ছে। এবারের বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাড়ির আঙিনা প্লাবিত হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বন্যায় তলিয়ে কোথাও কোথাও নিশ্চিহ্ন হয়েছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। দুই উপজেলার অন্তত পাঁচটি স্থানে ভেঙেছে কুশিয়ারা ডাইক এবং ডাইকের অনেক স্থান পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তা ছাড়া পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে নেমে আসা পানি কুশিয়ারা ডাইকের ওপর দিয়ে উপচে পড়ে দুই উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে প্রবেশ করায় স্মরণকালের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বন্যায় বোরো, আউশ ও আমন ধান, মওসুমি সবজি ও পুকুরের মাছ হারিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে হাহাকার বিরাজ করছে। সরকারি হিসাবে ক্ষতি হয়েছে অর্ধশত কোটি টাকার ওপরে। তবে বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি। বন্যাপরবর্তী সময়ে পানি নেমে গেলে এর পরিমাণ আরো অনেক গুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত মানুষের বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
জানা যায়, এবার বাংলা সাল শুরুর আগেই চৈত্র মাসে অকাল বন্যা এসে গ্রাস করে নেয় দুই উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্নের বোরো ফসল। হঠাৎ পানি এসে কুশিয়ারা ডাইকের বালাগঞ্জের পূর্বের খাল মুখের স্লুইস গেট দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করতে থাকে। বালাগঞ্জ উপজেলার করচারপাড় ও রাধাকোনা এলাকায় ডাইক ভেঙে গিয়ে হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। তলিয়ে যায় বালাগঞ্জ উপজেলার চাতল হাওর, গোড়াপুর হাওর, রৌয়ার হাওর। উপজেলার হামছাপুর, রশিদপুর, বঙ্গপুর এলাকায় কুশিয়ারা ডাইক তলিয়ে যায়। ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের লামাতাজপুর এলাকায় কুশিয়ারা ডাইক ভেঙে গিয়ে লোকালয় ও হাওরে পানি ঢুকে পানিবন্ধী হয়ে পড়ে ১২-১৩ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। তলিয়ে যায় ওসমানীনগর উপজেলার মুক্তারপুর হাওর, বানাইয়া হাওর, ভল্লবপুর হাওর, চড়ারবন, ফটুয়া বিল, হিঙ্গা বিল, চিনাউড়া হাওর, ছাউনিয়া রুনিয়া হাওর, মান্দারুকার হাওর, লেঙ্গুয়ার হাওর, কালাসারা হাওরসহ ছোট-বড় অনেক হাওরের ফসলিজমি। ক্ষতির শিকার হয় দুই উপজেলার হাজার হাজার কৃষক। ভেসে যায় পুকুরের মাছ। উৎপাদন হয়নি কোনো মওসুমি শাকসবজি।
এবার চৈত্র মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পাঁচ দফা বন্যা হয়েছে। সর্বশেষ দফায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওসমানীনগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের সব ক’টি ইউনিয়নই বন্যাকবলিত রয়েছে। এ উপজেলার আট হাজার ৮৪০টি বাড়ির ১৫ হাজার ২৭৮টি পরিবারের ৮২ হাজার ৩৯০ জন লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৭টি গরু, ১৮৫টি ছাগল-ভেড়া, ৮০০ হাঁস-মুরগি। সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়েছে ২৫২ হেক্টর জমির এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮৪ হেক্টর জমি। সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে অর্ধকিলোমিটার পাকা সড়ক, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে আট কিলোমিটার বাঁধ এবং ১২০টি গভীর নলকূপ।
বালাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সবকটি ইউনিয়নই বন্যাকবলিত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৩৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা। মারা গেছেন ছয়জন। উপজেলার পাঁচ হাজার ১৯৭টি বাড়ির ২০ হাজার ১৫৫টি পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত লোক ৬৬ হাজার ৩৯৭ জন। মারা গেছে ১০০ গরু, ১৫৫টি ছাগল-ভেড়া, এক হাজার ৪৫০টি হাঁস-মুরগি। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২৫ হেক্টর কৃষিজমি ও ১১টি মসজিদ। সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে অর্ধকিলোমিটার পাকা সড়ক, আংশিক নষ্ট হয়েছে ৪০ কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং ১০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ও ১০ কিলোমিটার বাঁধ। একটি বিদ্যালয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৫৪টির। এ ছাড়া গভীর নলকূপ ৪৫টি, অগভীর নলকূপ ৫০টি ও হাসপাতালসহ ১৪টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা ছাড়া দুই উপজেলায় খামারিদের অসংখ্য পুকুর তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে।
পানি উঠে প্লাবিত হয়েছে ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের তাজপুর, লামাতাজপুর, পূর্ব তাজপুর, সৈয়দপুর, সুরিকোনা, হলিমপুর, গাভুরটিকি, সম্মানপুর, চাতলপাড়, কালনীরচর, নুরপুর, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের ভল্লবপুর, কিয়ামপুর, গলমুকাপন, বড়হাজীপুর, ইশাগ্রাই, বুরুঙ্গা ইউনিয়নের হাজীপুরের একাংশ, আনরপুর, পশ্চিম তিলাপাড়া, পূর্ব তিলাপাড়া, উত্তর তিলাপাড়া, খয়েরপুর, পেয়ারাপুর, বুরুঙ্গা গ্রামের একাংশ, পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের একাংশ, প্রথমপাশা, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের জহিরপুর, একারাই, কলারাই, পূর্ব ইলাশপুর, কালাসারা, মোবারকপুর, উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর, আব্দুল্লাহপুর, তাহিরপুর, হামতনপুর, মাধবপুর, মান্দারুকা, মাটিহানী, আউসপুর, তাজপুর ইউনিয়নের কাদীপুর, চরইসবপুর, নটপুর, নাগেরকোনা, ভাড়েরার একাংশ, কমরপুর, ষাইলদা, হস্তিদুর, উছমানপুর ইউনিয়নের গহরপুর, বেরাখাল, রাঙ্গাপুর, মুমিনপুর, চান্দরগাঁও, মাধবপুর, কমরপুর, নিয়ামতপুর, দয়ামীর ইউনিয়নের নিজকুরুয়া, চিন্তামণি, খাগদিওর, কামারিপাড়া ও ঘোষগাঁও গ্রাম।
বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বালাগঞ্জ বাজার, হেডকোয়ার্টার, কালিয়ারগাঁও, হোসেনপুর, বাবরকপুর, ভট্টপাতন, নোয়াপাতন, ইলাশপুর, চরভোতা, দক্ষিণগহরপুর, পীরপুর, রিফাতপুর, আদিত্যপুর, দত্তপুর, তিলকচানপুর, কাশিপুর, গৌরীনাথপুর, জগৎপুর, হাসামপুর, রাধাকোনা, করচারপাড়, সিড়িয়া, রুপিয়া, মহানন্দ, বোয়ালজুর ইউনিয়নের মনোহরপুর, সিন্দ্রাকোনা, মাকড়সী, মকবেলপুর, একালিমা, মজলিসপুর, বাণীগাঁও, কাদিপুর, নশিরপুর, ভুরভুরিয়া, সোনাপুর, রুপাপুর, মোহাম্মদপুর, নুরপুর, খারমাপুর, দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের কুকুরাইল, কুবেরাইল, লামাপাড়া, গয়াসপুর, শঙ্করপুর, মোহাম্মদপুর, হোসেনপুর, জামালপুর, উজিয়ালপুর, জনকল্যাণ বাজার, পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের সারসপুর, ফুলতইল, লোহামোড়া, কলুমপুর, আতাসন, টেকামোর্দা, শ্রীনাথপুর, পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের সাদেকপুর, মঈশাশী, মধুরাই, নাড়িকলা, হাড়িয়ারগাঁও, মুসলিমাবাদ, কায়েস্থঘাট, দিনতপুর, সতুন সুনামপুর, পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের হামছাপুর, রশিদপুর, বঙ্গপুর, জালালপুর, ছাদেকপুর, ভাটপাড়া, পৈলনপুর, ফাজিলপুর, পূর্ব ইছাপুর, পশ্চিম ইছাপুর, কিত্তেজালালপুর গ্রাম তলিয়ে গেছে।
বন্যায় ফসল হারিয়ে হাওর পারের মানুষের বুকফাটা আর্তনাদে যখন আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে ঠিক তখনই হাওরের ধানে দেয়া সার ও কীটনাশক এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান পচে বিষক্রিয়া হয়ে মাছে মড়ক লাগে। বৈশাখ মাসের শুরুতে তলিয়ে যাওয়া হাওরের পচা ধান, মরা মাছ আর মরা হাঁসের উৎকট গন্ধ ছড়ায় বাতাসে। তখন ফসল হারিয়ে কৃষক, মাছ হারিয়ে মৎস্যজীবী আর হাওরে ভাসতে থাকা মরা মাছ খেয়ে খামারিদের হাঁস মরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আহাজারি শুরু হয়। যা ছিল খুবই হৃদয়বিদারক। বিভিন্ন এলাকায় হাওরের এসব মরা মাছ খেয়ে অনেক লোক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরিস্থিতি কঠিনপর্যায়ে গেলে দুই উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাওরে বিষক্রিয়ায় মরা মাছ না খেতে নির্দেশনা দিয়ে বিভিন্ন হাট বাজারে মাইকিং করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব শেষ করেন।
দুই উপজেলার মধ্যে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল এবং বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন, পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন, পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন ও দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের গ্রাম। এসব এলাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাট ডুবে গেলে যাতায়াতের জন্য নৌকাই একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এবারের দুই ঈদে এলাকায় বন্যা থাকায় মানুষের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত থাকায় মানুষ প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের খোলা আকাশের নিচে ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেনি।
বন্যাকবলিত এলাকার লোকজন বোরো, আউশ ও আমন ধান এবং মওসুমি সবজিসহ সব রকমের ফসল হারিয়ে সীমাহীন কষ্টে দিন যাপন করছে। মধ্যবিত্ত ও দিনমজুর মানুষের কষ্টের সীমা নেই। সাধারণ শ্রমিক শ্রেণীর লোকজনের হাতে কোনো কাজ না থাকায় তাদের অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে। দুই উপজেলায় দফায় দফায় বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু বন্যাকবলিত মানুষের আনুপাতিক হারে ত্রাণ বিতরণ অপর্যাপ্ত বলে জানা গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউর রাজা জানান, বন্যায় তাদের সমগ্র ইউনিয়নের গ্রাম পানিবন্দী রয়েছে। মানুষের বাড়িতে পানি থাকায় সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। তাদের এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচল কল্পনা করা যায় না। বোয়ালজুর ইউনিয়নের মোবারকপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান জানান, বন্যায় তাদের এলাকার বেশির ভাগ গ্রামে পানি উঠেছে। দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের মোরারবাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুছ জানান, তাদের ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের গ্রাম ও রাস্তায় পানি ওঠায় মানুষ নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছে। পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসাইন জানান, বন্যায় তাদের এলাকার সব ফসল তলিয়ে গেছে। কোনো ফসল না হওয়ায় মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগে রয়েছে। পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসান জানান, দফায় দফায় তাদের এলাকার হাওরের সব ফসল হারিয়ে কৃষকেরা এখন নিরুপায়। নৌকা ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ দেয়া হয়েছে। ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। করচারপর ও রাধাকোনা গ্রামে কুশিয়ারা ডাইকের ভাঙন মেরামত করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় রোগবালাই সারাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেডিক্যাল টিম নিয়োজিত রয়েছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দাল মিয়া বলেন, বালাগঞ্জের ছয়টি ইউনিয়নই বন্যাকবলিত। এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কৃষকেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী বলেন, এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ধরন বোঝা যাচ্ছে না। গত পরশু চার ইঞ্চি পানি বেড়েছে। গতকাল দুই ইঞ্চি কমেছে। আজ কী হবে বলা যাচ্ছে না। বন্যায় মানুষ বেশি কাঁচা ঘরবাড়ি হারিয়েছে। বন্যাপরবর্তী সময়ে তাদের যথাযথ পুনর্বাসন করা কষ্টকর হবে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় সরকারের পক্ষে যথেষ্ট ত্রাণ দেয়া সম্ভব নয়। তবে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। ত্রাণকার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.