তুলসী : ঠাণ্ডা কাশির ওষুধ

ডা: আবু আহনাফ

 

তুলসীর বৈজ্ঞানিক নাম ওসিমাম স্যাঙ্কটাম (ঙপরসঁস ঝধৎপঃঁস)। অন্য নাম হলো হলি বাসিল (ঐড়ষু ইধংরষ)। বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায় গাছটিকে এ নামে ডেকে থাকে। তাদের কাছে তুলসী গাছ ধর্মীয় উপাসনার অনুসঙ্ঘ। হিন্দু পরিবারগুলো তাদের ঘরের সামনে ফুলের টবে এ গাছটি রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। তাদের প্রার্থনার সময় তুলসী পাতা ব্যবহৃত হয় দেবতার উদ্দেশে। প্রসাদ হিসেবেও তারা তুলসী পাতা ব্যবহার করে থাকেন।

মূলত তুলসীর ওষুধি ব্যবহার ব্যাপক। তুলসী পাতা স্নায়ুটনিক এবং স্মৃতিবর্ধক হিসেবে পরিচিত। ফুসফুসের শ্লেষ্মা নিঃসরণে তুলসী পাতার রস অতুলনীয়। পাকস্থলীর শক্তি বর্ধনেও তা অনন্য। তুলসীর বীজ গায়ের চামড়াকে মসৃণ রাখে। বীজ সেবনে প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে থাকে। বিভিন্ন প্রকার জ্বরে তুলসী পাতার রসের ব্যবহার অনেকটা সাশ্রয়ী বিষয় হিসেবে পরিচিত। বিশেষ ঋতু পরিবর্তন হেতু যে জ্বর, ম্যালেরিয়া জ্বর এবং ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসায় এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে সমাজে। এ জন্য কচি তুলসী পাতা চায়ের সাথে সিদ্ধ করে পান করলে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুজ্বরের প্রতিরোধ হয়ে থাকে। অ্যাকিউট জ্বরে তুলসী পাতার সিদ্ধ রসের সাথে এলাচি গুঁড়া এবং চিনি ও দুধ মিশিয়ে পান করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। গলক্ষতের (ঝড়ৎব ঃযৎড়ধঃ) জন্য তুলসী পাতা সিদ্ধ পানি পান করলে এবং গারগল করলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।

তুলসী পাতার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে, ফুসফুসীয় সমস্যায়, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, কাশি এবং ঠাণ্ডাজনিত রোগে তুলসী পাতার রস, মধু ও আদা মিশিয়ে পান করলে উপশম পাওয়া যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে তুলসী পাতার রস, লবণ ও লবঙ্গ মিশিয়ে পান করলে ফল পাওয়া যায়। এ ধরনের রোগের ব্যবহারের জন্য তুলসী পাতা আধা লিটার পানিতে সিদ্ধ করতে হয় ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ তা অর্ধেকে পরিণত হয়।

কিডনি পাথরের ক্ষেত্রেও তুলসীর ব্যবহার চকমপ্রদ ফলাফল দিয়ে থাকে। তুলসী পাতার রস, মধুর সাথে মিশিয়ে নিয়মিত একাধারে ছয় মাস পর্যন্ত ব্যবহারে কিডনি পাথর অপসারিত হয়ে থাকে। হৃদরোগেও তুলসীর ব্যবহার রয়েছে। কোলেস্টেরল বৃদ্ধিজনিত হৃদরোগে তুলসী পাতার রস খুব উপকারী। এমনকি কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমিয়ে দেয় তুলসী। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রাও কমিয়ে দেয় তুলসীর রস।

তুলসী পাতার রস শিশুদের জন্য বেশ উপকারী। বিশেষত, শিশুদের ঠাণ্ডা লাগা, জ্বর, কাশি, ডায়েরিয়া এবং বমির জন্য তুলসী পাতার রস ভালো কাজ করে। পানি বসন্তের জন্যও তুলসীর রস কার্যকরী।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় তুলসী থেকে তৈরি ওষুধের নাম ওসিমাম স্যাঙ্কটাম (ঙপরসঁস ংধহপঃঁস)। অ্যাজমা, ঠাণ্ডা লাগা, জ্বর ইত্যাদিতে এর প্রধান ব্যবহার মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত এবং স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ায় এর চমৎকার ব্যবহার রয়েছে। গলাব্যথা, বুকব্যথা, মাথাব্যথা, চোখব্যথা, কানব্যথার লক্ষণেও এটা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মুখের ক্ষত, মুখের দুর্গন্ধ, পেট ফাঁপা, ক্ষুধামন্দা, লিবারে ব্যথা ইত্যাদিতে এর ব্যবহার রয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য হোমিওপ্যাথিতে এর কার্যকর ব্যবহার রয়েছে। হোমিওপ্যাথিতে ডায়েরিয়া, আমাশয়, অসাড়ে প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এবং বারবার প্রস্রাবের চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

মহিলাদের দীর্ঘ মেয়াদি মাসিকের রক্তক্ষরণ, সাদা স্রাব এবং প্রসব-পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে অসিমাম স্যাঙ্কটাম দ্রুত কাজ করে।

Ñআইএইচএমআর ফিচার

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.