বিষণœতা

তাজওয়ার তাহমীদ

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আমাদের দেশে ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানসিক রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, বাংলাদেশের যৌথ সমীক্ষায় দেখা যায়, ১৬.০১% লোক, যাদের বয়স ১৮ বছরের উপরে, তারা কোনো না কোনোভাবে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যে এর হার আরো বেশি (১৮.৪%)। বর্তমানে আমাদের দেশের জনসংখ্যার প্রতি ১০০ জনে একজন মারাত্মক ধরনের মানসিক রোগী।
অবসাদগ্রস্থতা বা বিষণœতা : একটি সামগ্রিক সমস্যা। ইউরোপ আমেরিকায় বিষণœতা আক্রান্ত রোগীর হার ৫%-১০%। বাংলাদেশে ৪.৬%। বিশ্বে এ সমস্যাটি বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে, যা ২০৩০ সাল নাগাদ প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অবসাদগ্রস্ততা বা বিষণœতা (উবঢ়ৎড়ংংরড়হ)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, শারীরিক ক্ষেত্রে : ক্লান্তি অনুভূতি এবং দুর্বলতা, সারা শরীরে ভুয়া ব্যথা বা ব্যথার অনুভূতি। এ ছাড়া দুঃখবোধে ভোগা। চিন্ত চেতনার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নৈরাশ্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো, আত্মহত্যার ভাবনা ও পরিকল্পনা। মনোসংযোগের ক্ষেত্রে অসুবিধা। আচরণগত ক্ষেত্রে, ঘুমের ব্যাঘাত মানে ঘুম কম হওয়া বা অতিরিক্ত ঘুম, ক্ষুধা মন্দা, যৌন ইচ্ছা হ্রাস ইত্যাদি লক্ষণ।
মোট কথা বিষণœতা মানে হলো মন খারাপ, দুঃখবোধ, বেদনার্ততা, বীতশ্রদ্ধ কিংবা মনের শোচনীয় অবস্থা। অর্থাৎ মনে আনন্দ উচ্ছ্বাস বলতে কিছু থাকে না। যা ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাপন, দৈনন্দিন কার্যক্ষেত্রে বিস্ময় সৃষ্টি করে, তার কাজের ক্ষতি করে। জীবনে চলার স্বাভাবিক আবেগ না থাকার কারণে ব্যক্তিজীবনের সর্বত্রই বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এভাবে দীর্ঘ দিন চলতে চলতে ব্যক্তির জীবনের প্রতি অনীহা দেখা দেয়। সে আত্মহত্যার চিন্তা করে, কখনো আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালায়।
জীবনে চলার পথে আনন্দ এবং দুঃখ পর্যায়ক্রমে আসে। আমরা বলে থাকি দুঃখের পরেই সুখ। কিন্তু কেউ যদি দুঃখবোধকেই জীবনের সাথী বানিয়ে ফেলে, সে-ই তো হতভাগাদের দলে শরিক হয়ে যায়। তখন সে তার চার পাশে শুধু দুঃখবোধ আর দুর্দশার ছবি দেখতে পায়। তার সুচিন্তা দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়। মনের মধ্যে একটা হাহাকার দেখা দেয়। কিন্তু যিনি তার সৃষ্টিকর্তাকে অভিভাবক মেনে নেয় তার মধ্যে কি এসব আজগুবি মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে? না, হতে পারে না। যারা আল্লাহকে তাদের রব হিসেবে মেনে নিয়ে তার ওপর অবিচল থাকে, তাদের জন্য কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না (সূরা-আল আহকাফ-১৩)। আল-কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী (আল-ইমরান-১৫০)। আর, ‘যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে, তাদের দৃষ্টান্ত হলো মাকড়সার মতো। সে ঘর বানায়, আর ঘরের মধ্যে মাকড়সার ঘরই সবচেয়ে দুর্বল (আন কাবুত-৪১)। নিশ্চয়ই, আল্লাহর স্মরণই মনে প্রশান্তি দেয় (সূরা রা’আদ-২৮)। সূরা তাওরাতে আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, আল্লাহ বিশ্বাসীদের মনোরোগ নিরাময় করে দেবেন (আয়াত-১৪-১৫)। আল্লাহ আরো বলেছেন, আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব (সূরা বাকারা-১৫২)। আল্লাহ বলেন, আমি যখন মানুষকে অনুগ্রহের স্বাদ দেই, তখন তারা আনন্দিত হয় এবং তাদের কৃতকর্মের ফলে তারা দুর্দশাগ্রস্ত হলেই তারা হতাশা হয়ে পড়ে (সূরা- রুম-৩৬)। আরো বলা হয়েছে, মানুষের কৃতকর্মের জন্য জলে-স্থলে বিপদ ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদ করানো হয়, যেন তারা আল্লাহর পথে ফিরে আসে (সূরা রুম-৪১) মোট কথা, মানুষ তার সৃষ্টিকর্তার বিধিবিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করলে মানসিক কোনো সমস্যার উদ্ভব হওয়ার কথা নয় এবং বিষণœতা শান্তিতে পরিণত হবে আল্লাহকে স্মরণের মধ্যে।
দি স্কুল অব ইসলামিক সাইকোথেরাপি
ফোন : ০১৫৫৬৬৩১৯৬৫

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.