৭০ বছরের বৃদ্ধের শিশুকে ধর্ষণ
৭০ বছরের বৃদ্ধের শিশুকে ধর্ষণ

৭০ বছরের বৃদ্ধের শিশুকে ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে দু’টি এলাকায় দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিকটিমদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। 


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দারুস সালাম এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) নির্যাতনের পর ধর্ষণ করে ওই এলাকার বাসিন্দা সোহান। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা গতকাল দারুস সালাম থানায় মামলা করেছেন। ছাত্রীর বাবা জানান, গত রোববার একই এলাকার সোহান নামে এক যুবক তার মেয়েকে বালুর মাঠ এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে সোহানের চার বন্ধু তাকে মারধর করে জোরপূর্বক একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ধর্ষণ করে।

পরদিন সোমবার স্থানীয়দের জানিয়ে তিনি থানায় যান। পরে পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী মেয়েকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মেয়েটি হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। সেখান থেকে ওসিসিতে পাঠানো হবে। দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান বলেন, মেয়েটিকে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 


এ দিকে ৬-৭ মাস আগে খিলগাঁও সিপাহিবাগ এলাকায় প্রথম শ্রেণীতে পড়–য়া ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল তাকে ঢামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। শিশুটির বাবা জানান, ৩ বছর আগে তারা সিপাহিবাগ চৌধুরী বাড়ির মোড়ে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ওই বাড়িতে হারুন মিয়া নামে এক সবজি বিক্রেতা থাকেন। হারুনকে মেয়েটি নানা বলে ডাকত। ৬-৭ মাস আগে তারা ঢাকার বাইরে যান। সে সময় মেয়েকে হারুনের কাছে রেখে যান। হারুন তখন মেয়েকে ধর্ষণ করে।

বিষয়টি তখন জানাজানি হয়নি। বেশ কয়েকদিন ধরে মেয়ের পেটে ব্যথা উঠে। চিকিৎসক দেখানোর পরও ভালো হচ্ছিল না। একপর্যায়ে মেয়ে ৬-৭ মাস আগে ধর্ষণের বিষয়টি পরিবারকে জানায়। বিষয়টি জেনে গত সোমবার তাকে মুগদা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে গতকাল দুপুরে তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মায়ের সামনে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো মেয়ের প্রাণ
 নিজস্ব প্রতিবেদক

 বাসচাপায় নিহত তাসলিমা আলম তিশার মায়ের আহাজারি। ইনসেটে তিশা :নয়া দিগন্ত
স্কুল ছুটি শেষে মা ও ভাইয়ের সাথে বাসায় ফিরছিল পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী তাসনিম আলম তিশা (১২)। কথা ছিল বাসায় ফিরে দুপুরের খাবার খাবে। কিন্তু তা আর হলো না। মায়ের চোখের সামনে ঘাতক বাস কেড়ে নিলো ছোট্ট তিশার জীবন। মেয়ের এমন করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছেন না মা রিমা আক্তার। মেয়ের নিথর দেহের সামনে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। জ্ঞান ফিরলেই চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমার তিশা, তুই কই গেলি? আল্লাহ, তুমি আমার তিশাকে ফিরিয়ে দাও।’


গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় মিরপুরের রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া লাইফ এইড হাসপাতালের সামনে ঘটে এ মর্মান্তিক ঘটনা। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা রোকেয়া সরণি সড়ক অবরোধ করে। তারা ঘাতক বাসটি ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। জনতার সহায়তায় পুলিশ বাসের হেলপার আব্দুর রহিম বাচ্চুকে আটক করতে পারলেও চালক পালিয়ে যায়। এ দিকে রাস্তায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তিশা মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। নিহতের বাবা খোরশেদ আলম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় মামলা হয়েছে। 


তিশার বাবার সহকর্মী মোহন সরকার বলেন, গতকাল দুপুরে স্কুল ছুটির পর একটি রিকশায় করে তিশা ও তার ছোট ভাইকে নিয়ে পূর্ব কাজীপাড়ার আল হেলাল হাসপাতালের কাছের বাসায় ফিরছিলেন তিশার মা। রিকশাটি লাইফ এইড হাসপাতালের সামনে থামে। সেখান থেকে সড়ক বিভাজক পার হওয়ার জন্য এগিয়ে যায় তারা। এ সময় মা ছেলের হাত ধরেছিলেন। পাশেই ছিল তিশা। মা ছেলেকে নিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যান। মেয়ে উঠতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যেই মিরপুর ১০ নম্বরের দিক থেকে ছেড়ে আসা তেতুলিয়া পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১১৭৩৭০) বাস মেয়েটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তিশার মৃত্যু হয়।


দুর্ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। তারা ওই বাস আটক করে ভাঙচুর করে। এর মধ্যে তিশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা প্রায় ১৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়দের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে বিক্ষুব্ধরা কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে। তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে। দুপুর আড়াইটায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা। কাফরুল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বাসের হেলপারকে আটক করতে পারলেও চালক পালিয়ে গেছে

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.