যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা দেয়ার হুমকি উত্তর কোরিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা দেয়ার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা দেয়ার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা জারির পর দিনই কঠোর ভাষায় তার জবাব এলো উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে।
সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে, দেশটির বিরুদ্ধে সবশেষ যে নিষেধাজ্ঞা, আরোপ করা হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়া এমন ভাষাতেই এসেছে পিয়ং ইয়ং-এর পক্ষ থেকে।
হুমকি পাল্টা হুমকির মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্রকে ভীষণ রকমের 'যন্ত্রণা' দেবার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
জাতিসঙ্ঘে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হান টায়ে সং জেনেভায় এক বৈঠকে বলেন, তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক হবে। যা সম্পর্কে দেশটির কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আসলে যা ঘটতে যাচ্ছে তার তুলনায় এই অবরোধ কিছুই নয়। তিনি মনে করেন, নিরাপত্তা পরিষদে কোন ইস্যুতে সবার সম্মতি পাওয়াটা অনেক বড় ব্যপার।
তবে, সবশেষ অবরোধ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে পুরো বিশ্বের একরকম ধৈর্য্যেরই বহিঃপ্রকাশ বলে জেনেভায় একটি নিরস্ত্রীকরণ বৈঠকে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি রবার্ট উড।

উড বলেন, 'গতকালের সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়াকে খুবই পরিষ্কার একটি বার্তাই দেয়, আর তা হলো তাদের উস্কানিমূলক আচরণে পুরো বিশ্বই ক্লান্ত। আর বিশ্ব এখন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত হচ্ছে। এই অবরোধ দেশটিকে তাদের পরমাণু অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী বন্ধে সহায়তা করবে বলেই আমার বিশ্বাস।'

সর্বশেষ অবরোধে উত্তর কোরিয়ায় কিছু মাত্রায় অপরিশোধিত তেল, কয়লা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা এসেছে দেশটির আয়ের অন্যতম উৎস তৈরি পোশাকে এবং অন্যান্য দেশে কাজ করতে যাওয়া কর্মীদের ওপরও।

ইরানের সাহায্যে উ. কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র!

ব্রিটেনের কর্মকর্তারা সানডে টেলিগ্রাফকে দেয়া সাক্ষাতকারে দাবি করেছেন, "উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ইরান সহযোগিতা করেছে।"

ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল প্রকাশিত সাপ্তাহিক সানডে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, "ইরানের গোপন সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম হয়েছে।" প্রতিবেদনে আরো এসেছে, ব্রিটেনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, "এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, উত্তর কোরিয়া কারো সাহায্য ছাড়াই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে।" সানডে টেলিগ্রাফে আরো লেখা হয়েছে, "উত্তর কোরিয়াকে সহযোগিতাকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইরান ও রাশিয়া।"

এর আগেও উত্তর কোরিয়াকে জড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল-তবে ভিন্নভাবে। চার বছর আগে ২০১৩ সালের এপ্রিলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় পাশ্চাত্যের কোনো কোনো সংবাদ ও রাজনৈতিক মহল কোনো দলিল-প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেছিল ইরানের সহযোগিতায় উত্তর কোরিয়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। সে সময় ওবামা সরকারের একজন ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছিল, "উত্তর কোরিয়ার পরমাণু তৎপরতা এবং ইরানের সঙ্গে দেশটির সহযোগিতা আমেরিকার জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয়।"

দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও এক প্রতিবেদনে ইরান গোপনে পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারবে না উল্লেখ করে লিখেছে, "উত্তর কোরিয়া সরকার দাবি করেছে তারা যে পরমাণু ওয়ারহেড তৈরি করেছে তা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর স্থাপন করতে পারবে।" দৈনিকটি মন্তব্য করেছে, "উত্তর কোরিয়ার ডিজাইন অনুসরণ করে ইরানের শাহাব-তিন ক্ষেপণাস্ত্রে ওয়ারহেড স্থাপন করা হয়েছে যা কিনা বিপজ্জনক ও সংকট সৃষ্টি করবে।" ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের গত দশ বছরের বেশি সময় ধরে সহযোগিতা বজায় রয়েছে বলেও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে মন্তব্য করা হয়েছে।

এ ছাড়া, পারচিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান গোপন পরমাণু তৎপরতা চালোতে পারে বলেও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন মহল থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএকে ওই কেন্দ্র পরিদর্শনের সুযোগ দিয়েছে। আইএইএও স্বীকার করেছে পারচিন নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গোপন সহযোগিতা বজায় রয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে কোরিয় উপদ্বীপে সংকট সৃষ্টির মার্কিন চেষ্টার ব্যাখ্যা দাঁড় করানো। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকা ও তার মিত্রদের হুমকি ও অযৌক্তিক পদক্ষেপ নেয়ার কারণেই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরমাণু পরীক্ষা থেকে বিরত থাকার শর্তে আমেরিকা যেসব প্রতিশ্রুতি উত্তর কোরিয়াকে দিয়েছিল তা পালন না করায় পিয়ং ইয়ং কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়। আর এখন আমেরিকা হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ওই দেশটিকে নতজানু করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মূলত আমেরিকার প্রতি আস্থার অভাবেই উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

যাইহোক, ইরান সবসময়ই পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তি মেনে চলছে এবং দেশটি মনে করে পরমাণু অস্ত্র কারো নিরাপত্তা দিতে পারে না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.