এ টি এম শামসুজ্জামান
এ টি এম শামসুজ্জামান

প্রেমিকার একটি কথাতেই প্রেম হাওয়া হয়ে গিয়েছিল এ টি এম শামসুজ্জামানের

আলমগীর কবির

দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান। এই সময়ের মধ্যে কখনোই সাংবাদিকদের সাথে নিজগৃহে আড্ডা দেয়ার সময় হয়ে ওঠেনি তার। তবে ইচ্ছে ছিল কোনো এক জন্মদিনে ঘরোয়া আড্ডায় বসবেন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে। ১০ সেপ্টেম্বর ৭৭তম জন্মদিনে সেই ইচ্ছে পূরণ হলো। যেখান থেকে গণমাধ্যম কর্মীরা শুনলেন অনেক না জানা ইতিহাস। 


রাজধানীর সূত্রাপুরে কিংবদন্তি এই অভিনেতার বাসার পরিবেশ অন্য যেকোনো বাসা থেকে ভিন্ন। পুরনো ঐতিহ্যের অনেক কিছুই চোখে পড়বে তার ড্রয়িংরুমে। পা বিছিয়ে বসতে হবে কোলবালিশে হেলান দিয়ে। চার দেয়ালের বেশির ভাগই দখল করে রেখেছে বুকসেলফ। দেয়ালের একপাশে ৫০ বছরের পুরনো অ্যাকুরিয়াম এবং ওপরের ঝাড়বাতি রুমের সৌন্দর্য অনেকাংশে বাড়িয়েছে। এ টি এম শামসুজ্জামান যেখানে বসেন, সেটি তিনটি কোলবালিশ দিয়ে আলাদা করা। জন্মদিন উপলক্ষে সেদিন সন্ধ্যায় যারা সূত্রাপুরের বাসায় হাজির হয়েছিলেন, সবাই বললেন, চলচ্চিত্রে দেখা মহাজন বাড়ির সাথে এর মিল রয়েছে। ড্রয়িংরুমে সবাই যখন অভিনেতাকে নিয়ে আলোচনায় মগ্ন তখনই পাশের রুম থেকে হাজির হলেন এ টি এম শামসুজ্জামান। সবার সাথে কুশল বিনিময় করে বসলেন আড্ডায়।

প্রথমে কী নিয়ে কথা বলবেন, শৈশব স্মৃতি, অভিনয়ে আসার গল্প নাকি ব্যক্তি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা? সময়ক্ষেপণ না করে তিনি শুরু করলেন বিউটি বোর্ডিং দিয়ে; যেটি বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডার স্থল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এ টি এম শামসুজ্জামান তো অভিনয়ের মানুষ, তিনি ওখানে কেন? গুণী অভিনেতা বললেন, ষাটের দশকে যখন বিউটি বোর্ডিংয়ের নাম চার দিকে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন থেকেই আমি সেখানকার নিয়মিত সদস্য ছিলাম। আহমদ ছফা, কবি শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হকসহ অনেক গুণী মানু ছিলেন তার আড্ডার সঙ্গী। বয়সে সবার ছোট হওয়ায় এ টি এমকে নিয়ে অনেক মজা হতো সবার মাঝে। তখনকার সময় বাংলায় প্রকাশিত প্রায় সবগুলো পত্রিকায়ই তার লেখা গল্প ও কবিতা ছাপা হতো। লেখালেখির অভ্যাস থেকেই পড়া হয়েছে বিশ্বের নামকরা লেখকদের অনেক বই। দেখেছেন অনেক চলচ্চিত্র। এভাবেই আড্ডায় প্রবেশ করেছে অনেক প্রসঙ্গ। যেখানে একটা মঝার স্মৃতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুবক বয়সে এক মেয়ের প্রেমে পড়েছিলাম। অনেক ভালো লাগত ওকে। কিন্তু ওই ভালোবাসার সমাপ্তি হয়েছে বেশ অদ্ভুতভাবে।

মেয়েটি একদিন আমাকে তার বান্ধবীকে দেখিয়ে বলেছিল- দেখ, দেখ ছেলেটাকে কেমন কার্টুনের মতো লাগে। ওই সময় থেকেই আমার প্রেম হাওয়া। আর কোনো দিন খোঁজ করেনি ওই মেয়ে।

আড্ডার প্রসঙ্গে যে নামগুলো বারবার এসেছে তার মধ্যে ছিল নায়করাজ রাজ্জাক, আব্দুল জব্বার, শবনম, প্রবীরমিত্র প্রসঙ্গসহ নিজের বাবা সম্পর্কে অনেক অজানা কথা। আড্ডার পর গণমাধ্যম কর্মীদের নিজেই আপ্যায়ন করেছেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত তখন ১১টা, সবার বাড়ি ফেরার পালা, কিন্তু এ টি এম শামসুজ্জামান চাচ্ছিলেন আরো গল্প করতে। কারণ তার বাসায় তার মেয়ে জামাই, নাতি-নাতনীরা জন্মদিনের অনুষ্ঠান করা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

এ টি এম শামসুজ্জামান বলেন, ‘আজকের এ দিনটি আমার সারা জীবন মনে থাকবে। কারণ আপনারা সবাই অনেক কষ্ট করে গরম আর বৃষ্টির দিনে এই পুরান ঢাকায় এসেছেন আমার কাছে আপনাদের ভালো লাগা-ভালোবাসা থেকে। আমি আপনাদের কাছে ঋণী হয়ে গেলাম। আমি সত্যিই বেশ আনন্দিত আজ। আপনারা ভালো থাকবেন।’ এ টি এম শামসুজ্জামানের সাথে জন্মদিনের আড্ডায় যারা অংশ নিয়েছিলেন তারা হচ্ছেনÑ রিমন মাহফুজ, অভি মঈনুদ্দীন, নিথর মাহবুব, রকিব হোসেন, রেজাউর রহমান রিজভী, রুদ্র মাহফুজ, আলমগীর কবির, এমদাদুল হক মিল্টন, কামরুজ্জামান মিলু, ফটোগ্রাফার দীপু খান ও আলিফ হোসেন রিফাত।

সঙ্কটে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি
 বিনোদন প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক সময়ে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি জগতে কপিরাইট আইনের অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ করে কিছু ব্যক্তি মামলাবাজির মাধ্যমে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডন মিউজিকের প্রযোজক বাবুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ মামলায় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি পড়তে যাচ্ছে গভীর সঙ্কটে।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান ও ধানমন্ডি থানায় অবৈধভাবে গান ব্যবহারের অভিযোগে ডন মিউজিকের বরাত দিয়ে প্রখ্যাত লালনগীতি শিল্পী ফরিদা পারভিন দু’টি পৃথক মামলা করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন মামলায় অভিযুক্তরা।

গত ২০ আগস্ট ২০১৭ গুলশান থানায় দায়েরকৃত মামলায় ইয়োন্ডার মিউজিক বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ কো-অর্ডিনেটর মেহেদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গুলশান থানায় সঙ্গীতশিল্পী জানে আলম ও ইকবাল হোসেনসহ মোট আটজনের নামে মামলাটি করা হয়।

মামলা নম্বর হচ্ছে-১১৯৪/১৭। এ মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ইমরুল করিম, কান্ট্রি ম্যানেজার ইয়োন্ডার মিউজিক বাংলাদেশ, মাজহারুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লেজার ভিশন, রাজু, নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োন্ডার মিউজিক বাংলাদেশ।

এ দিকে ধানমন্ডি থানায় আরো একটি পৃথক মামলা হয়েছে। মামলা নিয়ে অভিযুক্তরা বলেন, ‘মামলায় বর্ণিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। অবৈধভাবে চাপ সৃষ্টি করে আইনের অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ করে নগদ অর্থ আদায়ের জন্য এই মামলা করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরো বলেন- ‘ফরিদা পারভিন সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন সঙ্গীতশিল্পী। তিনি বাবুল চৌধুরীর প্ররোচনায় এ রকম একটি ভুল পদক্ষেপ নিয়েছেন।’ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অনেকের সাথে আলাপকালে তারাও বাবুল চৌধুরীর এমন কার্যকলাপের নিন্দা জানান এবং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থেই তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে মামলার বাদিপক্ষের বাবুল চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন- ‘আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির এখন অসময় চলছে। আপনি নিউজটি করবেন না, আপনি নিশ্চয়ই সঙ্গীত পছন্দ করেন। এখন এ রকম নিউজ করলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। কেননা ব্যবসার অবস্থা তেমন ভালো নয়।’

এক দিকে এ বিষয়ে নিউজ করতে নিষেধ করছেন, অন্য দিকে তিনি নিজেই তাহলে কেন এই মিথ্যা মামলাটি করলেন? এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে বাবুল চৌধুরী এ প্রতিবেদকের ফোনের লাইন কেটে দেন।

আমরা আশা করি, আমাদের দেশের সঙ্গীতের সুদিন আবার ফিরে আসবে। তবে তার জন্য সব মিথ্যা-বানোয়াট মামলা বাদ দিয়ে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। শ্রোতা-পাঠকেরা মামলার খবর নয়, নতুন নতুন গানের খবর পড়তে চান। তারা নতুন গান শুনতে চান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.