পাকিস্তানে মিসাইল-যুদ্ধ বিমান সাজিয়ে বিশাল মহড়া চীনের
পাকিস্তানে মিসাইল-যুদ্ধ বিমান সাজিয়ে বিশাল মহড়া চীনের

পাকিস্তানে মিসাইল-যুদ্ধ বিমান সাজিয়ে বিশাল মহড়া চীনের

নয়া দিগন্ত অনলাইন

চীন-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরো মজবুত করতে যৌথ বিমান মহড়া চালিয়েছে চীন-পাকিস্তান। গত সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ এই মহড়া হয়।

ওই মহড়া যখন হচ্ছিল, তখনই চীন সফরে ছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ। তার এই সফর চলাকালীন দুই দেশের মধ্যে এই মহড়া যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত এই মহড়াকে ট্রেনিং হিসাবেই দেখছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। পাকিস্তান এবং চীনের এই যৌথ বিমান মহড়ায় অংশ নেয় চীনের জি-১১, জি এইচ-৭ বোমারু বিমান এবং কে.জি-২০০ অ্যাওয়াক্স সামরিক বিমানসহ নানা ধরনের যুদ্ধ বিমান। এ ছাড়াও ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য নানা ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটও এই মহড়ায় ব্যবহার করেছে বেইজিং।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মহড়া একদিকে ভারত এবং অন্যদিকে ওয়াশিংটনকে জবাব দিতেই করা হয়। ভারতকে বোঝানো যে চীন পাকিস্তানের পাশেই আছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকার বিষয়ে পাকিস্তানকে দোষারোপ করে বলেছেন, পাকিস্তান সরকার সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়া অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন কংগ্রেস ও সামরিক বিভাগ এরই আলোকে পাকিস্তানে মার্কিন সাহায্য বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে। পাকিস্তান মার্কিন সরকারের এই অবস্থানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে ওয়াশিংটনকে এটা বোঝাতে চাইছে যে এ অঞ্চলের রাজনীতিতে পাকিস্তানের হাত অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং দেশটি পুরোপুরি মার্কিন সাহায্য-নির্ভর নয়। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়াসহ নানা ইস্যুতে চীন-মার্কিন বিরোধের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি চীনও পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়ে শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।

মার্কিন সরকারের সঙ্গে টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান-চীন ঘনিষ্ঠতা ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান এতকাল ধরে মার্কিন সরকারের কাছ থেকে যেসব সুবিধা বা ছাড় আদায় করত এখন তা চীনের কাছ থেকে পাওয়ার চেষ্টা করছে। আর সেদিকে তাকিয়েই এই মহড়া বলে মনে করা হচ্ছে।


পাকিস্তানি আক্রমণ কতটা রুখতে পারবে ভারতের 'নাগ'?

পাকিস্তানের হামলা রুখে দেয়ার জন্য ভারত নতুন অস্ত্র নামিয়েছে। নাম 'নাগ'। আরো আগেই নামানোর কথা ছিল। কিন্তু সফল হচ্ছিল না ‘নাগ’। বিশাল মরুপ্রান্তর দিয়ে যদি হানা দেয় শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক, তা হলে রুখে দেবে নাগ-ই। আশা ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর। কিন্তু দিনের বেলায় মরুভূমির ভীষণ তাপমাত্রা ধাঁধা লাগিয়ে দিচ্ছিল চোখে। ছোবল মারতে পারছিল না 'নাগ'।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও অবশ্য হাল ছাড়েনি। আরো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তির জন্য অত্যাধুনিক ‘চোখ’ দেয়া হলো নাগকে। তার পরই পরীক্ষামূলক প্রয়োগে বিধ্বংসী আঘাত হেনেছে নাগের নতুন সংস্করণ ‘প্রসপিনা’। থর মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তে অবস্থানরত পাকিস্তান ট্যাঙ্ক বাহিনীর রক্তচাপ আরো বাড়াবে নাগের এই সাফল্য, বলছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

২০১৫ সালেই ভারতীয় বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল নাগ ক্ষেপণাস্ত্র। অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) নাগকে ভূমি এবং আকাশ, দুই জায়গা থেকেই ছোড়া যায়। প্রতিপক্ষের ট্যাঙ্কই মূলত এই ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য। লঞ্চিং প্যাড থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে থাকা ট্যাঙ্ককেও নিমেষে গুঁড়িয়ে দিতে পারে নাগ।

কিন্তু রাজস্থানের মরুভূমিতে ঠিক মতো কাজ করতে পারছিল না এই ক্ষেপণাস্ত্র। দিনের বেলায় মরুভূমি এত গরম থাকে যে, ক্ষেপণাস্ত্রের টার্গেট অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুর তাপমাত্রা এবং মরুভূমির বালির তাপমাত্রা প্রায় সমান হয়ে যায়। ফলে নাগ ক্ষেপণাস্ত্রের ইমেজিং ইনফ্রারেড সিকার লক্ষ্যবস্তুকে ঠিক মতো চিনতেই পারছিল না। রাতের পরীক্ষায় নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানছিল ক্ষেপণাস্ত্রটি। কিন্তু দিনের বেলায় ব্যর্থ হচ্ছিল। সেই কারণেই নাগ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি আরো অত্যাধুনিক করার কাজে হাত দেয় ডিআরডিও। আরো শক্তিশালী এবং আধুনিক ইনফ্রারেড সিকার লাগানো হয় নাগে। এই নতুন সংস্করণের নাম দেয়া হয় ‘প্রসপিনা’।

গত বছরই প্রসপিনার নৈশ পরীক্ষা হয়েছিল। সফল হয়েছিল ক্ষেপণাস্ত্রটি। এ বছরের জুনে রাজস্থানের মরু অঞ্চলে চন্দন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে দিনের বেলাই পরীক্ষামূলক ভাবে ছোড়া হয় নাগ। সে পরীক্ষায় প্রসপিনা নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। ডিআরডিও সূত্রের খবর, এই ভয়ঙ্কর ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রকে বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।

ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলি যুদ্ধে লড়তে হয়েছে ভারতকে, সেগুলোর মধ্যে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধেই সবচেয়ে বড় ট্যাঙ্ক হানার সম্মুখীন হয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। ভারতের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানি ট্যাঙ্ক বাহিনী। প্রাথমিক ভাবে পাকিস্তান কিছু সাফল্য পেয়েছিল, সীমান্ত থেকে পাঁচ কিলোমিটার ভিতরের শহর ক্ষেমকরণ পর্যন্ত কব্জা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ভারতীয় বাহিনীর ভয়াবহ আক্রমণে পাকিস্তানের ৯৯টি ট্যাঙ্ক শেষ হয়ে যায়। অন্যান্য সেক্টরের ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে ভারতের হাতে সে বার পাকিস্তান ১৬৫টি ট্যাঙ্ক হারিয়েছিল। মোড় ঘুরে গিয়েছিল যুদ্ধের।

ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যদি সঙ্ঘাত হয়, তা হলে পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে, বিশেষ করে রাজস্থানের বিরাট মরু অঞ্চল দিয়ে বড়সড় ট্যাঙ্ক হানার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তাই ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্থানের মরুভূমিতে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সময় নাগ ক্ষেপণাস্ত্র যখন ব্যর্থ হয়েছিল, তখন পাকিস্তানের বাহিনী স্বস্তির নিশ্বাস ছেড়েছিল। কিন্তু আরো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে নাগ থেকে প্রসপিনা হয়ে উঠে ভারতের এটিজিএম যে ভাবে বিধ্বংসী আঘাত হানতে শুরু করেছে, তাতে পাকিস্তানের স্বস্তি উধাও হতে বাধ্য।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.