বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাক আটকের নিন্দা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমকে সরকার কক্সবাজারের উখিয়ায় যেতে দিচ্ছে না অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আজ বুধবার এক আলোচনা সভায় এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। তারা যে বলছেন তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটা শুধু আইওয়াশ বলে প্রমাণিত হচ্ছে। আসলে তারা রোহিঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়াননি। সেইসাথে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় নিয়ে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব সংসদকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ দাঁড় করানো হিসেবে অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল।

রাজধানী রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

এতে সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এসব বলেন।

দলের প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্মমহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, আমিনুল হক, এবিএম মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মো: মুনির হোসেন, আমিরুল ইসলাম খান আলীম সহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে সংসদ একটি প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এটা সুনির্দিষ্টভাবে পার্লামেন্টকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো। আমরা এর ঘোরতর নিন্দা জানাচ্ছি। এভাবে বিচার বিভাগকে হেয় প্রতিপন্ন করে, প্রধান বিচারপতিকে হেয় প্রতিপন্ন করে, বিচারপতিদের হেয় প্রতিপন্ন করে আজকে রাষ্ট্রের মূলভিত্তিকে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রাষ্ট্রকে তারা সত্যিকারভাবে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে রাখতে চায় না। তারা চায় পুরোপুরিভাবে একটা পরনির্ভরশীল দুর্বল জাতি হিসেবে রাখতে।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিএনপির ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমকে বাঁধা প্রদানের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের খাদ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে আমাদের উচ্চ পর্যায়ের টিমকে আটকে দেয়া হয়েছে কক্সবাজারে। ধিক্কার দেই আপনাদেরকে, ঘৃণা প্রকাশ করি যে, আপনারা ত্রাণের মতো মহৎ কাজ পর্যন্ত করতে দেন না। আমার প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারের কাছে। আপনি যে গতকাল কক্সবাজারে উখিয়ায় গিয়ে ওই রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিলেন। পত্র-পত্রিকায় বিভিন্নভাবে লেখা হলো প্রধানমন্ত্রী কাঁদলেন, কাঁদালেন। আজকে এই যে ২০-২২ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে আমাদের নেতারা গেলেন, তারা তো অন্তত ৪/৫ হাজার অসহায় ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গাদের মুখে একবেলা খাবার তুলে দিতে পারতেন। সেই খাওয়া থেকে ও খাদ্য থেকে তাদেরকে কেনো আপনি বঞ্চিত করলেন? আসলে উদ্দেশ্য একটাই আপনারা তো ত্রাণ দেয়া লোক দেখানো করছেন, আপনারা মানুষদের বাঁচানোর জন্য করছেন না।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গতকাল টেলিভিশনে দেখছি বেশিরভাগ রোহিঙ্গা অভুক্ত। একটামাত্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দেখছি তারা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। সরকার চিকিৎসা কেন্দ্র খুলেছে কি না আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কোনো ছাউনি তৈরি হয়েছে কি না তার নিচে তারা বাস করছে। আমরা দেখেছি উন্মুক্ত আকাশের নিচে তারা বৃষ্টি-বাদলের মধ্যে দুঃস্থ-দুর্বল শিশুদের নিয়ে অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় ত্রান টিমকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যাওয়ার দাবিও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে খবর এসেছে আমাদের দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে কক্সবাজারে কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমকে উখিয়াতে প্রশাসন যেতে দিচ্ছে না, পুলিশ ট্রাক আটকিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কক্সবাজারে আমাদের বিএনপি অফিস পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আমাদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অফিস ঘরে আটকা পড়েন। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেইসাথে অবিলম্বে বিএনপির রিলিফ টিমকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেখানে যেতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এই সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। আসলে তারা রোহিঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়াননি। যদি দাঁড়াতেন তাহলে তারা আজকে বিএনপির রিলিফ টিমকে উখিয়ায় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে বাধা দিতেন না। এখানেই প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে চান না বলেই আজকে এই জঘন্য কাজটি করেছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের কাছে আমাদের রিলিফ টিমকে যেতে দেয়া হলো না? কেনো এই বাধা। আজকে কারা রাজনীতি করছে? আওয়ামী লীগ রাজনীতি করছে, বর্তমান সরকার রাজনীতি করছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশে আসলেন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্ক আকাশচুম্বি। তিনি যখন ভারতে গেলেন তখন বলেছিলেন ভারতের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক হিমালয় প্রমাণ উচ্চ। আজকে রোহিঙ্গার মতো মানবিক ইস্যুতে চীন ও ভারত বাংলাদেশের পাশে নেই। তারা মিয়ানমারের পাশে আছে, যারা খুন করছে, জেনোসাইড করছে তাদের পাশে আছে। তাই এতো প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন আজকে প্রমাণিত হয়েছে উনি দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করেছেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ঢাকা থেকে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে দলের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার যান। প্রতিনিধি দলে আছেন সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.