সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জরিপ

আরো সতর্ক হলে সহনীয় করা সম্ভব

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির দেয়া তথ্যানুযায়ী জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন দুই হাজার ৮৭৩ জন। আহত হয়েছেন ছয় হাজার ৫০০ জন। দুর্ঘটনা ঘটেছে দুই হাজার ৪১৯টি। নিহতদের মধ্যে ৩৪৪ জন নারী ও ৩৮১ শিশু রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক, সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
বেসরকারি একটি সংগঠন জরিপ ও পর্যবেক্ষণ শেষে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। জরিপ ও পর্যবেক্ষণে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার সময় ২২টি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র, আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার সাহায্য নেয়া হয়েছে।
জরিপ ও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে আট মাসের মধ্যে প্রথম পাঁচ মাসে দুর্ঘটনা যেমন বেশি ঘটেছে, হতাহতের সংখ্যাও বেশি হয়েছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আগস্টে এই সংখ্যা তুলনামূলক কম। গত তিন মাসে দুর্ঘটনার পরিমাণ কমলেও সহনীয়-মাত্রায় আসেনি।
কমিটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছেÑ সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো যা-ই হোক সতর্কতা অবলম্বন করেই দুর্ঘটনা, ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির মাত্রা কমানো সম্ভব। জাতিসঙ্ঘ ২০২১ সালের মধ্যে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণকে কমিয়ে আনার একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ সচেষ্ট হলে জাতিসঙ্ঘের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি যেতে সক্ষম হবে।
বর্তমানে দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত। আনকোরা ড্রাইডিং, গাড়ির ফিটনেসের অভাব, ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে শৈথিল্য এবং সড়কের দুরবস্থাকে দায়ী করা ছাড়াও আরো কিছু বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়। যেমন সড়কে রেল ক্রসিং। রাস্তায় বাজার বসিয়ে চলাচলে বিঘœ ঘটানো একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়। তা ছাড়া মহাসড়কে গতিসীমা প্রায়ই মানা হয় না। ধারণক্ষমতাও বিবেচনায় নেয়া হয় না, চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ড্রাইভিং সিটে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলা, চালকের নেশাগ্রস্ততা, ঘুমকাতুরে অবস্থায় গাড়ি চালানোকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশের ট্রাফিকব্যবস্থা এখনো দুর্বল, জাতিসঙ্ঘের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এ দিকটায় বিশেষ নজর দিতে হবে। আশা করি নিরন্তর চেষ্টা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে দুর্ঘটনাজনিত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.