সাঘাটায় বন্যায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট

এম মনিরুজ্জামান বুলেন সাঘাটা (গাইবান্ধা)

বন্যায় সাঘাটা উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে এলাকার জমি থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও জলমগ্ন থাকার কারণে জমির রোপা আমন, আখ, আমনের বীজতলা ও শাকসবজিসহ সব ধরনের ফসল পচে যাচ্ছে। ফসল হারিয়ে এখন এই উপজেলার কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সাঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ও ৬০০ হেক্টর জমিতে আখ, বীজতলা ও শাকসবজির আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা ও আলাই নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে হলদিয়া, জুমারবাড়ী, কামালের পাড়া, ঘুড়িদহ, বোনার পাড়া, পদুমশহর, ভরতখালী, সাঘাটা ও কচুয়াÑ এই ৯ ইউনিয়নের সব ক’টি এলাকা প্লাবিত হয়ে জমির ফসল পানির নিচে ১২ দিন ধরে নিমজ্জিত থাকে। ফলে কমপক্ষে ১০ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পচে যাচ্ছে বলে এলাকার কৃষকেরা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো সঠিকভাবে নিরূপণ করা হয়নি। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে আরো বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, পানিতে নিমজ্জিত হওয়া ফসলের ৮৫ ভাগ নষ্ট হয়েছে। খামার পবনতাইড় গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল বলেন, প্রথম দফায় বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে চড়া দামে বাজার থেকে চারা ক্রয় করে তিন বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিলাম। রোপণ করার তিন দিনের মধ্যে আবারো বন্যা এসে সব ধানক্ষেত নষ্ট করেছে।
ময়মন্তপুর গ্রামের আদর্শ কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, চার বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিলাম। বন্যায় সব নষ্ট করেছে। পরিবারের লোকজন ও গরু-ছাগল এখন কী খেয়ে বাঁচবে এর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেন, বন্যা-পরবর্তী সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এলাকায় আসেননি। এমনকি তাদের এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায় না।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.