বন্যায় ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কাড়াপাড় এলাকার ভাঙা সড়ক  :নয়া দিগন্ত
বন্যায় ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কাড়াপাড় এলাকার ভাঙা সড়ক :নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামে সংস্কার হয়নি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮০ কিলোমিটার সড়ক

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সোনাহাট স্থলবন্দরসহ ৩ উপজেলা
রেজাউল করিম রেজা কুড়িগ্রাম

এবারের বন্যায় কুড়িগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট ও ব্রিজ কালভার্ট এখনো মেরামত না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। পানির স্রোতে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী পাকা সড়কের ভেঙে যাওয়া চারটি অংশ এখনো মেরামত করা হয়নি। ফলে প্রায় চার সপ্তাহ ধরে জেলা সদরসহ সারা দেশের সাথে বন্ধ রয়েছে সোনাহাট স্থলবন্দরসহ তিন উপজেলার প্রায় আট লাখ মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা।
সাম্প্রতিক বন্যায় কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার ৭৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৬২ ইউনিয়নই বন্যাকবলিত হয়। পানিবন্দী হয়ে পড়ে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক জনপথ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ৪০ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ১৪০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ও ২৩টি ব্রিজ-কালভার্ট। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক। সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের পাটেশ্বরী পুরনো বাসস্ট্যান্ড ও কুড়ারপাড় এলাকায় এ সড়কের চারটি অংশে প্রায় ২০০ মিটার সড়ক সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত না হওয়ায় প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামসহ সারা দেশের সাথে বন্ধ রয়েছে নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলাসহ সোনাহাট স্থলবন্দরের যোগাযোগব্যবস্থা। এতে করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীসহ দুর্ভোগে পড়া মানুষ।
কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রী আবদুল ওয়াদুদ, আনোয়ারুল হক, আমিরুল ইসলামসহ একাধিক যাত্রী জানান, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে চলাচলের সে সমস্যা থাকলেও সড়কটির ভাঙা অংশ মেরামত করা হচ্ছে না।
সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী শাহিন আহমেদ বলেন, জেলা সদরসহ সারা দেশের সাথে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় লোকসানে পড়তে হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে কোনো গাড়ি এই রোডে চলাচল করতে পারছে না। যেখানে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ পাথরবোঝাই ট্রাক পাথর নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেত তা প্রায় চার সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সড়কের ভাঙা অংশ মেরামত করে যোগাযোগব্যবস্থা চালু করা হোক।
যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কাজ শুরু করার কথা জানালেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সড়ক মেরামত প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বরকত মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, এ সড়কের চারটি অংশে প্রায় ২০০ মিটার সম্পূর্ণ ধসে গেছে। এর মধ্যে ছোট দু’টি ভাঙা অংশ ভরাট করা হয়েছে। বাকি ভাঙা অংশ দু’টিতেও বালু ভরাটের কাজ চলছে। আশা করি যত দ্রুত সম্ভব যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আবদুল আজিজ জানান, এলজিইডির আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্টের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আশা করি শিগগিরই সেগুলোর কাজ শুরু করা যাবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজ কালভার্ট দ্রুত মেরামত করে দুর্গত এলাকার মানুষের ভোগান্তি লাঘবে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা এখানকার মানুষের।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.