রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ

সংবাদ সম্মেলনে অ্যামনেস্টি-এইচআরডব্লিউর অভিযোগ
বিবিসি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের মানবিক সঙ্কট উপো করায় জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে অভিযুক্ত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। একইসাথে মিয়ানমারের মতাসীন দলের নেতা অং সান সু চির কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করেছেন এই দুই সংস্থার নেতারা।
জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করে বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসঙ্ঘের শক্তিশালী একটি সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও রাখাইনে তাদের কার্যকর কোনো ভূমিকা না থাকায় সহিংসতার অবসান ঘটাতে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া অবিলম্বে চলমান সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দু’টি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে বসার প্রাক্কালে সংস্থা দু’টি এ মন্তব্য করল। সুইডেন ও ব্রিটেনের অনুরোধেই এ বৈঠক হয় বলে নিরাপত্তা পরিষদ জানায়।
জাতিসঙ্ঘের হিসাব অনুযায়ী ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর থেকে এখনো পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তবে কক্সবাজারের স্থানীয়রা বলছেন, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাথে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট মিয়ানমারের মতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট। ৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট রাতে ৩০টি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘উগ্রপন্থী’দের দায়ী করে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে গণহত্যা শুরু করে। সেনাবাহিনীর ওই হামলায় এখনো পর্যন্ত প্রায় ৫ শ’ মানুষ মারা গেছে, আর প্রাণভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বাংলাদেশে। নৌপথে পালিয়ে আসার পথে নৌকাডুবিতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করেছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য ৩০ লাখ ইউরো দেবে ইইউ
মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে নতুন করে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পর তাদের জন্য ৩০ লাখ ইউরো বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউয়ের মানবিক সহায়তা ও সঙ্কট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার ক্রিসতোস্ত স্তিলিয়ানিদেস এই ঘোষণা দেন। এর আগে কমিশনার গত মে মাসে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের জন্য এক কোটি ২০ লাখ ইউরো মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান ইইউর মানবিক সহায়তা ও সঙ্কট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার ক্রিসতোস্ত স্তিলিয়ানিদেস। সেই সাথে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম দেয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে ইইউ। নতুন করে বরাদ্দ করা বাড়তি অর্থ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের সঙ্কটকালীন প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে বলে জানান স্তিলিয়ানিদেস। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জরুরিভিত্তিতে এই মানবিক সহায়তা দিচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.