ঈশ্বরমানবের লীলাখেলা অনাচার নয়!

অন্য দৃষ্টি
জসিম উদ্দিন

ধনের জন্য গণেশের পূজা করা হয়। গণেশের কাছে ধন চেয়ে যারা পাননি তারা সহজে গণপতির ওপর বিশ্বাস হারান না। আবার গণেশ-পূজারিদের কারো জীবনে অর্থকড়ির আগমন হলে এই দেবতার প্রতি তার বিশ্বাস বেড়ে যায়। গণেশ বা গণপতি হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে হাতির আকার ধারণকারী মানুষ। এই নিয়ে রয়েছে অসংখ্য গল্প ও কাহিনী। এর মধ্যে একটি গল্প এমন : এই হাতিরূপী দেবতা মানুষটি এসেছিল ময়ূরে চড়ে। এর পূজারিরাও বিষয়টি বিশ্বাস করেন। তারা কখনো এটি ভাবতে চান না একটি হাতির আকার কত বড়। এর বিপরীতে ময়ূরের আকার-আয়তন ও ওজন কত, তা-ও তারা ভেবে দেখতে চান না। গণেশের পূজারিদের মধ্যে নিরক্ষর রয়েছেন। একইভাবে রয়েছে একেবারে পিএইচডি-হোল্ডারও। বলিউডের অতি আধুনিক অভিনেতা শাহরুক খান গণেশের ভক্ত। মুম্বের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আরো অনেক স্টার রয়েছেন এই পূজারিদের মধ্যে। আর সাধারণ মানুষের মধ্যে এর ভক্ত-অনুরক্তের সংখ্যা অগণিত।
মানুষ একটি বিশ্বাস স্বভাবত পোষণ করতে চায়। এটি তার আধ্যাত্মিক শূন্যতাকে পূরণ করে। পৃথিবীতে অবিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা খুবই সামান্য। অনেকে আছেন স্বঘোষিত নাস্তিক। সৃষ্টিকর্তায় তাদের বিশ্বাস নেই এমনটিই তারা বলতে চান। কিন্তু চরম কোনো পরিস্থিতি উপস্থিত হলে তখন নিজেদের আর ধরে রাখতে পারেন না। ‘সৃষ্টিকর্তা’ নেই বলে ঘোষণা দিয়ে যে অহঙ্কার প্রদর্শন করেন, তৎক্ষণাৎ সে অবস্থান থেকে সরে এসে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী কেউ একজনকে তখন ডাকতে থাকেন। সাগরে জাহাজ যখন ডুবতে থাকে কিংবা আকাশে উড়োজাহাজ দুর্যোগে পড়ার মতো চরম বিপদে পড়লে ভেতরের এমন অবস্থা তখন প্রকাশ হয়ে পড়ে। এই বিশ্বাস জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে না উঠলে তা কতটা সর্বনাশা হতে পারে ঈশ্বরমানবের উৎপাতে নতুন করে তা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক এম রাজিবলোচন ভারতে গড়ে ওঠা আশ্রম নিয়ে কাজ করেন। তিনি তার ছাত্রদের নিয়ে জরিপ চালিয়ে দেখেছেন, দেশটিতে তিন হাজারের বেশি ডেরা রয়েছে। বাবা গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে আদালত একটি ধর্ষণ মামলায় ২০ বছর জেল দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে হরিয়ানায় তার ভক্তদের সৃষ্ট দাঙ্গায় ৩৬ জন প্রাণ হারান। অধ্যাপক রাজিবলোচন মন্তব্য করেছেন, আশ্রমগুলো ভারত রাষ্ট্রের সমান্তরাল। এক নিবন্ধে তিনি স্পষ্ট করে তুলে ধরেন, কিভাবে এগুলোতে ঈশ্বরমানব নামের দৈত্যেরা জন্ম নিচ্ছে। আশ্রম সেখানে দুটো কাজ করছে। প্রথমত, জনসাধারণের বিশ্বাসের শূন্যতা পূরণ করছে। এ ক্ষেত্রে নি¤œবর্ণের মানুষেরা সেখানে বেশি ভিড় করছেন। সমাজে লাঞ্ছনা অবমাননা সম্মানহানির মধ্যে একটি ডেরার আশ্রয়ে তারা স্বস্তি পান। উপরন্তু রাষ্ট্র যেসব সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেগুলোও তারা সেখানে পাচ্ছেন। সামাজিক সহায়তা, চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য সরবরাহ করা হয় এগুলোতে। রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সব মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। বিষয়টি এমন যে, সরকার সাধারণ নাগরিকদের এই সেবা দিতে অনাগ্রহী। বিশ্বাসের পাশাপাশি বাড়তি প্রাপ্তি হচ্ছে আশ্রমের অনুগতদের একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীতে পরিণত করে। এরা তাই আশ্রমের সাধু বাবাকে নিজের অজান্তেই নিজেদের একমাত্র ভরসারস্থল বানায়। তারা মনে করে, বাবার প্রভাব-প্রতিপত্তি খর্ব হলে তাদের স্বার্থে সেটা আঘাত হানবে। এ ক্ষেত্রে রাম রহিমদের অপরাধের দিকটি তারা দেখতে নারাজ।
আশ্রমগুলো এই সুযোগে নিজেদের জন্য ‘বাবা’ তৈরি করে নেয়। আর বাবারা নিজেদের ‘সর্বশক্তিমান’ বানিয়ে নেয়। রাম রহিমের গল্পটি এমনই। রাম রহিমের মতো আরো অনেক বাবা বিপুল শক্তি নিয়ে জ্ঞানহীন সমাজে প্রবল আধিপত্য বিস্তার করে আছেন। সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার রাম রহিমকে খালিস্তান আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ভিনদ্রানওয়ালার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি এতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন কেউ তার বিরুদ্ধাচরণ করার সাহস পেত না। ১৯৭৭ সালে পাঞ্জাবে আকালি-জনতা পার্টি সরকার ক্ষমতায় আসে। আকালির প্রভাব বাড়ার সাথে সাথে রাজ্যে কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়ে। সঞ্জয়গান্ধী আকালিদের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর জন্য ভিনদ্রানওয়ালার শক্তিকে লুফে নেয়। এই সুযোগে তিনি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠলেন যে, তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে নামাতে হয়। অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে তখন ট্যাংক নিয়ে অভিযান চালাতে হয়। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে যাকে আনুকূল্য দেয়া হলো তাকে নামাতে রীতিমতো যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়েছিল তৎকালীন কংগ্রেস সরকারকে।
রাম রহিমের ঘটনাটি একই ধরনের রাজনৈতিক। বাবা ২০১৪ সালের লোকসভা ও হরিয়ানার রাজ্যসভার নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন দেয়। কৃতজ্ঞতা জানাতে হরিয়ানা রাজ্যের নবনির্বাচিত পুরো মন্ত্রিসভা তার ডেরা পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা জানায়। অন্য দিকে কংগ্রেস একই বাবাকে খুব সমাদর করে আসছিল আরো আগে থেকে। ২০০৭ সালে তার জন্য ভারতীয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা ‘জেড প্লাস’ দেয়। বিনিময় হিসেবে বাবা আগেই কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়েছিল। ফলে রাষ্ট্র নিজে একপর্যায়ে বাবার চরম অনুগত সেবকে পরিণত হয়। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এমন ধরাশায়ী আচরণ রাষ্ট্রের ভেতর তাকে আরেকটি স্বৈরাচারে পরিণত করে। রাষ্ট্রীয় কোনো আইনকানুন তার জন্য প্রযোজ্য ছিল না। তার তৈরি সেনাদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস হারিয়ে ফেলে রাজ্যপুলিশ।
আনুগত্য প্রদর্শনের পেছনে বিপুল কেরামতিও তিনি দেখিয়েছেন। ১৯৯০ সালে তিনি যখন ডেরার প্রধান নির্বাচিত হন তখন তার পুরো নামটি দাঁড়ায় বাবা গুরমিত রাম রহিম সিং। নামের মধ্যে তিনি হিন্দু, মুসলিম ও শিকদের একত্র করেন। তৈরি এই ককটেলটি এতটাই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, রাম রহিমের পাঁচ কোটি সমর্থক দাঁড়িয়ে যায়। তিনি প্রধান তিনটি ধর্মগোষ্ঠীকে নামের কেরামতি দিয়ে কাছে টানেন। ওই সময় তিনি এই ঘোষণাও দেন যে, তিনি যাবতীয় কাম-ক্রোধের ঊর্ধ্বে। ওই ঘোষণার পর ডেরার সেবায়েতদেরও খোজা করে নেন। বাস্তবতা হলো, এই বিচারের রায়ে প্রমাণ হলো তিনি মূলত কাম ও ক্রোধের একজন বিশিষ্ট চর্চাকারী। জেলে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়া গেল। চিকিৎসকদলে মনোবিদেরাও ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলে তিনি যৌনতার জন্য অস্থিরতায় ভুগছেন। লালসা মেটানোর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তার মধ্যে এই অস্থিরতা কাজ করছে। হানিপ্রীত নামে তার পালিত কন্যার সাহচর্য চেয়েছিলেন তিনি জেলে। আদালতের পক্ষ থেকে তার আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। এই নারীকে তিনি ঘনিষ্ঠ সহচর বানিয়েছেন। খবরে প্রকাশ হয়েছে, ব্যাপারটিকে তিনি সন্দেহের ঊর্র্ধ্বে রাখার জন্য তাকে ‘পালিত কন্যার’ পরিচয় দিয়েছেন। এই পালিত কন্যা এখন ডেরার কয়েকজন তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিসহ আত্মগোপন করেছে।
বাবাদের একটা বিরাট সুযোগ, অন্ধ বিশ্বাসীরা তাদের এতটাই বিশ্বাস করে, অবলীলায় নিজেদের কন্যা ও স্ত্রীদের তাদের সেবায় দান করেন। এই নারীরা যখন বাবাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনছেন; পরিবারের কর্তারা সেটাকে আমলে নেন না। সম্প্রতি এই ধরনের আরেকটি ঘটনায় এক কন্যা অন্য এক বাবার যৌনাঙ্গ কর্তন করেছে। মেয়েটি ছয় বছর ধরে বাবার নির্যাতনের শিকার। পরিবারে বিষয়টি জানালেও কেউ তা বিশ্বাস করেনি। অবশেষে তাকে ওই ঘটনাটি ঘটিয়ে তা প্রমাণ করতে হলো। এরা এতটাই শক্তিশালী, অভিযোগ আনার সব পথ বন্ধ করার ক্ষমতা রাখেন। রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে গিয়ে এক সেবায়েত হত্যা হয়েছেন। আর এর খবর ফাঁস করে দিয়ে স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকও খুন হন। এসব ঘটনা আড়াল করে দেয়া হয়তো কোনো ব্যাপার ছিল না। ধর্ষণের শিকার মহিলার সাহসিকতার পাশাপাশি সরকার তাদের সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর নীতির কারণে বাবা আপাতত পরাস্ত হলেন। রাম রহিমের বিরুদ্ধে আনা এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারও এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কুসংস্কার কতটা অন্ধকারের সৃষ্টি করেছে রাম রহিমের কাহিনীটি সেটা জানান দিচ্ছে। অন্যান্য ঈশ্বরমানবদের তুলনায় তিনি বহুধাপ এগিয়ে গিয়েছিলেন। কারণ, তিনি নিজে একজন নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কয়েকটি ছবি তিনি বানিয়েছেন। ওইসব ছবিতে অতিমানবীয় চরিত্রের ভূমিকায় তাকে দেখা যায়। সব অশুভ শক্তি তার কাছে পদানত হয়। এর সবই তার ভক্তরা বিশ্বাস করত। নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পেছনে তার যুক্তি হচ্ছে, ‘যুবসমাজ যদি ধর্মীয় আলোচনা সভাগুলোতে আসতে না চায়, তারা সে সময় লুকিয়ে হয়তো সিনেমা দেখতে চলে যায়। তাই আমি সিনেমা হলেই তাদের কাছে পৌঁছে গেছি।’ চমৎকার যুক্তি তার। একটি ছবির নামই ছিল ম্যাসেঞ্জার অব গড। সৃষ্টিকর্তার বার্তাবাহক বলে নিজেকে পরিচয় করিয়েছেন ওই ছবিতে। সব জারিজুরি ভুয়া প্রমাণিত হলো আদালতের সামনে তিনি যখন কান্নায় ভেঙে পড়লেন। ভক্তদের কাছে তার অতিমানবীয় চরিত্রের এমন শূন্য পতন আরো আগে আবিষ্কৃত হলে বিরাট দাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। তাকে রক্ষায় নিজের জীবনপাত দিতে তাদের অনেকে রাজি হতো না।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা মানুষের অধিকার লুণ্ঠিত করছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় ২০০২ সালে। দীর্ঘ ১৫ বছরে ২০০ সিটিংয়ের পর আদালত তার বিরুদ্ধে রায় দেন। এর দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ সে নিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ, বিচারক এমন কি বিচারপ্রার্থীদের মামলা প্রত্যাহার করার জন্য হেন কোনো চেষ্টা নেই যা বাবা করেনি। সর্বশেষ চেষ্টা ছিল দাঙ্গা সৃষ্টি করে আদালতকে প্রভাবিত করা। আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়ে যেমন করুণা পাননি, একইভাবে অন্ধ ভক্তদের রক্তপাতও বৃথা গেছে। বাবাদের প্রকৃতপক্ষে কোনো ধরনের কেরামতি যে নেই সেটা কি দেখল ভক্তরা? গুরমিত নিজে চোখ খুলে দেয়ার মতো একটি উদাহরণ; কিন্তু কোটি কোটি ভক্ত নিলো কি সেখান থেকে কোনো শিক্ষা?
রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক চরিত্র ধারণ
ময়ূরের পিঠে চড়ে কোথা থেকে গণপতি এলো সেটা যাচাই করতে গিয়েছিল ভারতের জিটিভির সাংবাদিকেরা। সবশেষে তারা পেল একটি সাজানো গোছানো মন্দির। তার রক্ষক একজন বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ শেষ করা উচ্চশিক্ষিত তরুণ। তিনি মূল ব্যাপারে কিছুই বলতে পারলেন না। এতটুকু বললেন, উত্তরাধিকার সূত্রে মন্দিরটি তিনি পেয়েছেন। যারা এসব বিশ্বাস করে সেটা তাদের ব্যাপার। জিটিভি বিজেপি সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দলটি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে তারা কথিত আশ্রম ডেরা ও বাবাদের জারিজুরি ফাঁস করার জন্য সক্রিয় ভূমিকা নেয়। যাতে করে সরকার সমাজের কুসংস্কার ও অন্ধকার দূর করতে ভূমিকা নিতে পারে। অন্য দিকে সাম্প্রদায়িকতার যে কালিমা দলটির বিরুদ্ধে রয়েছে, সেটা দূর হয়ে নিজেদের ভাবমর্যাদা উন্নীত করতে পারে।
নতুন সরকারের সময় ভারতের বাস্তবতা হচ্ছে, গোরক্ষকদের উত্থান। তারা পশুদের রক্ষা করার নামে মানুষ হত্যা করছে। অন্য দিকে যারা এই ধরনের ফ্যাসিস্ট কর্মকাণ্ডের সমালোচক তাদের মধ্যে বেছে বেছে অনেকে ইতোমধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ব্যাপারে ভারতে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ হলেও গোরক্ষকদের বিরুদ্ধে যেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না, একইভাবে লিবারেল কবি, লেখক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক হত্যাও বন্ধ হচ্ছে না। বিভিন্ন অঞ্চলে অনাচারকারী বাবাদের ভারতীয় মিডিয়া ‘গডস ম্যান’ বলছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি সরকার যদি ধর্মীয় বিভাজনের উসকানি বন্ধ না করে, তা হলে কোনোভাবে তাদের অসাম্প্রদায়িক ভাবমর্যাদার জন্য সহায়ক হবে না। এ ক্ষেত্রে জিটিভিসহ ভারতীয় মিডিয়ার বিজেপি সহায়ক প্রকল্প কাজে আসবে না।
বিজেপি সরকার প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা হিন্দুদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করার আইন করেছে। হিন্দু নয় এমন যারা দেশটিতে প্রবেশ করেছে তাদের তাড়িয়ে দেয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। দেশটিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময় নিলো যখন মিয়ানমার তাদের নৃশংস কায়দায় হত্যা করছে। সে দেশে ফিরে যাওয়া মানে নিশ্চিত জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়া। জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী কনভেনশনে ভারতে স্বাক্ষর করেনি এই যুক্তি দেখিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান চালাচ্ছে, বিশ্ববাসী যখন এর সমালোচনা করছে, ঠিক সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটি সফর করে সরকারপ্রধান সু চির প্রশংসা করছেন। বাংলাদেশকে তারা সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে মুখে স্বীকৃতি দিলেও দেশটিতে নতুন করে ঢুকা সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর ব্যাপারে তাদের কোনো সমবেদনা নেই। বালিতে বহুপক্ষীয় সম্মেলনের ঘোষণায় রোহিঙ্গা নিধনের নিন্দা থাকায় দেশটি তাদের স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকে। এ ধরনের মনোভাব ধর্মের ভিত্তিতে বিবেচনার ফল বলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। একটি দেশ নিজে থেকে সাম্প্রদায়িক চরিত্র ধারণ করলে যা হয়। হ
jjshim146@yahoo.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.