বিশ্ববাসীর প্রতি এক রোহিঙ্গার আকুতি

দেশে ফিরতে চান গুলিবিদ্ধ রহিমুল

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা রহিমুল মুস্তফা। সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত রহিমুলকে নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে তার পরিবার। আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ের নতুন শরণার্থীশিবিরে। সেখানেই আলজাজিরার প্রতিনিধি কেটি আর্নল্ডের কাছে তুলে ধরেছেন সহিংসতা আর দুর্গম যাত্রার কথা। জানিয়েছেন বাড়ি ফিরে যাওয়ার আকুতিÑ

‘আমি রহিমুল মুস্তফা, বয়স ২২ বছর। এখানে আসার আগে আমি স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিলাম। সত্যিই আমি ধর্মীয় শিক্ষাকে খুব উপভোগ করতাম। মাঝে মধ্যে নিজ উদ্যোগেই ছোটদের পড়াতাম। আমাদের এলাকার বেশির ভাগ লোকই অশিক্ষিত। আমার জীবনের লক্ষ্য ছিল শিক্ষক হওয়া। সব মিলে সেনাবাহিনী আসার আগের দিন পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের ফইরা গ্রামে খুব সুখেই ছিলাম আমি।
একদিন রাত ৩টার দিকে হঠাৎ সেনাবাহিনী আমাদের গ্রামে এসে গুলিবর্ষণ ও ঘর-বাড়িতে আগুন দিতে শুরু করে। আমরা ঘর থেকে বের হতেও পারছিলাম না, দেখলেই ওরা গুলি করবে। সবাই ঘরের মধ্যেই অবস্থান করলাম। একপর্যায়ে ওরা আমাদের ঘরের কাছে চলে আসে এবং জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর গুলি করতে শুরু করে। আমার হাঁটুতে একটি গুলি লাগে। সে রাতে আমাদের গ্রামের অনেক লোক নিহত হয়েছে। আমি নিজেই তিনজনকে নিহত হতে দেখেছি।
আমার বাবা ও ভাই আমাকে চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়; কিন্তু হাসপাতালের ডাক্তাররা আমার চিকিৎসা করেনি। এরপর নিকটজনেরা আমাকে নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে চলতে শুরু করে। সেনাবাহিনীর চোখে পড়ার ভয়ে দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে তারা আমাকে নিয়ে এসেছে। এটি ছিল দীর্ঘ ও কষ্টকর একটি যাত্রা। হাঁটুর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ শুরু হয়ে যায় পথিমধ্যেই। একমাত্র আমাকে ছাড়া বাড়ির আর কিছুই আনতে পারেনি আমার পরিবার। সব কিছুই ফেলে আসতে হয়েছে। স্বস্তির খবর, আমরা নিরাপদে বাংলাদেশে আসতে পেরেছি। এখানে এসে ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার (এমএসএফ) স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে চিকিৎসা পেয়েছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আশ্রয় বা ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা পাইনি।
দেশে শান্তি ফিরে এলে সেটিই হতে পারে আমাদের একমাত্র নিরাপদ ভবিষ্যৎ। আমাদের চোখের সামনে যা ঘটছে তা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই, আমরা শান্তি চাই। আমি মনে করি, বিশ্ব এই সঙ্কট দেখছে ও তারা আমাদের সহযোগিতার চেষ্টা করছে।’
ভাষান্তর আহমেদ বায়েজীদ

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.