কোচ হাতুরাসিংহের টিপস নিচ্ছেন ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস   :ফাইল ছবি
কোচ হাতুরাসিংহের টিপস নিচ্ছেন ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস :ফাইল ছবি

ব্যর্থতা ঝেড়ে ভালো খেলার প্রত্যয়ে ইমরুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর কঠিন হলেও এর মধ্যে ভালো কিছুও দেখছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যারা অ্যাটাকিং ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত, তাদের জন্য যেন কিছুটা আশার আলো! নিজের কন্ডিশনে স্পিন ট্র্যাকে বল ঠিকমতো আসে না। কখনো দেরিতে বা বল টার্ন হয়ে আসে। এটা সবার জন্য সহজসাধ্য নয়। জাতীয় দলের খুব কম ব্যাটসম্যানই এমন কন্ডিশনে অনভ্যস্ত। মুশফিক, তামিমরা বারবার বলছেন। কিন্তু শক্তিশালী কোনো দেশ এলেই উইকেটে বিছানো হয় স্পিনের জাল, যাতে প্রতিপক্ষরা বিপাকে পড়বেন। এতে কখনো সফল হওয়া যায়, কখনো নয়। যেমন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস। প্রচণ্ড রকম ব্যর্থ হয়ে অলআউট ১৫৭ রানে। এ স্কোর অস্ট্রেলিয়ার বেলায় শোভা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ ওই স্কোর করেই শেষ। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ ওই উইকেটেই সফল ডেভিড ওয়ার্নার। ঢাকা ও চট্টগ্রাম দুই ম্যাচেই রয়েছে তার একটি করে সেঞ্চুরি। বাংলাদেশ দল আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রওয়ানা হয়ে যাওয়ার কথা দক্ষিণ আফ্রিকায়। উপমহাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য কঠিন ওই কন্ডিশনে মূলত থাকে ফাস্ট বোলারদের দাপট। তবু ওই প্রোটিয়া ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে ভালো খেলার দৃঢ়প্রত্যয় টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসের।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোমে দুই ইনিংসে ২১ (৪,১৫-০,২) রান করা এ ব্যাটসম্যান যথারীতি বহাল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দুই ম্যাচের স্কোয়াডে। নির্বাচকেরা তার ওপর আস্থা রেখেছেন শুধুই অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে। এতটা ব্যর্থতার পরও দলে টিকে যাওয়া এ ব্যাটসম্যান আসন্ন সফরে ভালো পারফরম্যান্স করার দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, যার মূলে ফাস্ট বোলারদের সহায়ক উইকেট। যেখানে বল উইকেটে পড়ে দ্রুত ব্যাটে আসে। এটাই ইমরুলের জন্য আশাব্যঞ্জক। এমন উইকেটে দেখে খেললে রান তোলা সম্ভব। ৩০ টেস্ট ম্যাচ খেলে তিনটি সেঞ্চুরি ও ৪ হাফ সেঞ্চুরি সঙ্গে ১৪৮৭ রান করা ইমরুল কাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার জন্য এ সফর অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। যেহেতু শেষ সিরিজ ভালো যায়নি। তবে এটাও ঠিক, শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা সফরই নয়, প্রতিটি সিরিজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। আমি চেষ্টা করব কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে খেলতে।’ ইমরুল কায়েস সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকায়। ৭৮ রান করেছিলেন তিনি। এরপর নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় একটি করে ম্যাচে খেলার সুযোগ পেলেও তাতে রান করতে পারেননি। সর্বশেষ, হোমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স। এত কিছুর পরও দলে টিকে যাওয়া আসলেই ভাগ্যের সহায়তাও রয়েছে।
ইমরুল বলেন, ‘শেষ দুই টেস্ট ম্যাচ আমার জন্য খারাপ হয়েছে। এর আগে নিউজিল্যান্ডে ভুগতে হয়েছে ইনজুরিতে। সেটির কারণে শ্রীলঙ্কায়ও সেভাবে পারফর্ম করতে পারিনি। সব মিলিয়ে আমি আসলেই নিজেকে দায়ী করব। ইনজুরি না হলে ভালো কিছু করতে পারতাম হয়তো।’ নিজের টানা দলে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যে পারফরম্যান্স করছি এভাবে দলে থাকা কঠিন। এটা একটা চাপও, যা পরের সিরিজের ওপর পড়বে স্বাভাবিকভাবেই। আমার চেষ্টা প্রতিটা সিরিজে রান করার। তবে আসন্ন সিরিজে ভালো করার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে।’ তবে কোচের কথায় বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন এ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। ইমরুল বলেন, ‘কোচ আমাকে বলেছেন তুমি এর আগে সব ফরম্যাটেই ভালো খেলেছ। চার ইনিংসে রান পাওনি এ জন্য তুমি পিছিয়ে যেতে পারো না। তুমি এগিয়ে যাও।’ ইমরুলের আত্মবিশ্বাস এখন ওখানেই।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.